শরীয়তপুরে ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবস উপলক্ষ্যে আলোচনা সভা

0
74

শরীয়তপুর প্রতিনিধি ঃ শরীয়তপুরে ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবস পালন করা হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার (১৭ এপ্রিল) সকাল ১০টায় এ দিবস উপলক্ষে এক আলোচনা সভার আয়োজন করে জেলা আওয়ামীলীগ। আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা আওয়ামীলীগ সভাপতি ছাবেদুর রহমান খোকা শিকদার।

উপস্থিত ছিলেন জেলা আওয়ামীলীগ সহ সভাপতি আঃ খালেক, সাধারণ সম্পাদক অনল কুমার দে, পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) মির্জা হজরত আলী, জেলা আওয়ামীলীগ আইন বিষয়ক সম্পাদক এডভোকেট আবুল কালাম আজাদ, দপ্তর সম্পাদক ফেরদৌস খান, সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুর রাজ্জাক পিন্টু, স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক আলমগীর হোসেন হাওলাদার, সদস্য এম এ মজলিস খান, মহিলা বিষয়ক সম্পাদিকা পারভীন আক্তার, সাবেক ছাত্রনেতা সিদ্দিকুর রহমান পাহাড়, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান ফাতেমা আক্তার শিল্পী, জেলা পরিষদ সদস্য শাখাওয়াত হোসেন মোল্যা, আসমা আক্তার প্রমূখ।

মুজিবনগার দিবস সম্পর্কে নেতৃবৃন্দ বলেন, ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবস বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের সুদীর্ঘ ইতিহাসের এক চিরভাস্বর অবিস্মরণীয় দিন। ১৯৭১ সালের এই দিনে মেহেরপুর জেলার বৈদ্যনাথতলার আ¤্রকাননে স্বাধীন-সার্বভৌম গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের প্রথম সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে শপথ গ্রহণ করে। এ অনুষ্ঠানে ষোষিত হয় ১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল গঠিত গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র।

সেইদিন থেকে ওই স্থানটি মুজিবনগর নামে পরিচিতি লাভ করে। বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধ পরিচালনা ও স্বদেশ ভূমি থেকে পাকিস্তানী হানাদার বাহিনী বিতাড়িত করে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ঘোষিত ও নির্দেশিত পথে মুক্তিযুদ্ধের বিজয় অর্জনের লক্ষ্যে স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশ সরকার গঠন করা হয়।

১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচনের পর তৎকালীন পাকিস্তানের শাসকগোষ্ঠী নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করতে অস্বীকৃতি জানায় এবং বেআইনিভাবে জাতীয় পরিষদের অধিবেশন অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করে। তারই ধারাবাহিকতায় ১০ এপ্রিল মেহেরপুরের সীমাসন্তবর্তী এলাকার মুক্তাঞ্চলে জাতীয় পরিষদে আওয়ামী লীগের নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠ নির্বাচিত প্রতিনিধিরা এক বিশেষ অধিবেশনে মিলিত হন। স্বাধীন-সার্বভৌম গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার গঠন করেন।

এই অধিবেশনে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র অনুমোদন ও বাংলাদেশের সাড়ে সাত কোটি মানুষের অবিসংবাদিত নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে রাষ্ট্রপতি, সৈয়দ নজরুল ইসলামকে উপ-রাষ্ট্রপতি এবং তাজউদ্দিন আহমদকে প্রধানমন্ত্রী করে গঠিত হয় বাংলাদেশ সরকার।

রাষ্ট্রপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান পাকিস্তানের কারাগারে বন্দি থাকায় তার অনুপস্থিতিতে উপ-রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলামকে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি করা হয়। এ ছাড়াও খন্দকার মোশতাক আহমেদ পররাষ্ট্রমন্ত্রী, ক্যাপ্টেন মুহাম্মদ মনসুর আলী অর্থমন্ত্রী এবং এ এইচ এম কামারুজ্জামান স্বরাষ্ট্র, ত্রাণ ও পুনর্বাসনমন্ত্রী নিযুক্ত হন। অপরদিকে জেনারেল আতাউল গনি ওসমানী অস্থায়ী সরকারের মুক্তিবাহিনীর প্রধান কমান্ডার এবং মেজর জেনারেল আবদুর রব চিফ অব স্টাফ নিযুক্ত হন।

১১ এপ্রিল বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দিন আহমেদ দেশবাসীর উদ্দেশে বেতারে ভাষণ দেন, যা আকাশবাণী থেকে একাধিকবার প্রচারিত হয়। তাজউদ্দিনের ভাষণের মধ্য দিয়েই দেশ-বিদেশের মানুষ জানতে পারে বাংলাদেশের মুক্তি সংমগ্রাম পরিচালনার লক্ষ্যে একটি আইনানুগ সরকার গঠিত হয়েছে।

এরই পথপরিক্রমায় ১৭ এপ্রিল সকালে মুজিবনগরে আনুষ্ঠানিকভাবে শপথগ্রহণের মাধ্যমে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার প্রতিষ্ঠা লাভ করে। পরের দিন দেশ-বিদেশের পত্র-পত্রিকা এবং সংবাদ মাধ্যমে ১৭ এপ্রিল শপথগ্রহণের এই সংবাদ ফলাও করে ছাপা হয়। বাংলাদেশ সরকারের আনুষ্ঠানিক সূচনা বা আনুষ্ঠানিক আত্মপ্রকাশ হিসেবে এই দিনটির তাৎপর্য ছিল বিশাল।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here