ব্যবসায়ী শাহ অালম ভুঁইয়া হত্যায় ‘ছেলে সৈকতের প্রেমিকা কণিকার সংশ্লিষ্টতা

0
38

পরকীয়ায় বাধা দেওয়ায় ব্যবসায়ী শাহ অালম ভুঁইয়া হত্যার শিকার হয়েছিলেন বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। পরিবার ও পুলিশ জানায় হত্যাকারী নিহতের স্বজনদের মামলার পরামর্শও দিয়েছিলেন।

গত ৮ এপ্রিল রবিবার রাজধানীর সবুজবাগের পূর্ব মাদারটেক এলাকা থেকে লাগেজে শাহ অালমের লাশ উদ্ধার করা হয়। হত্যাকাণ্ডের পরদিন শাহ অালমের ছেলে সৈকত হাসানের প্রেমিকা লাবণী অাক্তার কণিকা (২৪) পরদিন দুপুরের পর নিহতের বাসায় যান।

সে সময় তিনি নিহতের পরিবারকে সান্ত্বনা দিয়ে থানায় মামলা করারও পরামর্শ দেন। শুধু তা-ই নয়, হত্যাকাণ্ডের পর দ্রুত যশোরের বোনাপোল দিয়ে ভারতে যাওয়ার পরিকল্পনাও করেছিলেন কণিকা। হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে অারও কয়েকজনের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেছে। তদন্তসংশ্লিষ্ট ও নিহতের পরিবারের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, শাহ অালমকে প্রথমে গোড়ানের ৩১ নম্বর টিনশেডের বাসায় ডেকে নেওয়া হয়। সেখানে তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যার পর লাশটি লাগেজে ভরা হয়। এরপর লাশ গুম করার জন্য কণিকা নিজেই একটি অটোরিকশা ঠিক করে রওনা হন। তবে পথিমধ্যে লাগেজ রেখে পালিয়ে যান তিনি।

এ ঘটনার পর কণিকা অার বাসায় যাননি। রাতে তিনি খিলগাঁও এলাকায় তার বান্ধবী মিথির বাসায় যান। সেখানে গিয়েও নাটক সাজান কণিকা। মিথির মাকে তিনি বলেন, ৬৫ হাজার টাকা হারিয়েছে বলে কণিকার ওপর তার দাদি রাগ করেছেন। তাই রাতটা সে মিথির কাছে থাকতে চান। ওই রাতে মিথির সঙ্গেই থাকেন তিনি।

পরদিন খুব ভোরবেলা কাউকে কিছু না বলেই চলে যান যশোরের বেনাপোলের উদ্দেশে। এর অাগে কণিকা বিমানে ভারত যাওয়ারও পরিকল্পনা করেছিলেন। কিন্তু সুবিধা করতে না পারায় স্থলপথেই ভারতে পালানোর পরিকল্পনা করেন। যশোর পৌঁছেই নতুন একটি নাম্বার থেকে বান্ধবী মিথিকে ফোন করেন কণিকা।

তদন্তে আরও এসেছে, প্রথমে কণিকার প্রেমিক সৈকতকে অাটক করে ডিবি। এরপর তার ফোন থেকে কণিকাকে ফোন করা হয়। সে সময় বেনাপোলে আছেন বলে সৈকতকে জানান কণিকা। পরে বেনাপোল থেকে ডিবি পুলিশ কণিকাকে অাটক করে। কণিকা অাটকের ব্যাপারে শুধু প্রেমিক সৈকত নয়, তার বান্ধবী মিথিও সাহায্য করেন পুলিশকে।

তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র অারও জানিয়েছে, সৈকতের প্রেমিকা কণিকা এ হত্যার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি জানিয়েছেন হত্যার সময় কণিকা বাজার থেকে দুটি ছোট-বড় লাগেজ কিনে অানান। সেগুলো বাদশা নামের এক ব্যক্তি এনে দেন। ছোট লাগেজে লাশের জায়গা না হওয়ায় বড়টিতে ভরা হয় বলেও পুলিশকে জানান কণিকা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here