বাংলাদেশের ব্যর্থতার হার

0
96

ওয়ালটন ত্রিদেশীয় সিরিজের তৃতীয় ম্যাচে বাংলাদেশকে ৪ উইকেটে হারিয়েছে নিউজিল্যান্ড। বুধবার ডাবলিনের ক্লনট্যার্ফে টস হেরে ব্যাটিং করতে নেমে ৯ উইকেটে ২৫৭ রান সংগ্রহ করে বাংলাদেশ। জবাবে ১৫ বল ৪ উইকেট হাতে রেখে সহজেই জয় নিশ্চিত করে নিউজিল্যান্ড। ত্রিদেশীয় সিরিজে এটি নিউজিল্যান্ডের দ্বিতীয় জয়। প্রথম ম্যাচে আয়ারল্যান্ডকে ৫১ রানে হারিয়েছিল কিউইরা।

ব্যাটিং কিংবা বোলিং দুই বিভাগে লড়াই করলেও নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে জয় তুলে নিতে পারেনি বাংলাদেশ। ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশের শুরুটা ছিল দূর্দান্ত। উড়ন্ত সূচনার পরও রানের পাহাড় গড়তে পারেনি টাইগাররা। স্বল্প পুঁজি নিয়ে বোলিংয়ে লড়াই করলেও নিউজিল্যান্ডের ব্যাটসম্যানরা ছিলেন দায়িত্বশীল, অনন্য। জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ে টম লাথামরা। দুই বিভাগের ব্যর্থতায় ম্যাচ হারতে হয়েছে বাংলাদেশকে।

বাংলাদেশকে বড় সংগ্রহের ভিত গড়ে দেন তামিম ইকবাল ও সৌম্য সরকার। উদ্বোধনী জুটিতে ৭২ রান যোগ করেন দুই বাঁহাতি ব্যাটসম্যান। অসাধারণ ব্যাটিং করেন সৌম্য সরকার। ইনিংসের শুরু থেকেই দারুণ শট খেলেন উইকেটের চারিপাশে। অন্যদিকে তামিম ছিলেন রক্ষণাত্মক। বিপদজনক হয়ে উঠা জুটি ভাঙেন জিমি নিশাম। ৪২ বলে ২৩ রান করা তামিম নিশামের বলে কভার বাউন্ডারিতে ক্যাচ দেন।

তিনে নামা সাব্বির মাত্র ৪ বল উইকেটে থেকেই সাজঘরের পথ ধরেন। স্পিনার মিচেল স্ট্যান্টনারের বলে বোল্ড হন ১ রান করা সাব্বির। দ্রুত ২ উইকেট হারানো বাংলাদেশকে তৃতীয় উইকেটে টেনে তুলেন মুশফিক ও সৌম্য। ৩৮ রান যোগ করেন দুই ব্যাটসম্যান। এ সময়ে সৌম্য ক্যারিয়ারের পঞ্চম হাফ-সেঞ্চুরি তুলে নেন। দীর্ঘ ২২ মাস পর সৌম্য রঙিন জার্সিতে হাফ-সেঞ্চুরির দেখা পান। সবশেষ ২০১৫ সালের ১৫ জুলাই দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ৯০ রানের ইনিংস খেলেছিলেন সৌম্য। তবে ব্যক্তিগত ল্যান্ডমার্কে পৌঁছে তুষ্ট সৌম্য!

৬১ রানে লেগ স্পিনার শোধীর বলে সুইপ করতে গিয়ে শর্ট মিড উইকেটে ক্যাচ দেন। ৬৭ বলে ৫ বাউন্ডারিতে ইনিংসটি সাজান সৌম্য। এরপর বাংলাদেশ শিবিরে সবথেকে বড় ধাক্কা দেন শোধী। অযাচিত শট খেলতে গিয়ে নিজের উইকেট আত্মাহুতি দেন সাকিব আল হাসান। মাত্র ৬ রান আসে বিশ্বের অন্যতম সেরা অলরাউন্ডারের ব্যাট থেকে। মিড অফের উপর দিয়ে খেলতে গিয়ে ক্যাচ দেন সাকিব। ত্রিদেশীয় সিরিজের প্রথম ম্যাচেও ভালো করতে পারেননি সাকিব। আউট হন মাত্র ১৪ রানে।

