স্বামীর পরকিয়ার কারনে সন্তানকে নিয়ে দিশেহারা শাহনাজ বেগম !

0
172

শরীয়তপুর প্রতিনিধি ॥ শরীয়তপুর সদর উপজেলার উত্তর ভাষানচর গ্রামের মৃত রহমান মাদবরের ছেলে নুরুল আমিন মাদবরের সাথে একই উপজেলার উপরগাঁও গ্রামের শাহ আলম দেওয়ানের মেয়ে শাহানাজ বেগমের বিয়ে হয়। দীর্ঘ ৬ বছরের দাম্পত্য জীবন ও বকুল (৪) নামে একটি ফুটফুটে কন্যা সন্তানও নুরুল আমিনের পাষন্ড মনে স্থান পায়নি। বিয়ের পূর্বের প্রেম নতুন করে নুরুল আমিনের মনে বাসা বাঁধে আর সেই প্রেমকে বাস্তব রূপ দিতে বিয়ের স্ত্রী ও ঔরষজাত কন্যা সন্তানকে ত্যাগ করছেন নুরুল আমিন। স্বামীর সংসার ও সন্তানের পরিচয় টিকিয়ে রাখতে শাহনাজ এলাকাবাসীসহ আইন আদালতের বারান্দায় ঘুরে বেড়াচ্ছেন।

শাহনাজের সাথে কথা বলে জানা যায়, পারিবারিক ভাবে আয়োজন করে ইসলামী নিয়মরীতি, রাষ্ট্রীয় আইন ও সামাজিকতা মেনে ৬ বছর পূর্বে তাদের বিয়ে হয়। বিয়ে পরবর্তী এক বছর দাম্পত্য জীবনে তাদের সুখ-শান্তি ছিল। পরবর্তীতে প্রতিবেশী হানিফ মিস্ত্রির মেয়ে পলি তাদের দাম্পত্য জীবনে সুখ-শান্তির বাঁধা হয়ে দাড়ায়। শুনেছে বিয়ের পূর্বে তার স্বামীর সাথে পলির প্রেমের সম্পর্ক ছিল। বিয়ের ১ বছর পর থেকে পুনরায় পলির সাথে তার স্বামীর ভাব গভীর হতে থাকে। পলিকে তার স্বামীর সংসার থেকে ফিরিয়ে এনে পরকিয়ায় লিপ্ত নুরুল আমিন আর বিবাহিত স্ত্রী ও সন্তানের প্রতি অমানবিক নির্যাতন শুরু করে। এতো কিছুর পরেও অবলা নারী শাহনাজ তার সন্তান বকুলকে নিয়ে স্বামীর সংসারে থাকার জন্য স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান-মেম্বার, আদালত ও পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের উইমেন এন্ড চাইল্ড সাপোর্ট সেন্টারে ঘুরে বেড়াচ্ছে।

শাহানাজের রিক্সা চালক পিতা শাহ আলম দেওয়ান বলেন, ৬ সন্তানের মধ্যে শাহানাজ বড়। প্রথম সন্তানের কষ্ট চোখের সামনে মেনে নিতে পারলেও নাততি বকুলের দুঃখ আমার সহ্য হয় না। এতোটুকু দুধের শিশু বাবার আদর ভালোবাসা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে এটা কি মেনে নেয়া যায়? আমার রিক্সা চালানো পরিশ্রমের রোজগার। অন্যান্যদের সাথে হয়তো শাহানাজ চলে যাবে কিন্তু ৪ বছরের শিশুর জন্য একটা বাড়তি খরচ দরকার। সে বিবেচনায় চেয়ারম্যান-মেম্বার, আইন আদালতে যাই। নুরুল আমিন যদি তার সন্তানের দরদ বুঝে আমার মেয়েকে নিয়ে সংসার করলে দুইটা জীবন বেচে যায়।

শাহানাজ বলেন, সন্তানের মুখের দিকে তাকিয়ে অনেক নির্যাতন সহ্য করছি। আমাকে ভাতের মাড় খাইয়ে রান্না ঘরে শুইতে দিতো। সন্তানের মুখের দিকে তাকিয়ে তাও সহ্য করেছি। তারপরেও শাররিক নির্যাতন করে বাড়ি থেকে বের করে দেয়। চেয়ারম্যান মেম্বাররা শালিশি করে আমাকে স্বামীর বাড়ি পাঠায় সেখানেও নির্যাতন করে। কোর্টে মামলা করি সেখানে গিয়ে নির্যাতন করবে না শর্তে আমাকে নিয়ে আবারও নির্যাতন করে। বিবাহের ৬ বছর এরমধ্যে ৫ বছরই পিতার বাড়িতে আছি।

সর্বশেষ প্রতিবেশী হানিফ মিস্ত্রীর মেয়ে পলিকে স্বামীর সংসার থেকে ফিরিয়ে এনে পরকিয়া করে নুুরুল আমিন। তাই পুলিশ সুপারের অফিসে উইমেন এন্ড চাইল্ড সাপোর্ট সেন্টারে আবেদন করেছি। ৮ অক্টোবর রোববার সেখানে শালিশী হবে। আমি স্বামীর সাথে সন্তান নিয়ে থাকতে চাইবো।

এ বিষয়ে জানতে উত্তর ভাষানচর নুরুল আমিনের বাড়িতে গিয়ে কাউকে পাওয়া যায়নি। মোবাইল ফোনে কথা বলতে চাইলে নুরুল আমিন কোন কথা বলতে রাজি হয় নাই।