সাটুরিয়ায় নারীরা পিটিয়ে মারল ৬২টি গোখরা সাপ!

0
529

নিজস্ব প্রতিবেদক, মানিকগঞ্জ ঃ সারা দেশে বিপুল পরিমানে বিষধর গোখরা সাপ মারার ধুম পড়েছে। সাপ মারার ঘটনায় কৌতুহলী মানুষ ভীড় জমালেও পাশাপাশি আতংক ছড়িযে পড়েছে চারদিকে। গত কয়েকে দিনে বিভিন্ন স্থানে এ বছর হঠাৎ সাপের উপস্থিতি এলাকার সাধারণ মানুষকে ভাবিয়ে তুলেছে।

গতকাল এক সপ্তাহের ব্যবধানে ফের ৬২টি বিষধর গোখরা সাপ মারা পড়ার খবর পাওয়া গেছে। উপজেলার দিঘুলিয়া এলাকার দেলুয়া গ্রামের মৃত মতিয়ার রহমানের বসত ঘর থেকে এ সাপগুলো মারা পড়ে। বাচ্চা সাপের সাথে মারা পড়েছে প্রায় ৫ফুট দীর্ঘ মা সাপটি। প্রতিবেশিদের সাথে নিয়ে পরিবারের মহিলারা লাঠি দিয়ে পিটিয়ে মেরে একত্র করে। এতগুলো সাপ এক সাথে মারা পড়ার ঘটনায় একনজর দেখতে স্থানীয়রা ভীড় জমিয়েছে। এতে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শি স্থানীয় মো. বোরহান কবির জানান, দেলুয়া গ্রামের মৃত মতিয়ার রহমানে কাঁচা বসত ঘরের পিঁড়ির পাশে ১ফুট লম্বা ২টি গোখরা সাপের বাচ্চা খেলা করতে দেখে শিশু আশিকুর রহমান। দৌড়ে গিয়ে চাচীকে এ ঘটনা জানালে প্রতিবেশিসহ বাড়ির সব মহিলারা দেখতে ভীড় জমান। এক পর্যায়ে সাপ দুটিকে পিটিয়ে মেরে ফেলে। এর পরপরই ঘরের ভেতর থেকে ৩/৪টি করে সাপের বাচ্চা বের হতে থাকে। এ ভাবে ২৬টি বাচ্চা মারার পর পরিবারে আতংকের সৃষ্টি হয়। পরে স্থানীয়দের পরামর্শে ঘরের আসবাপত্র বের করে পুরো ঘরের মেঝে খুঁড়ে আরো ৩৫টি সাপের বাচ্চা মেরে ফেলার পর সন্ধান পায় মা সাপটির। মেরে ফেলা বিষধর গোখরা সাপটি প্রায় ৫ফুট দীর্ঘ বলে জানান স্থানীয়রা।

প্রসঙ্গত, গত সপ্তাহে সাটুৃরিয়ায় শ্রীমুখ ধানকোড়া এলাকায় আফাজ উদ্দিনের বাড়িতে ২৭টি ও বালিয়াটি গ্রামের আবুল হোসেনের বাড়িতে ২৫ বিষধর গোখরা সাপ মারার খবর পাওয়া গেছে। এ বিষয়ে সাটুরিয়া হাসপাতালের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. ফজলুর রহমান বলেন, আতংকিত না হয়ে বসত ঘরের ভেতর ইঁদুরের গর্ত ভরাট করে সাবধানতা অবলম্বন করা উচিৎ। পাশাপাশি বসতবাড়ির আঙ্গিনা পরিস্কার রাখার পরামর্শ দেন তিনি। এছাড়া ঘরে কার্বলিক এসিড রাখার পরামর্শও দেন তিনি।