রাজীবের দুই ভাইয়ের শিক্ষার দায়িত্ব নিতে চায় সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়

0
41

সমাজকল্যাণমন্ত্রী রাশেদ খান মেনন বলেছেন, সড়ক দুর্ঘটনায় সদ্যপ্রয়াত রাজীবের দুই ভাইয়ের শিক্ষার দায়িত্ব নিতে চায় সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়। এ জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা রাজীবের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করছে। ‘যদি তার পরিবার রাজি হয় তাহলে তাদের মিরপুরের শিশুপল্লীতে রেখে শিক্ষার ব্যবস্থা করা হবে’। বুধবার সচিবালয়ে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ মন্তব্য করেন। মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব খন্দকার আতিয়ার রহমান এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

রাশেদ খান মেনন বলেন, রাজীব নামের একটি ছেলে অতি কষ্টে লেখাপড়া করে ছোট দুটি ভাইয়ের লেখাপড়ার খরচ জোগাচ্ছিল। কিন্তু দুটি বাসে সংঘর্ষের কারণে এতিম ছেলেটি (রাজীব) হাত হারায়। সবাই আশা করেছিল অন্তত ছেলেটি বেঁচে যাবে। স্বাস্থ্যমন্ত্রী তার চিকিৎসার দায়িত্বও নিয়েছিলেন। কিন্তু আমরা তাকে রক্ষা করতে পারিনি।

তারা দুটি ভাই যদি সম্মত হন তাহলে শুধুমাত্র এসএসসি নয়, এর পরবর্তী লেখাপড়া চালানোর ক্ষেত্রে আমরা দায়িত্ব নেব। পাশাপাশি আমাদের যে বিভিন্ন ট্রেড রয়েছে যেমন কম্পিউটার, দর্জির কাজসহ হাতের অন্যান্য কাজ, সেখানে তাদের প্রশিক্ষণ দিয়ে পনর্বাসিত করব।’

প্রসঙ্গত, গত ৩ এপ্রিল বিআরটিসির একটি দ্বীতল বাসের পেছনের গেটে দাঁড়িয়ে গন্তব্যে যাচ্ছিলেন তিতুমীর কলেজের স্নাতকের (বাণিজ্য) দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র রাজীব হোসেন (২১)। তার হাতটি সামান্য বাইরে বেরিয়ে ছিল। রাজধানীর কারওয়ান বাজারে হঠাৎ পেছন থেকে স্বজন পরিবহনের একটি বাস বিআরটিসি বাসটিকে ওভারটেকের জন্য বাম দিকে গা ঘেঁষে এগিয়ে যায়। এতে দুই বাসের চাপে রাজীবের হাত শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। পথচারীরা দ্রুত তাকে পান্থপথের শমরিতা হাসপাতালে নিয়ে যান। কিন্তু চিকিৎসকরা চেষ্টা করেও বিচ্ছিন্ন হাতটি রাজীবের শরীরে আর জুড়ে দিতে পারেননি।

শমরিতা হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসার পর রাজীবকে ঢাকা মেডিকেল কলেজে স্থানান্তর করা হয়। কিন্তু সাময়িক উন্নতির পর গত সোমবার থেকে তার মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ শুরু হয়। একপর্যায়ে রাজীবের মস্তিষ্ক অসাড় হয়ে যায়। সেই থেকে আর জ্ঞান ফেরেনি তার। ১৩ দিন পর সোমবার রাত ১২টা ৪০ মিনিটে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে মারা যান রাজীব।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here