শরীয়তপুরে গৃহবধূকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় ৯ দিন পর আদালতে মামলা

0
184

শরীয়তপুর প্রতিনিধি ঃ শরীয়তপুরে বন্যা পাহাড় (৩৮) নামে এক গৃহবধূকে পিটিয়ে হত্যার ৯ দিন পর আদালতে মামলা হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার (৮ মার্চ) ৫ জনকে অভিযুক্ত করে শরীয়তপুর চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হত্যা মামলা করেছে নিহতের দেবর দেলোয়ার হোসেন পাহাড়। ঘটনার ৯ দিন পরেও পালং মডেল থানায় বাদী পক্ষ মামলা করতে ব্যার্থ হয়ে আদালতে মামলা করে। মামলায় অভিযুক্তরা হলেন উত্তর বালুচড়া গ্রামের মৃত হারুন অর রশিদ পাহাড়ের ছেলে ছাত্তার পাহাড়, নুরুল আমিন পাহাড়ের ছেলে রাসেল পাহাড়, ধানুকা গ্রামের মৃত কানাই লাল দের ছেলে সমীর কিশোর দে, বাবুল দে ও মিন্টু দে।

মামলার আর্জি ও বাদীর বক্তব্য থেকে জানা যায়, গত (২৮ ফেব্রæয়ারী) বুধবার রাত ৮টার দিকে জেলা কারাগার সংলগ্ন পাকা সড়কে পাওনা টাকা চাওয়ায় বন্যাকে মারধর করে আসামীগণ। অসুস্থ অবস্থায় ১ মার্চ বৃহস্পতিবার বন্যাকে সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসকের পরামর্শে পরবর্তীতে ঢাকা মেডিকেল হাসপাতাল সহ রাজধানীর বিভিন্ন হাসপাতালে নিহতের চিকিৎসা, অস্ত্রপচার চলে ও আইসিইউ তে রাখা হয়। অবশেষে গত ৪ মার্চ রোববার রাতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ধানমন্ডি জেনারেল ও কিডনি হাসপাতালে বন্যান মৃত্যু হয়। পালং মডেল থানা পুলিশ মামলা না নেয়ায় আজ বৃহস্পতিবার আদালতে মামলা করে নিহতের দেবর।

মামলার বাদী পক্ষের আইনজীবী এডভোকেট মামুদুর রহমান মাসুদ জানায়, এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকান্ড। নিহত বন্যা আসামীদের কাছে অনেক টাকা পায়। পাওনা টাকা চাওয়ায় ইট দিয়ে মাথায় আঘাত করে এবং ব্রীজের সাথে ঢু-দিয়ে জখম করে বন্যাকে। নিহতের আত্মীয়-স্বজনরা সদর হাসপাতাল সহ ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতলে চিকিৎসা, অস্ত্রপচার করায় এবং আইসিইউতে রাখে। চিকিৎসাধীন অবস্থায় বন্যার মৃত্যু হয়। আসামীদের প্রভাবের কারনে বাদী পক্ষ থানায় মামলা করতে পারেনি। তাই (বৃহস্পতিবার) চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে নিহতের দেবর বাদী হয়ে আদালতে হত্যা মামলা করে। আদালত বাদীর ২শ ধারার জবানবন্দী রেকর্ড করে। মামলাটি এখন আদেশের অপেক্ষায় রয়েছে।

উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারী রাত ৮টার দিকে পাওনা টাকা ফেরত দেয়ার কথা বলে আসামীরা বন্যাকে ডেকে নেয়। তখন বন্যার সাথে তার ১৪ বছর বয়সী মেয়ে আশা ছিল। শর্ত মেনে টাকা ফেরত না দেয়ার বন্যার সাথে আসামীদের কথা কাটাকাটি হয়। উত্তেজিত হয়ে আসামীরা বন্যাকে বেদম মারপিট করে। রাতে বন্যার অবস্থা খারাপ হতে থাকলে পরদিন বৃহস্পতিবার সকালে সদর হাসপাতালে তাকে ভর্তি করে এবং ওই দিনই চিকিৎসক বন্যাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করেন। চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত রোববার রাত ৮টা ২০ মিনিটে ধানমন্ডি জেনারেল এন্ড কিডনি হাসপাতালে বন্যার মৃত্যু হয়।