ফাইনালে হারাটা ৯৯ রানে আউট হওয়ার মতো: সাকিব

0
84

ফাইনালে জেতা আর হারার মাঝে তফাত কতটুকু? ‘৯৯ আর ১০০-র মাঝে যে তফাত। ৯৯ রানে আউট হয়ে গেলেন মানে আপনার গোটা পরিশ্রমটাই কেউ দেখল না।

আর একটা রান করলেই আপনার নামের পাশে শতরানের ঘরে একটা সংখ্যা বাড়ল। আমার কাছে এটাই মনে হয়। ’ প্রশ্নের উত্তরদাতার নাম সাকিব আল হাসান। কাকতালীয়ভাবে যাঁর নামের পাশে টেস্টে নার্ভাস নাইন্টির সংখ্যা তিন এবং সীমিত ওভারের ক্রিকেটে কোনো বহুজাতিক আসরের ফাইনালে উঠে হেরে মাঠ ছাড়ার অভিজ্ঞতার সংখ্যা পাঁচ। সে জন্যই বোধ হয় অমন চমত্কার করে বলতে পারলেন। ৯৯ থেকে ১০০, মাঝের এই একটা রানের যে গুরুত্ব; কোনো আসরের ফাইনালে হার আর জয়ের তফাতও ততটুকুই। হেরে যাওয়া দলের কৃতিত্ব কেউ মনে রাখে না, কতটা কাছে গিয়ে অন্য দলটা হারল, সেটা স্কোরকার্ডের ভাঁজেই লুকিয়ে থাকে। বীরভোগ্যা বসুন্ধরায় বিজিত দলের কোনো জায়গা নেই।

শ্রীলঙ্কার সঙ্গে ম্যাচটা জিতে এসে বলেছিলেন, রোমাঞ্চকর একটা ম্যাচ হোক এবং সেরা দল জিতুক।

তার প্রত্যাশার প্রথম অংশ পূরণ হয়েছে। বাংলাদেশ শ্রীলঙ্কাকে হারিয়েছিল ১ বল হাতে রেখে, মাহমুদ উল্লাহর ছক্কায়। বাংলাদেশ হারল একদম শেষ বলে এসে, দীনেশ কার্তিকের ছক্কায়। সাকিবের ভাষায়, ‘আমরা ৪০ ওভারের একটা ম্যাচে ৩৮ ওভার ভালো খেলেছি। শুধু দুইটা ওভার খারাপ খেলেছি। শুরুতে ব্যাটিংয়ে যে ওভারে আমরা তামিম ও সৌম্য দুজনকেই হারিয়েছি আর শেষে বোলিংয়ে একটা ওভার যেটাতে রুবেল ২০ রানের বেশি (২২ রান) দিল।

’মুস্তাফিজ অসাধারণ একটা ওভার করার পর রুবেলকে বোলিংয়ে আনার ব্যাখ্যাও দিলেন সাকিব, ‘রুবেল ওই ওভারের আগ পর্যন্ত ছিল আমাদের সেরা বোলার। ৩ ওভারে সে মাত্র ১৩ রান দিয়েছিল। আর সে যে খারাপ বোলিং করেছে তা নয়। কার্তিক অসাধারণ ব্যাটিং করেছে, অলৌকিক ব্যাটিং। প্রথম বল থেকে এসেই সে ও রকম একটা লো ফুলটসে ছক্কা মেরেছে। ও মাত্র ৮টা বল খেলেছে, বেশির ভাগই বাউন্ডারি বা ওভার বাউন্ডারি। ২ ওভারে ৩৫ রান লাগে, এ রকম পরিস্থিতিতে ১০ বারের ৭ বারই হয়তো বোলিং করা দলই জিতবে।

