ভিসিহীন রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়

0
176

বেরোবি প্রতিনিধি: উপাচার্য হিসাবে চার বছর মেয়াদ পূর্ণ হওয়ায় শুক্রবার (৫ মে) মধ্যরাতে ক্যাম্পাস ত্যাগ করেছেন বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সদ্য সাবেক উপাচার্য ড. এ কে এম নুর-উন-নবী। তিনি ক্যাম্পাস ত্যাগ করলেও নতুন কাউকে উপাচার্য পদে নিয়োগ না দেয়ায় অভিভাবক শূন্য হয়ে পড়েছে বিশ্ববিদ্যালয়টি। অভিভাবকহীন ক্যাম্পাসে নানা ধরনের সংকট সৃষ্টি হতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, উপাচার্য ড. এ কে এম নুর-উন-নবী একাই ১৭টি পদে দায়িত্ব পালন করছিলেন। তিনি যোগদানের চার মাসের মাথায় ট্রেজারারের পদ শূন্য হলেও কাউকে সেই পদে নিয়োগ না দিয়ে নিজেই সে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। এছাড়াও তিনি পরিচালকের ছয়টি পদ (ড.ওয়াজেদ রিসার্চ ইনস্টিটিউট, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা-ই-লার্নিং সেন্টার, সাইবার সেন্টার, বহিরাঙ্গন, ছাত্র পরামর্শ ও নির্দেশনা দপ্তর, জনসংযোগ), ৩টি অনুষদের ডিন (জীব ও ভূ-বিজ্ঞান অনুষদ, সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদ, প্রকৌশল ও প্রযুক্তি অনুষদ), ৩টি বিভাগের বিভাগীয় প্রধানের (লোক প্রশাসন, রসায়ন, কম্পিউটার সায়েন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং) দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। এমনকি পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক, হিসাব পরিচালকের শূন্য পদেও কাউকে দায়িত্ব না দিয়ে নিজের কব্জায় রেখেছিলেন উপাচার্য। তিনি চলে যাওয়ায় এই ১৭টি পদও শুন্য হয়ে গেছে। এতগুলো পদ শূন্য হওয়ায় কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে বিশ্ববিদ্যালয়টির কার্যক্রম।

তবে সদ্য সাবেক উপাচার্য ড. একে এম নুর-উন-নবী কৌশলে তার মেয়াদ শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে গ্রীষ্মকালীন ছুটি দিয়ে যান। ফলে এখন পর্যন্ত এতগুলো গুরুত্বপূর্ণ পদ খালি থাকলেও এর তাৎক্ষণিক কোন প্রভাব পড়েনি। তবে আশঙ্কা করা হচ্ছে যে, ছুটি শেষে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কার্যক্রম শুরু হলে ভয়াবহ সেশনজটসহ নানামুখী সঙ্কটের কবলে পড়তে পারে বিশ্ববিদ্যালয়টি।

এ ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতির সভাপতি তুহিন ওয়াদুদ বলেন, উপাচার্য প্রফেসর ড. নুর-উন-নবীর প্রস্থানে ক্যাম্পাসে ব্যাপক শূন্যতা বিরাজ করছে। বিশ্ববিদ্যালয়টি সুষ্ঠুভাবে পরিচালনায় উপাচার্য, উপ-উপাচার্য ও ট্রেজারার পদে অনতিবিলম্বে নিয়োগ দিতে হবে। যাতে বিলম্ব না হয় সেজন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য মহামান্য রাষ্ট্রপতির হস্তক্ষেপ কামনা করেন এই শিক্ষক নেতা।

বিশ্ববিদ্যালয়শিক্ষক সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক তাবিউর রহমান প্রধান বলেন, উপাচার্য যেহেতু অনেকগুলো পদে ছিলেন তার প্রস্থানে স্বাভাবিক একটি সঙ্কট তৈরি হয়েছে। এই সঙ্কট নিরস, বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা এবং স্বাভাবিকভাবে ক্যাম্পাস পরিচালনায় সরকারকে এগিয়ে আসতে হবে। দ্রুত সময়ের মধ্যে উপাচার্য, উপ-উপাচার্য ও ট্রেজারার পদে নিয়োগ দিলে এই অভিভাবক শূন্যতা থাকবে না।