ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় বাজেট আছে কাজ নেই!

0
170
আদিল সরকার, ইবি: শিক্ষার্থীরা শতভাগ ভ্যাক্সিনের আওতায় আসলে ২৭ সেপ্টেম্বরের পর বিশ্ববিদ্যালয় সমূহ খুলে দেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছে ইউজিসি। যার সাথে সুর মিলিয়েছে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষও। অন্তত এক ডোজ করে হলেও শির্ক্ষাথীদের ভ্যাক্সিনের আওতায় আসতে হবে বলে জানিয়েছেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ আবদুস সালাম।
এদিকে ক্যাম্পাস খুললেই বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলসমূহে আসতে হবে শিক্ষার্থীদের। তবে দীর্ঘদিন ক্যাম্পাস বন্ধ থাকায় হলগুলোর বেহাল দশা। হলে পানির ট্যাঙ্ক- পাইপ-ট্যাপ নষ্ট, ফ্যান-লাইট অচলসহ অপষ্কিার অবস্থায় রয়েছে বলে জানা গেছে। এদিকে বিশ্ববিদ্যালয় খোলার পূর্বে হলসমূহ প্রস্তুতের নির্দেশনা দিয়ে কয়েক কোটি টাকার বাজেট দিয়েছে ইউজিসি।
কিন্তু বাজেট দেয়ার তিনমাসেরও বেশি সময় পার হলেও সে টাকা এখনও কাজে লাগাতে পারেনি বিশ্ব-বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। ফলে পরিস্কার- পরিচ্ছন্নতাই সীমাবদ্ধ রয়েছে হলসমূহের মেরামতের কাজ। কাজের নির্দেশনায় দীর্ঘসূত্রিতার ফলেই এখনও কাজ শুরু করতে পারে নি বলে জানিয়ে-ছেন সংশ্লিষ্টরা। জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের জন্য ৮ টি আবাসিক হল রয়েছে।
করোনায় দীর্ঘদিন ধরে হলসমূহ বন্ধ থাকায় হলের রং-আস্তরণ উঠে যাওয়া, পানির ট্যাঙ্ক-পাইপ-ট্যাপ,লাইট, ফ্যান নষ্ট হয়ে আছে। সাথে রুমসমূহে ধুলাবালি ও ময়লার আস্তরণ জমা হয়েছে। হলসমূহ খুলে দেয়ার পূর্বেই এ্ধসঢ়;সব পরিষ্কার ও সংস্কার না করলে চরম স্বাস্থ্য ঝুকিতে পড়ার শঙ্কা করছেন শিক্ষার্থীরা। এছাড়া দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ রয়েছে বিভাগসমূহ।
ফলে ক্লাসরুম, অফিস কক্ষ, সেমিনাম রুম, ল্যাবসহ বিভিন্ন জায়গা বৈদ্যুতিক বিচ্ছিন্নতাসহ অ-পরিচ্ছন্ন অবস্থায় পড়ে রয়েছে। ক্লাস শুরুর পূর্বে রুমগুলো পরিষ্কার ও বিকল জিনিসপত্র ঠিক না করা হলে বিভাগে এসেও শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন সমস্যার সাথে স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়তে হবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।
রাকিব হাসান নামের এক শিক্ষার্থী জানান, ‘দীর্ঘদিন ধরে ক্লাসমূহ বন্ধ থাকায় চেয়ার-টেবিলে বিভিন্ন ক্ষতি-কারক ছত্রাক জন্মিয়েছে। এসব জিনিসপত্র শুধু মুছে দিলেই জীবাণুমুক্ত হবে না। জীবাণুনাশকস্প্রে করাসহ রুমগুলো পানি দিয়ে ধুয়ে পরিষ্কার না করলে স্বাস্থ্যঝুঁকি থেকেই যাবে।’
সাদ্দাম হোসেন হলের আবাসিক শিক্ষার্থী ফারাবি আবেদিন জানান, ‘একটা বড় সময় ধরে হল সমূহ বন্ধ থাকায় এর ভিতরে বিষাক্ত সাপের বংশবিস্তার হতে পারে। সেই সাথে হলের পানির ট্যাঙ্কগুলোতে ময়লা জমতে পারে। এসব পরিষ্কারে কর্তৃপক্ষ গুরুত্ব না দিলে হলে এসে আমাদের চরম ভোগান্তিতে পড়তে হবে।’
এদিকে হল ও বিভাগসমূহ প্রস্তুত করতে এ বছরের জুন মাসে বাজেট দিয়েছে ইউজিসি। এতে আবাসিক হলসমূহের মেরামতের জন্য ১ কোটি ৩৫ লাখ টাকা, বিভাগসমূহে ৫৯ লক্ষ টাকা ও একাডেমিক ভবন, প্রশাসন ভবনসহ অন্যান্য খাতে ২১ লক্ষ টাকা বাাজেট দেয়া হয়।
বাজেটের প্রায় তিন মাসেরও বেশি সময় পার হলেও এখন টেন্ডারের কাজ শেষ করতে পারেনি বিশ্ববিদ্যালয় কর্র্তৃপক্ষ। ফলে টাকার অভাবে হল মেরামতের কাজ করতে পারছেন না বলে অভিযোগ হল কর্তৃপক্ষের।
এবিষয়ে খালেদা জিয়া হলের প্রভোস্ট অধ্যপক ড. রেবা ম-ল বলেন, ‘হলের মেরামতের কাজে কয়েকবার প্রশাসনের সাথে কথা বলেছি। এখনও কোন টাকা পাইনি। টেন্ডারের কাজ শেষ হয়ে টাকা পেতে আরও অনেক সময় লাগবে। তাই হলের নিজস্ব অর্থায়নেই অল্প করে হলেও কাজ করা শুরু করেছি।’
অর্থনীতি বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. দেবাশীশ শর্মা বলেন, ‘বিভাগসমূহ প্রস্তুতের জন্য অর্থায়ন করেছে কতৃপক্ষ। সে আলোকে বিভাগের শ্রেণীকক্ষ, অফিসমূহ রঙ করাসহ বাথরুম গুলো মেরামতের কাজ চলছে। টাকার পরিমাণ বেশি হলে আরও বেশি কাজ করা যেত।’
টেন্ডারের বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান প্রকৌশলী মুন্সী সহীদ উদ্দীন মো. তারেক বলেন, ‘গত ১৪ সেপ্টেম্বর টেন্ডার আহ্বান করেছি। ২৭ তারিখ টেন্ডার ওপেন করা হবে। কাজের নির্দেশনায় পরিব-র্তন আসায় টেন্ডারের কাজ শেষ করতে দেরি হয়েছে। আশা করছি ওপেনের পর তাড়াতাড়ি কাজ শুরু হবে।”
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. আলমগীর হোসেন ভূঁইয়া সময়ের আলোকে বলেন, ‘টেন্ডা-রের কাজ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। সেই সাথে কর্তৃূপক্ষ তাদের হলসমূহ প্রস্তুত করতে কাজ করে যাচ্ছে।’

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here