সাটুরিয়ায় তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে গ্রামবাসীর উপর পুলিশের লাঠি চার্জ !

0
907

সাটুরিয়া (মানিকগঞ্জ) সংবাদদাতাঃ মানিকগঞ্জের সাটুরিয়ায় তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাতে নিরীহ গ্রামবাসীকে থানা পুলিশের ব্যাপক লাঠি চার্জের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, পুলিশের এ তান্ডব থেকে রেহায় পায়নি মসজিদের মুসল্লীরাও। এমনকি মৃত ব্যাক্তির জানাযা দিতে আসা মুসল্লীরাও। এক পর্যায়ে পুরো এলাকায় পুলিশ-গ্রামবাসী সংঘর্ষে রনক্ষেত্রে পরিনত হয়ে উঠে। এ সময় বেপরোয়া পুলিশের হামলায় আহত হয়েছে এলাকার অন্তত ১৫/১৬জন নিরীহ গ্রামবাসী। পরে স্থানীয় যুবলীগ নেতা মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

ঘটনাটি ঘটেছে গত শুক্রবার রাতে উপজেলার দিঘুলিয়া ইউনিয়নের চাচিতারা গ্রামে। এ ঘটনায় পুরো এলাকাবাসী পুলিশের বিরুদ্ধে ফুঁসে উঠেছে। ঘটনার দায়ী পুলিশ কর্মকর্তাদের বিচার দাবী করছেন তাঁরা।

এলাকাবাসীরা জানান, উপজেলার দিঘুলিয়া পরিষদে চেয়ারম্যান মতিউর রহমানের নেতৃত্বে ডিসলাইনের তার চুরির ঘটনায় বৃহস্পতিবার বিকেলে গ্রাম্য শালিস বসে। এতে দেলুয়া গ্রামের মঞ্জুর গংদের চুরির দায়ে ৭৩ হাজার টাকা জরিমানা ধার্য করে মোটর সাইকেল আটক রাখা হয়। পরদিন চোরেরা থানায় মোটরসাইকেল ছিনতাইয়ের মিথ্যে অভিযোগ করে।

এরই জের ধরে সাটুরিয়া থানার এসআই আব্বাসউদ্দিন শুক্রবার সন্ধ্যারপর মঞ্জুর গংদের অভিযোগের ভিত্তিতে দিঘুলিয়া পরিষদ এলাকায় যান। এসময় চোরের সমরথকরাও পুলিশের পিছু নিয়ে চাচিতারা বাজারে অবস্থান নিয়ে বিচারকদের গালিগালজ করতে থাকে। পুলিশের এসআই আব্বাসউদ্দিন আটক মোটর সাইকেলটি থানায় নিতে চাইলে স্থানীয় ছাত্র-সমাজ ও যুব সমাজ এবং ইউনিয়ন পরিষদের চৌকিদার-দফাদারা এ ব্যাপারে চেয়ারম্যানের সাথে কথা বলতে বলেন।

কথা চলাচলির এক পযার্য়ে রাত ৮টার দিকে পোষাকে ও সাদা-পোষাকে সাটুরিয়া থানার গাড়িভর্তি পুলিশ ঘটনা স্থলে গিয়ে এলাকাবাসীকে বেধরক লাঠিপেটা শুরু করে। এ সময় দিঘলিয়া ইউনিয়ন (চাচিতারা গ্রামে) পরিষদের মাঠে রাখা লাশের জানাযা দিতে আসা মুসল্লীরা পুলিশের পিটুনী খেয়ে দৌড়ে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়। স্থানীয় মুদি ও চা ব্যসায়ীরা পুলিশের লাঠির চার্জে দোকান ছেড়ে পালিয়ে যায়।

এরপর নিরুপায় হয়ে অসহায় এলাকাবাসী সংঘটিত হয়ে লাঠিসোটা নিয়ে পুলিশের উপর ক্ষিপ্ত হয়ে উঠলে শুরু হয় ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া। প্রায় ঘন্টাখানিক চলে এই ধাওয়া-পাল্টা দাওয়া। পরে অবস্থা বেগতিক দেখে উপজেলা যুবলীগের আহ্বায়ক স্থানীয় নেতা রেজাউল করিম ও দিঘলীয়া ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক মোহাম্মদ নজরুল ইসলামের যৌথ সহযোগিতায় মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে এলাকাবাসীকে শান্ত করা হয়। শেষে রাত ১১টার দিকে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান মতিউর রহমানসহ-এলাকাবাসী জড়ো হলে- সাটুরিয়া থানা পুলিশের পক্ষ থেকে দুঃখ প্রকাশ করলে ভুল বুঝাবুঝির অবসান হয়।

স্থানীয়দের অভিযোগ, চোরের সাথে উৎকোচ-সমোতায় পুলিশ ‘আটক মোটর সাইকেল উদ্ধার করে দেয়ার চেষ্টা চালায়। এ ব্যাপারে স্থানীয় গ্রামবাসী ‘এহেন নেক্কারজনক’ ঘটনায় দিঘলীয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জনাব মতিয়ার রহমান ও যুবলীগ নেতা রেজাউল করিমের নেতৃত্ব গত শনিবার সাটুরিয়া-মানিকগঞ্জের এমপি,মাননীয় স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী জনাব জাহিদ মালেক স্বপনের সাথে দেখা করে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। মাননীয় মন্ত্রীমহোদয় এ ব্যাপারে গ্রামবাসীকে শান্ত থাকার পরার্মশ দেন এবং ব্যাপারটি গুরুত্বের সাথেবিবেচনার করার আশ্বাস দেন।

এ ব্যপারে সাটুরিয়া থানাসূত্র জানায়, তথ্য মতে দুই (জমায়েত হওয়া চাচিতারা ও পাকুটিয়া) গ্রামের উশৃংখল জনতাকে ছত্রঙ্গ করতে পুলিশ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে মাত্র ।