কোটা সংস্কারে আন্দোলনকে সরকারবিরোধী আন্দোলনে রূপ দিতে ব্যাপক টাকা বিলানো হয়েছিল

0
67

সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারে আন্দোলনকে সরকারবিরোধী আন্দোলনে রূপ দিতে ব্যাপক টাকা বিলানো হয়েছিল বলে জানিয়েছেন ওবায়দুল কাদের। তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণার পর ছাত্ররা যখন ফিরে যাওয়ায় বিএনপির নেতৃত্ব চুপসে গেছে।

ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবসে মঙ্গলবার বিকালে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে আওয়ামী লীগের আলোচনায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন ।

১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল মেহেরপুরের বৈদ্যনাথতলায় শপথ নেয় স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম সরকার। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে রাষ্ট্রপতি করে ওই সরকারে অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি করা হয় সৈয়দ নজরুল ইসলামকে। প্রধানমন্ত্রী হন তাজউদ্দিন আহমেদ। শপথ নেন মনসুর আলী এবং এ এইচ এম কামারুজ্জামানও। পরে ওই সরকারের নেতৃত্ব ও পরিচালনায় হয় মুক্তিযুদ্ধ। ১৬ ডিসেম্বর পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর নিঃশর্ত আত্মসমর্পণের মধ্য দিয়ে অভ্যুদয় ঘটে স্বাধীন বাংলাদেশের।

কাদের তার বক্তব্যে বাংলাদেশের স্বাধীনতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ দিবস ৭ মার্চ, ১৭ এপ্রিল এবং পাকিস্তানি বাহিনীর গণহত্যার প্রতিবাদে ২৫ মার্চ গণহত্যা দিবস পালন না করায় বিএনপির কঠোর সমালোচনা করেন।

সেই সঙ্গে সম্প্রতি সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কার নিয়ে আন্দোলনের বিষয়েও কথা বলেন আওয়ামী লীগ নেতা। গত ৯ এপ্রিল তার সঙ্গেই আন্দোলনকারী ২০ নেতার সমঝোতা বৈঠক হয়। কিন্তু সমঝোতা ভেঙে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আন্দোলনে ফেরে ছাত্ররা আর সারাদেশে কর্মসূচি ছড়িয়ে পড়ার পর ১২ এপ্রিল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সংসদে ‘কোনো কোটার দরকার নেই’ বলে বক্তব্য দেয়ার পর পরিস্থিতি শান্ত হয়।

কাদের জানান, কোটা নিয়ে এই আন্দোলন হলেও এতে সরকারবিরোধী নানা গোষ্ঠী সুযোগ নেয়ার চেষ্টা করেছিল বলে তথ্য আছে সরকারের কাছে। বিশেষ করে লন্ডনে অবস্থানরত বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের একটি টেলিফোনালাপ তার প্রমাণ ।

আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে ঘরে ঘরে গিয়ে সদস্য সংগ্রহ করার আহ্বানও জানান কাদের। বলেন, ‘কমিটির মধ্যে কিছু সমস্যা আছে, সেখানে বাদ পড়াদের সংযুক্ত করে নিতে হবে। নয়ত নির্বাচনে বড় বিপদের কারণ হতে পারে।’ ‘নিজেরা নিজেদের সাথে ঝগড়া করে লাভ হবে না। জনমত জরিপে যারা এগিয়ে থাকবে কারা নমিনেশন পাবে।’

আলোচনায় কৃষিমন্ত্রী বেগম মতিয়া চৌধুরী বলেন, ‘শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশ এখন উন্নয়নের মহাসড়কে প্রবেশ করেছে। এই অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখতে শেখ হাসিনার পাশে আমাদের থাকতে হবে। কোন ষড়যন্ত্র যেন এ অগ্রযাত্রা রুখে দিতে না পারে।’

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল বলেন, ‘একটি চক্র দেশকে অস্থিতিশীল করে তোলার চেষ্টা করছে। সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদের মধ্যদিয়ে তাদের চালানো এ অপচেষ্টা কখনও সফল হবে না ‘

আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক বলেন, ‘জিয়াউর রহামন-মোস্তাক আহমেদ-এরশাদরা ১৭ এপ্রিলকে মুছে ফেলার চেষ্টা করেছিল, বঙ্গবন্ধুকে হত্যার মধ্যদিয়ে। তারা এ দেশকে পাকিস্তান বানাতে চেয়েছিলো। কিন্তু এ দেশের জনগণ সেটি মেনে নেয়নি’

খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম বলেন, ‘যারা মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে কটাক্ষ করে, শহীদ সংখ্যা নিয়ো প্রশ্ন তোলে তাদের এ দেশের রাজনীতি থেকে বিতাড়িত করতে হবে।’

ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের সভাপতি এ কে এম রহমতউল্লাহর সভাপতিত্বে আলোচনায় আরও বক্তব্য রাখেন সাহারা খাতুন, আবব্দুল মতিন খসরু, আহমদ হোসেন, মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, আবদুস সোবহান গোলাপ, সুজিত রায় নন্দী প্রমুখ এ সময় বক্তব্য রাখেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here