শরীয়তপুরে সড়ক দূর্ঘটায় ১ নারী নিহত

0
113

শরীয়তপুর প্রতিনিধি ঃ শরীয়তপুরে সড়ক দূর্ঘনায় নাছিমা বেগম (৪৫) নামে এক নারীর মৃত্যু হয়েছে। আজ মঙ্গলবার (২৭ মার্চ) বিকাল সারে ৪টার দিকে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালের সামনে শরীয়তপুর-ঢাকা মহাসড়কে রাস্তা পাড়াপাড়ের সময় ডিজেল চালিত একটা স্টাডিং (অবৈধ নছিমন জাতীয়) গাড়ি নাছিমাকে ধাক্কা দেয়। নাছিমা মাটিতে পড়ে গেলে গাড়ির চাঁকা নাছিমার মাথার উপরে উঠিয়ে দেয়।

এতে ঘটনাস্থলেই নাছিমার মৃত্যু হয়। নাছিমা সদর উপজেলার আংগারিয়া ইউনিয়নে চরপাতাং গ্রামের সিরাজ উদ্দিন খানের স্ত্রী। ঘাতক গাড়ি ও খুনী চালক রবিনকে (১৮) স্থানীয় জনতা আটক করে পালং মডেল থানা পুলিশে সোপর্দ করেছে। খুনী রবিন মাদারীপুর জেলার কালকিনি উপজেলার সূর্যমনি গ্রামের নুরুল আমিন বেপারীর ছেলে।

নিহতের পারিবারিক সূত্র জানায়, মঙ্গলবার সকালে নাছিমা তার অন্তঃসত্তা মেয়ে শিখাকে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করে। সকালেই অস্ত্রপচারের মাধ্যমে শিখা কন্যা সন্তান প্রসব করে। মেয়ের জন্য ওষুধ আনতে নাছিমা হাসপাতালের সামনে ফার্মেসীতে যায়। ওষুধ নিয়ে ফেরার পথে খুনী রবিন তার ঘাতক গাড়ির ধাক্কায় নাছিমাকে রাস্তায় ফেলে দেয় পরে মাথার উপর গাড়ির চাঁকা উঠিয়ে দিয়ে নাছিমাকে হত্যা করেছে।


প্রত্যক্ষদর্শী (হসপাতালের সামনের ব্যবসায়ী) মিরচান সরদার ও বাশার দেওয়ান জানায়, রাস্তা পাড়ের সময় প্রথমে গাড়িটি মহিলাকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেয়। স্থানীয় লোকজন তেড়ে গেলে গাড়ির চালক পালিয়ে যাওয়ার জন্য গাড়ি টান দিলে পেছনের চাঁকা মহিলার মাথার উপরে উঠে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই মহিলার মৃত্যু হয়। দূর্ঘটনা ঘটার পর জনগণ খুনী রবিনকে আটক করে পুলিশে দেয়।

এতদিন অবৈধ গাড়ি ও অপ্রাপ্ত বয়স্ক খুণী চালককে কেন পুলিশ হেফাজতে নিতে পারেনি? প্রত্যক্ষদর্শীদের অনেকের এমন প্রশ্নের জবাব কারও জানা আছেকি?ঘাতক রবিন (১৮) জানায়, তার গাড়ির কোন রেজিষ্ট্রেশন নাই। তারও কোন ড্রাইভিং লাইসেন্স নাই। তবুও সে ৪ বছর যাবৎ মনহর বাজার এলাকার ইউসুফ মাদবরের অবৈধ গাড়ি চালায়।

পালং মডেল থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান বলেন, সদর হাসপাতালের সামনের রাস্তায় অবৈধ নছিমন গাড়ি নিয়ন্ত্রন হারিয়ে নাছিমা নামে এক মহিলাকে চাপা দেয়। ঘটনাস্থলেই নাছিমার মৃত্যু হয়। স্থানীয় লোকজন গাড়ি ও চালকে আটক করে। এখন গাড়ি ও চালক পুলিশ হেফাজতে রয়েছে। যেহেতু গাড়ির রেজিষ্ট্রেশন নম্বর নাই এবং চাককের ড্রাইভিনং লাইসেন্স নাই সেক্ষেত্রে পেনাল কোড এর ৩০৪ ধারায় মামলা হবে। গারির পার্মিট ও চালকের ড্রাইভিং লাইসেন্স থাকলে পেনাল কোডের ৩০৪(ক) ধারায় (সড়ক দূর্ঘটনার অপরাধে) মামলা হত। পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী হত্যা করা হলে পেনাল কোডের ৩০২ ধারা হয়। এতে কোন পূর্ব পরিকল্পনা ছিল না।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here