১৫ রানের ব্যবধানে সৌম্য সরকার ও সাকিব আল হাসান আউট হলে চাপে পড়ে বাংলাদেশ। দলীয় ১৩২ রানে বিদায় নেন সাকিব। সেখান থেকে মাহমুদউল্লাহকে সঙ্গে নিয়ে প্রতিরোধ গড়েন মুশফিক। ৪৯ রান যোগ করেন দুই ডানহাতি ব্যাটসম্যান। এ সময়ে ক্যারিয়ারের ২৪তম হাফ-সেঞ্চুরি তুলে নেন মুশফিক। কিন্তু অভিজ্ঞ এ ব্যাটসম্যানও হতাশ করেন ক্রিকেটপ্রেমিদের। জিমি নিশামের করা ৩৮তম ওভারের প্রথম বলে উইকেটের পিছনে ‘চিরচারিত খোঁচা’ মারতে গিয়ে ক্যাচ দেন মুশফিক। লুক রনকি ক্যাচ নিতে ভুল করেননি।

ষষ্ঠ উইকেটে জুটি বাঁধেন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ ও মোসাদ্দেক হোসেন। দুই ডানহাতি ব্যাটসম্যান রানের চাকা সচল রেখে ৬১ রান যোগ করেন। মাহমুদউল্লাহও হাফ-সেঞ্চুরি তুলে বিদায় নেন ৫১ রানে। শেষ দিকে মোসাদ্দেকের ৪১ রানে আড়াইশ রান পেরোয় বাংলাদেশের।

লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ঝড়ো সূচনা পায় নিউজিল্যান্ড। ওভারপ্রতি ছয় করে রান তুলে কিউইরা। সপ্তম ওভারের শেষ বলে টম ল্যাথাম ও লুক রনকির জুটি ভাঙেন মুস্তাফিজুর রহমান। ২৭ বলে ৪ চার ও ১ ছক্কায় ২৭ রান করে আউট হন রনকি। এরপর সাব্বির রহমানের অসাধারণ থ্রোতে রান আউট হন ওয়ার্কার (১৭)। উইকেট পেলেও কিউইদের রানের চাকা সচল রাখেন অধিনায়ক ল্যাথাম। ব্যাটিং ধারাবাহিকতায় হাফ-সেঞ্চুরি পেতে সময় নেননি ল্যাথাম। দারুণ এক ডেলিভারিতে তাকে ফিরিয়ে বাংলাদেশ শিবিরে স্বস্তি ফেরান রুবেল হোসেন। ডানহাতি পেসারের গুড লেংথ বল বুঝতেই পারেননি কিউই ওপেনার। ইনসাইড-এজ হয়ে বল জমা হয় মুশফিকুর রহিমের গ্লাভসে। ৬৪ বলে ৩ চার ও এক ছক্কায় ৫৪ করেন ল্যাথাম। নিউজিল্যান্ডের স্কোর তখন ৩ উইকেটে ১১০।

এরপর জিমি নিশামের ৫২ ও নেইল ব্রুমের ৪৮ রানের ইনিংসে সহজেই জয় নিশ্চিত হয় নিউজিল্যান্ডের। কলিন মানরো ১৬ ও স্ট্যান্টনার ৫ রানে অপরাজিত থেকে জয় নিশ্চিত করে মাঠ ছাড়েন। শেষ দিকে বাংলাদেশ একাধিক উইকেট নিলেও জয় নামক সোনার হরিণ পাওয়া হয়নি টাইগারদের। বল হাতে রুবেল হোসেন ও মুস্তাফিজুর রহমান ২টি করে উইকেট নেন। মাশরাফি পান ১ উইকেট।

ম্যাচ সেরার পুরস্কার জিতেন জিমি নিশাম। তার হাতে পুরস্কার তুলে দেন ত্রিদেশীয় সিরিজের স্পন্সর ওয়ালটন গ্রুপের সিনিয়র অপারেটিভ ডিরেক্টর (ক্রিয়েটিভ এন্ড পাবলিকেশন) উদয় হাকিম।

টানা দুই জয়ে পয়েন্ট তালিকার শীর্ষে নিউজিল্যান্ড। বাংলাদেশ দুইয়ে এবং আয়ারল্যান্ড তিনে অবস্থান করছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here