তবে এর পরও যদি এ রকম পরিস্থিতি আসে, আমি রুবেলকেই ব্যাক করব। ’ শেষ ওভারটা সৌম্য সরকারের মতো অনিয়মিত বোলারকে দেওয়ার ব্যাখ্যাও দিলেন সাকিব, ‘মিরাজকে আর বোলিং করাইনি, সেটা আমার সিদ্ধান্ত। মাঠে দলের স্বার্থে যেটা করা প্রয়োজন মনে হয়েছে আমি করেছি। সৌম্য কিন্তু খুব ভালো বল করেছে। মাঝের দিকে ও আর মুস্তাফিজ মিলে যে কয়টা ওভার বল করেছে, ওই সময়টাই আমাদের ম্যাচে ফিরিয়েছে। ওর তিনটা ওভার অনেকের চার ওভারের চেয়েও বেশি গুরুত্বপূর্ণ ছিল। আমি ভেবেছিলাম, রুবেল যদি ১৫ রানও দেয় তাহলেও সৌম্যকে ২০ রান ডিফেন্ড করতে হবে যেটা অনেকটা সাহস দেবে। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে আগের ওভারে বেশি রান দেওয়া হয়ে গেছে। আর ওদেরও শেষ ওভারে বাউন্ডারি দরকার, বাউন্ডারি হয়েছে। শেষ বলে ছয় দরকার, ছয়ই হয়েছে। এখানে খুব বেশি কিছু করার ছিল না। ’

এ রকম উত্তেজনাময় মুহূর্তে, শেষ বলটা করার আগে বোলারকে অনেক নির্দেশনা দিতেই দেখা যায় অধিনায়ককে। সাকিব অবশ্য তেমন কোনো নির্দেশনা দেননি সৌম্যকে, জানালেন এটা জেনেশুনেই করেছেন, ‘এ রকম সময়ে বোলারকে কিছু বলতে যাওয়া মানে বাড়তি চাপে ঠেলে দেওয়া। তার হয়তো এক রকম বল করতে ইচ্ছা হচ্ছে, বলা হচ্ছে অন্য রকম; দ্বিধা থেকে আরো খারাপ কিছুও হয়ে যেতে পারে। আমি খালি বলেছিলাম সময় নিতে। তাড়াহুড়ো করে বল না করে যেন সময় নিয়ে বল করে। ’ আরেকটা ফাইনালের মঞ্চ।

এশিয়া কাপের ফাইনালে হেরে কেঁদেছিলেন সাকিব। এবার অন্তত চোখে-মুখে স্বাভাবিক একটা ভাব ফুটিয়ে এলেন নিদাহাস ট্রফির শেষ সংবাদ সম্মেলনে। আজ খুব সকালেই ধরবেন দেশে ফেরার বিমান, এরপর হয়তো আইপিএল। আবার এগিয়ে চলবে জীবন। সাকিব আক্ষেপ করতে চান না, ‘না , মন খারাপ করে কী হবে। কান্নাকাটি করে তো আর যেটা হয়ে গেছে সেটা ফিরিয়ে আনতে পারব না। এই নিয়ে বোধ হয় চারটা (বলে দেওয়া হলো সংখ্যাটা পাঁচ), ও, পাঁচটা ফাইনাল হারলাম। একটু একটু করে তো আগাচ্ছি। এশিয়া কাপের ম্যাচটার চেয়ে তো এখানে আরেকটু এগিয়ে গিয়ে হারলাম। এভাবেই একদিন জিতব। ’

ব্যাটিং, বোলিং কোনো কিছু নিয়েই আক্ষেপ নেই সাকিবের। এমনকি দর্শকরা যে সারাক্ষণ ভারতের সমর্থন দিয়ে গেল, তাতেও নেই কোনো অভিযোগ। বরং এই দলটাকে নিয়ে গর্ব করেন তিনি, যারা ব্যাটে বলে দারুণ লড়াই করে গেছে শেষ বল পর্যন্ত। এখান থেকেই খুঁজছেন নতুন কোনো শুরুর গল্প। সেটা হয়তো হবে, জীবনের নিয়মে। কিন্তু বাংলাদেশের ক্রিকেট আক্ষেপের খাতায় আরেকটা নতুন শব্দ যে জুড়ে গেল। মুলতান, মিরপুর, বেঙ্গালুরু, কলম্বো। সবই তো কাছে এসেও স্বপ্নভঙ্গেরই গল্প।

#বাংলাটপনিউজ/আরিফ