কুশিয়ারা নদীর ব্যাপক ভাঙ্গনে দিশেহারা হবিগঞ্জবাসী

0
94

শাহ মনসুর আলী নোমান, নর্থ ইস্ট ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ: হবিগঞ্জ জেলার নবীগঞ্জ উপজেলার কুশিয়ারা নদীর ভাঙ্গনে বসতবাড়ি, বনজসম্পদ, চাষাবাদযোগ্য ভূমি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, বাজার উপাসনালয় ইত্যাদি বিলীন হয়ে গেছে। তারপরও কুশিয়ারা নদীর ধ্বংসলীলা রোধ কল্পে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গৃহীত হয়নি। নদী ভাঙ্গনে সর্বস্ব হারিয়ে অনেকেই মানবেতর জীবন যাপন করছেন ।

নদী সভ্যতার প্রতীক হলেও কুশিয়ারা নদী তীরবর্তী এলাকাবাসীর জন্য ধ্বংস ও ভয়ানক অভিশাপের প্রতীকরূপে বিরাজমান। তীরবর্তী এলাকাগুলোতে শুষ্ক মৌসুমে কুশিয়ারা নদীর নাব্যতা হ্রাস , ঘরবাড়ি, বনজসম্পদ, চাষাবাদযোগ্য ভূমি ও বসতবাড়ি ভাঙ্গন সমস্যা, বন্যার তান্ডবলীলায় ফসলহানি, নদীতে চর জাগা , নৌযান চলাচল বিপর্যস্ত, মৎস্য সম্পদের অভাব, কুশিয়ারার তীর সংরক্ষণে উদাসীনতা ও স্থানীয় জীবনযাত্রার নিুমান সেই ব্রিটিশ শাসন থেকে অব্যাহত আছে।

কুশিয়ারা নদীর হিংস্র থাবায় ক্ষতিগ্রস্থ ও গৃহহীন হয়েছেন বারবার উত্তর নবীগঞ্জের দীঘলবাক, আহমদপুর, কুমারকাদা, গালিমপুর, মাধবপুর, মথুরাপুর, জগন্নাথপুর উপজেলার অটঘর, নোয়াগাঁও, রানীগঞ্জ, বানিয়াচং উপজেলার এক বিরাট জনগোষ্ঠী ।

বিভিন্ন পেশার লোকজন চাষাবাদযোগ্য জমি, বাসগৃহ, বনজসম্পদ বারবার হারানোর বেদনায় এলাকার বাতাসে দুঃখ ও হতাশার করুণ ধ্বনি শোনা যাচ্ছে। নদী ভাঙ্গনের ফলে মৌলিক অধিকারের নিশ্চয়তা চরমভাবে উপেক্ষিত হচ্ছে । ফলে দীঘলবাক ইউনিয়নে বেকারত্ব, অশিক্ষা, দারিদ্রতা আশংকাজনক ভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে ।

নবীগঞ্জের দীঘলবাক ইউনিয়নের কুশিয়ারা নদীর ধ্বংসলীলা বন্ধ কল্পে বিশিষ্ট শিক্ষানুরাগী ও দীঘলবাক উচ্চ বিদ্যালয় পরিচালনা পরিষদের চেয়ারম্যান শাহ্ আশ্রব আলী পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব বরাবরে অব্যাহত এই ভাঙ্গন রোধের জন্য পদক্ষেপ নিতে আবেদন পত্র পেশ করলে পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের উন্নয়ন শাখা ,চেয়ারম্যান বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড (ঢাকা) বরাবরে পদক্ষেপ গ্রহণের নির্দেশ দিলে তাহা আলোর মুখ দেখেনি ।

মানবাধিকার কর্মী শাহ মনসুর আলী নোমান কর্তৃক বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড এর সদস্য (পওর) বরাবরে দীঘলবাক এলাকার ভাঙ্গন প্রতিরোধের বিষয়ে আবেদনের প্রেক্ষিতে] তিনি প্রধান প্রকৌশলীকে এ বিষয়ে পদক্ষেপ নিতে নির্দেশ দেন।

দীঘলবাক এলাকায় কুশিয়ারা নদীর প্রমত্ততা রোধকল্পে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় কর্তৃক কোন পদক্ষেপ গ্রহন করলে স্থানীয় জীবন যাত্রার মান ও যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত হবে , জনগন রক্ষা পাবে বসতবাড়ি ভাঙ্গনের কবল থেকে , বেকারত্বের অবসান ঘটবে ও সরকারের রাজস্ব আয় বৃদ্ধিপাবে।