টিউবওয়েলে চেতনানাশক ঔষুধ খাইয়ে নগদ টাকার সাথে স্বর্ণ অলংকার লুট

0
168

মোঃ শামীম হোসাইন নু মানী, নিজস্ব প্রতিনিধিঃ

পানি কিংবা খাবার খেয়ে বাড়ির সবাই হচ্ছেন অচেতন। গভীর ঘুমে কাটছে রাত। তখন সেই বাড়িতে চলছে লুট। দুষ্কৃতকারীরা নিয়ে যাচ্ছে অর্থ, স্বর্ণালংকারসহ মূল্যবান সব জিনিস।হরগজের বিভিন্ন এলাকায় এমন ঘটনা ঘটেছে। ভুক্তভোগীদের কেউ কেউ মনে করছেন, বাড়ির টিউবওয়েল, ট্যাংকির পানিতে অথবা খাবারে চেতনানাশক মেশানোর কারণেই এমন অচেতন হতে হচ্ছে। জেলার সাটুরিয়া উপজেলার হরগজ ইউনিয়নের হরগজ গ্রামে গত এক মাসে অন্তত ৩-৪ টি বাড়িতে এমন ঘটনার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ পরিস্থিতিতে আতঙ্কে আছেন এলাকার অনেকে। তবে পুলিশ ও জনপ্রতিনিধিরা বলছেন, পরিচিত কেউ অবশ্যই এর সঙ্গে যুক্ত, না হলে এমন ঘটনা ঘটা অসম্ভব।

সম্প্রতি হরগজ গ্রামে কয়েকজন ভুক্তভোগীর সঙ্গে এই প্রতিবেদকের কথা হয়। তারা জানান, সেদিন আছরের নামাজ এর অজু করার পর পানি পান করি তার পর কৃষি জমি পরিদর্শন করেতে গিয়ে ঐ খানেই পরে থাকি এরপর রাত্রি থেকেই একে একে সবাই ঘুমে কাতর হয়ে শুয়ে পড়েন। গভীর রাতে ঘুম ভাঙলে দেখেন ঘরের সব টাকা, স্বর্ণালংকার ও দামি জিনিস লুট হয়েছে।

এলাকার অনেকের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এ ধরনের ঘটনা ঘটতে থাকায় এলাকার লোকজন আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন। নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় কয়েকজন জানান, এ ধরনের ঘটনায় এলাকার বখাটে ও মাদকাসক্ত যুবক সম্পৃক্ত। তারা কিছুই করে না, অথচ চলাফেরা কোটিপতির মতো। তবে ভয়ে তাদের নাম কেউ মুখে নেয় না।

ঘটনাস্থলে পুলিশ গিয়ে তদন্ত করেছে। ভুক্তভোগী পরিবারের সঙ্গে কথা বলেছে। এ ধরনের ঘটনা আতঙ্ক সৃষ্টি করছে। তবে এই ডাকাতি বা চুরির ঘটনার পেছনে এলাকার পরিচিত কেউ জড়িত থাকতে পারে। এ ছাড়া টিউবওয়েলের পানিতে চেতনানাশক মিশিয়ে অচেতন করার ঘটনা এর পূর্বেও একটি বাড়িতে ঘটেছিল। ওই সময় এ বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ পেয়ে ঘটনার তদন্ত করা হয়। কিন্তু জড়িত কাউকে শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।

সাটুরিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ, মোঃ মাহবুব আলম জানান, এ ধরনের চুরির ঘটনাগুলো মানুষের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করছে। এই চক্রটিকে ধরতে স্থানীয়দের সহযোগিতা দরকার। এ ছাড়া গ্রামবাসীকে আরও সচেতন হতে হবে। সম্প্রতি এই চক্রটিকে নজরদারিতে রাখা হয়েছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here