প্রতিবন্ধী নাইটগার্ডকে পেটালেন ডোমসার বাজারের সভাপতি

0
77

শরীয়তপুর প্রতিনিধি ঃ ডোমসার বাজার কমিটির সভাপতি মো. দেলোয়ার হোসেন খান এক প্রতিবন্ধী নাইট গার্ডকে (নৈশপ্রহরী) পিটিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। গত ২৩ ফেব্রুয়ারী শুক্রবার রাতে বাজার কমিটির সভাপতির ব্যাবসা প্রতিষ্ঠানের পিছনে নিয়ে নির্যাতন করেছে বলে অভিযোগ করেছে নির্যাতনে শিকার প্রতিবন্ধী নাইটগার্ড রাজন (৩০)।

শরীয়তপুর সদর হাসপাতালের বিছানা থেকে নির্যাতিত রাজন জানায়, সে সদর উপজেলার ডোমসার কোয়ারপুর গ্রামের মৃত হাবিব মাদবরের ছেলে। রাজন একজন অসহায় প্রতিবন্ধী। বিগত ৪ বছর যাবৎ ডোমসার বাজারে নাইটগার্ডের কাজ করে সে। গত বৃহস্পতিবার বাজারের মোবাইল ব্যবসায়ী জামালের দোকানে চুরি হয়। সে চুরির মিথ্যা দায় রাজনের উপর চাপিয়ে দিয়ে এবং চুরির সাথে জড়িত অন্যান্যদের নাম বের করার জন্য বাজার কমিটির সভাপতি দেলোয়ার খান ও সহযোগী ব্যবসায়ী সামসু ঢালী, জামাল ঢালী, ইস্তিয়াক খান, জাকির, ও কুটি মাদবরদের নিয়ে রাজনকে নির্যাতন করে। তাদের শিখিয়ে দেয়া নাম স্বীকার না করলে রাজনের উপর নির্যাতনের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়। নির্যাতনের এক পর্যায়ে রাজনের মুখ থেকে তাদের পছন্দমত নাম বের করতে বাধ্য হয় এবং তা মোবাইলে ভিডিও করে রাখেন সভাপতি দেলোয়ার।

রাজনের মা ঝিলু বেগম বলেন, ২০ বছর পূর্বে স্বামী হারিয়ে প্রতিবন্ধী ও বিধাব ভাতা এবং আত্মীয়-স্বজনদের সহায়তায় একমাত্র প্রতিবন্ধী ছেলেকে নিয়ে কোনরকম বেঁচে আছেন। মিথ্যা চুরির অপবাদ দিয়ে তার ছেলেকে বাজারের সভাপতি লোকজন নিয়ে বেদম নির্যাতণ করেছে। এ বিষয়ে থানায় অভিযোগ করেফছি। এ অন্যায় নির্যাতনের বিচার দাবী করছেন তিনি।

এ বিষয়ে বাজার সমিতির সভাপতি মো. দেলোয়ার হোসেন খান বলেন, গত বৃহস্পতিবার বাজারের একটি মোবাইলের দোকানে চুরি হয়। বাজারের নাইটগার্ডদের নিয়ে শুক্রবার রাতে এক জায়গায় বসি। সেখানে নাইটগার্ড রাজন তার কথায় ধরাপরে যায়। বিষয়টি পালং মডেল থানায় জানানো হয়। থানা কর্তৃপক্ষ রাজনকে ছেড়ে দিতে বলে। আরও বলে শনিবার থানায় এসে অভিযোগ করেন। পরে আইনী ব্যবস্থা গ্রহন করবে। থানা কর্তৃপক্ষের কথা মতো রাজনকে ছেড়ে দেই। ওই রাতেই রাজন আমার নির্বাচণী প্রতিপক্ষের কথামত শনিবার সকালে থানায় গিয়ে আমার বিরুদ্ধে নির্যাতনের অভিযোগ করে এবং হাসপাতালে ভর্তি হয়। পরে আমিও থানায় মামলা করি। পুলিশ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

পালং মডেল থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান বলেন, এ বিষয়ে উভয় পক্ষের অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে। সত্যতা পেলে মামলা নিয়ে নিব।