জাজিরায় জমি সংক্রান্ত বিরোধে প্রতিপক্ষের বাড়িতে চুরির অভিযোগ !

0
128

শরীয়তপুর প্রতিনিধি ঃ শরীয়তপুরের জাজিরার পালের চরে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে প্রতিপক্ষের বাড়িতে চুরি করার অভিযোগ উঠেছে। গতকাল (১৮ মার্চ) রোববার সকাল ১০টার দিকে সিরাজ খানের খালি বাড়িতে ঘরের দরজা ভেঙ্গে সেকান্দার খান ও তার লোকজন চুুরি করে বলে জানায় সিরাজ খানের পরিবার। এ ঘটনায় জাজিরা থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শণ পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহন করবে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, উপজেলার পালেরচর ইউনিয়নের ইয়াছিন আকনের কান্দি গ্রামের সিরাজ খান ও সেকান্দার খানগণ একই বংশের চাচাতো ভাই। দীর্ঘদিন যাবৎ উভয় পরিবারের মধ্যে জমিজমা সংক্রান্তে বিরোধ চলছে। গতকাল সকাল ১০টার দিকে কে বা কাহারা সিরাজ খানের খালি বাড়িতে গিয়ে ঘরের দরজা ভেঙ্গে নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার চুরি করেছে। এ সময় নির্মাণাদিন ঘরের খুটি উপরে ফেলা হয়েছে। এ বিষয়ে সিরাজ খান তার প্রতিপক্ষের সেকান্দার খান, নুন্নু খান, মজিবর খান, আজিবর খান ও বোন বেগমকে দায়ী করছেন।

প্রতিবেশী কালু মিয়া মোল্যা জানায়, রোববার সকাল ১০টার দিকে সেকান্দার খানের বোন বেগম তাদের বাড়ির উপর দিয়ে যাওয়ার সময় বলেছে ‘আমার জমিতে ঘর উঠাইতেছে? ঘরের খুটি উঠাইয়া ফালাইলাম’। তার সাথে ছোট দুটি ছেলে ছিল। কোন পুরুষ মানুষ ছিল না।


সিরাজ খান জানায়, ১৯৯৬ সালে আজিবর খান তার কাছে সারে ১৬ শতাংশ জমি বিক্রি করে। অদ্যবদি দলিল দেয়নি। এখন দলিল চাইলে তালবাহানা করে। স্থানীয় শালিসদের বিষয়টি জানালে তারা মীমাংসার আশ্বাস দিয়ে আমাকে টাকা জোগার করতে বলেন। শালিসদের কাথামতে ২ লক্ষ টাকা ও ৮ ভরি স্বর্ণালংকার ঘরে রাখি। গতকাল সকাল ১০টার দিকে আমার স্ত্রী মরিচ তুলতে ও পুত্র বধু শাক তুলতে যায়। খালি বাড়ি পেয়ে সেকান্দার খান তার লোকজন নিয়ে আমার ঘরের দরজা ভেঙ্গে নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার চুরি করে। এ বিষয়ে আমার ছেলে রহিম খান থানায় অভিযোগ করেছে।

অভিযুক্ত সেকান্দার খান বলেন, সিরাজ খানের কাছে ৩৩ শতাংশ জমি বিক্রি করা হয়েছে। সেই জমিতে সিরাজ খান ভোগ দখলে আছে। বর্তমানে যে সারে ১৬ শতাংশ জমি নিয়ে অভিযোগ করেছে তা বিক্রি করা হয়নি। এ জমি জবর দখলের জন্য চেষ্টা করছে। সে জন্যই সিরাজ খান এ মিথ্যা নাটক করছে। তার অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা।

বেগম বলেন, গতকাল ১০টার দিকে আহাদুল ইসলাম ও আল আমিনকে সাথে নিয়ে সিরাজ খান বাড়িতে যাই। গিয়ে দেখি আমার জমিতে ঘর তোলার জন্য খুটি পুতেছে। সেই খুট উপড়ে ফেলেছি। তখন ওই বাড়িতে কেউ ছিল না। আমি তাদের ঘরে যাইনি। তাদের অভিযোগ সাজানো।

জাজিরা থানা অফিসার ইনচার্জ এনামুল হক বলেন, এ বিষয়ে গতকাল রাত ১০টার দিকে একটা অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।