জাজিরায় কুলছুম হত্যা মামলার প্রধান আসামী বাচ্চু গ্রেফতার

0
158


শরীয়তপুর প্রতিনিধি ॥
জাজিরা থানার পদ্মা সেতু এলাকায় কুলছুল হত্যা মামলার প্রধান আসামী বাচ্চু খানকে গ্রেফতার করেছে শরীয়তপুর জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। গত ৫ অক্টোবর বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় গ্রেফতারকৃত আসামীকে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। একই সাথে আসামীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ৭ দিনের রিমান্ড আবেদন করেছেন তদন্ত কর্মকর্তা।

কোর্ট পুলিশ ও আদালতের নারী ও শিশু পিটিশন মামলা সূত্রে জানা যায়, কুলছুম হত্যা মামলার গ্রেফতারকৃত প্রধান আসামী বাচ্চু নিহত কুলছুমের স্বামী। বাচ্চু নেশা, জুয়া, নারী সহ বিভিন্ন অপরাধের সাথে জড়িয়ে পড়ে। পদ্মা সেতু এলাকায় বাচ্চুর অনেক জমি অধিগ্রহন করা হয়। সেখান থেকে বাচ্চু মোটা অংকের টাকা পায়। সে টাকা জুয়া, নেশা ও মেয়েলি বিষয়ে শেষ করে স্ত্রীর নিকট যৌতুক দাবী করত এবেং যৌতুকের দাবীতে মারধর করত। এক পর্যারে বাচ্চু তার সহযোগী হযরত খান, শাহানা বেগম, তানিয়া আক্তার, সুর্মা বেগম, হাজেরা বেগম ও ইউনুছ খাদের সহায়তায় গত বছরের ২৭ জুলাই রাতে যৌতুকের দাবীতে কুলছুমকে হত্যা করে।

এ বিষয়ে নিহত কুলছুমের ছোট ভাই জাবেদ মুন্সী জাজিরা থানায় যৌতুকের দাবীতে নির্যাতন করে হত্যার অপরাধে বাচ্চু খান সহ ভাই হযরত ও ভাবী শাহানা বেগমের নামে মামলা করে। পরবর্তীতে নিহত কুলছুমের মা বাদী হয়ে হত্যার সাথে জড়িত তানিয়া আক্তার, সুর্মা, হাজেরা ও ইউনুছ খানের নাম উল্লেখ করে শরীয়তপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে নারী ও শিশু পিটিশন মামলা দায়ের করেন। উভয় মামলা এক সাথে তদন্তের জন্য তদন্ত কর্মকর্তাকে আদালত নির্দেশ প্রদান করেন।

জাজিরা থানা পুলিশ উপ-পরিদর্শক (এসআই) নজরুল ইসলাম দীর্ঘ তদন্ত শেষে মামলার অভিযোগপত্র আদালতে দাখিল করা হয়। সেখানে প্রধান আসামী বাচ্চুকে অভিযুক্ত করে এবং অন্যান্য আসামীদের অব্যাহতি দিয়ে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। দাখিলকৃত অভিযোগপত্রে নাখোশ হয়ে বাদী পক্ষ আদালতে নারাজী দাখিল করেন। দীর্ঘ শুনানীর পর মামলাটি পুনঃতদন্তের জন্য আদালত ডিবি পুলিশকে নির্দেশ প্রদান করেন।ডিবি পুলিশের উপ-পরিদর্শক মুনজুর আহমেদ মামলার পুনঃতদন্তের ভার গ্রহন করে প্রধান আসামীকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়। গ্রেফতারকৃত আসামীকে আদাতে প্রেরনের সাতে ৭ দিনের রিমান্ড আবেদন কনে।

নিহতের মামা ও জাজিরা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় এন্ড কলেজের শিক্ষক সুলতান মাহমুদ বলেন, আমার ভাগ্নী কুলছুমকে সুপরিকল্পিত ভাবে হত্যা করা হয়েছে। কুলছুম আত্মহত্যা করেনি। আত্মহত্যা করলে যে সকল সিমটম থাকার কথা তার কোন আলামতও পাওয়া যায়নি। প্রধান আসামী গ্রেফতার হওয়ায় আমরা আসাবাদী যে সঠিক বিচার পাবো।

মামলার বাদী জাবেদ মুন্সী বলেন, আমার বোন কুলছুমকে যৌতুকের দাবীতে বিভিন্ন সময় নির্যাতন করতো। একাধিক বার ওই ঘাতকদের যৌতুকও দিয়েছি। তারপরেও ওরা পরিকল্পিত ভাবে আমার বোনকে হত্যা করেছে। আমি আমার বোন কুলছুম হত্যার ন্যায় বিচার দাবী করছি।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি পুলিশ উপ-পরিদর্শক মুনজুর আহমেদ বলেন, মামলার তদন্তভার গ্রহন পরবর্তী প্রধান আসামীকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হই। আসামীকে আদালতে প্রেরণ করে ৭ দিনের রিমান্ড আবেদন করেছি।