রোজায় সরকারি কলের ৮৯ টন চিনি ছাড়া হবে

0
53

বাণিজ্য প্রতিবেদক: বর্তমানে গুদামে ৮৯ টন সরকারি চিনি রয়েছে। আপৎকালীন সময়ের জন্য এ চিনি মজুদ রাখা হয়েছে।

আসন্ন রোজায় বেসরকারি খাতের কিছু অসাধু ব্যবসায়ী বাজারে চিনি না ছেড়ে বা কম ছেড়ে কৃত্রিম সংকট তৈরি করলে বাজারে চিনির দর বাড়বে। এমন পরিস্থিতিতে সরকারি মজুদ চিনি বাজারে ছাড়া হবে। এতে বাজারে চাহিদা অনুযায়ী চিনি সরবরাহ থাকবে। ফলে স্বাভাবিক বাজারদরে সাধারণ ক্রেতারা চিনি কেনার সুযোগ পাবে। অসাধু ব্যবসায়ীরা রোজায় চিনির দর বাড়ানোর সুযোগ পাবে না।

গতকাল বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্যশিল্প করপোরেশন (বিএসএফআইসি) থেকে শিল্প মন্ত্রণালয়ে পাঠানো প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

গত সপ্তাহে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর থেকে শিল্প মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠিয়ে আগামী রোজায় চাহিদা অনুযায়ী চিনি সরবরাহে প্রস্তুতি নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়। এ চিঠি পাওয়ার পর শিল্প মন্ত্রণালয় থেকে বিএসএফআইসির কাছে চিনির সর্বশেষ মজুদ এবং রোজায় খোলাবাজারে চিনি সরবরাহের প্রস্তুতি সম্পর্কে জানতে চাওয়া হয়। এ প্রেক্ষাপটে বিএসএফআইসি থেকে গতকাল শিল্প মন্ত্রণালয়ে এ প্রতিবেদন পাঠানো হয়।

শিল্পসচিব মো. আব্দুল্লাহ বলেন, ‘রোজায় চিনির বাজার স্থিতিশীল রাখতে শিল্প মন্ত্রণালয় থেকে সম্পূর্ণ প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। কোনো অসাধু ব্যবসায়ী চিনি মজুদ রেখে দাম বাড়ানোর চেষ্টা করলে সরকারি চিনি বাজারে ছেড়ে দাম স্বাভাবিক রাখা হবে। ’

শিল্প মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, সারা বছর দেশে ১২-১৩ লাখ টন চিনির চাহিদা রয়েছে। গড়ে দুই লাখ টন চিনি রোজার মাসে বিক্রি হয়। বেসরকারি খাতের পাঁচ-ছয়টি চিনি উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান থেকে মূলত স্থানীয় বাজারের সম্পূর্ণ চাহিদা পূরণ হয়। এসব প্রতিষ্ঠান অপরিশোধিত চিনি আমদানি করে নিজস্ব কারখানায় পরিশোধন করে বাজারে বিক্রি করে থাকে।

অন্যদিকে সরকারের ১৫টি চিনিকল থেকে বছরে গড়ে দেড় লাখ টন চিনি উৎপাদিত হয়। সারা বছর অল্প কিছু চিনি বাজারে ছাড়া হলেও মূলত আপৎকালীন সময়ের জন্য সরকারি চিনি মজুদ রাখা হয়। রোজায় চিনির চাহিদা বাড়ে। এ সময় অনেক অসাধু ব্যবসায়ী মজুদ চিনি বাজারে না ছেড়ে বা কম ছেড়ে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে চিনির দাম বাড়িয়ে থাকে। এতে সাধারণ ভোক্তারা বেশি দামে চিনি কিনতে বাধ্য হয়। এভাবে অসাধু ব্যবসায়ীদের কারসাজিতে ভোগান্তিতে পড়ে সাধারণ ভোক্তারা।

আসন্ন রোজার এখনো প্রায় দেড় মাস বাকি। রোজায় চিনির বাজার স্থিতিশীল রাখতে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর থেকে শিল্প মন্ত্রণালয়ে চিঠি পঠিয়ে আগেভাগেই প্রস্তুতি নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

চিনির মজুদ ও সরবরাহ সম্পর্কে শিল্প মন্ত্রণালয়ে পাঠানো বিএসএফআইসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘রমজান উপলক্ষে ৮৯ টন চিনি মজুদ রাখা হয়েছে। বর্তমানে সরকারি কারখানায় উৎপাদিত চিনি প্রতি কেজি ৬৫ টাকা দরে বিক্রি করা হচ্ছে। আসন্ন রমজানে এ দর বাড়ানোর পরিকল্পনা নেই। এসব চিনি নিজস্ব ডিলারের মাধ্যমে অথবা নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় পাইকারি ও খুচরা পর্যায়ে বিক্রি করা হবে। চিনি মজুদ ও সরবরাহসংক্রান্ত সব ব্যবস্থা চূড়ান্ত করা হয়েছে। এতে অসাধু ব্যবসায়ীরা কোনো ধরনের কারসাজি করে চিনির বাজার অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করলে অতি দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হবে। ’

বিএসএফআইসির চেয়ারম্যান এ কে এম দেলোয়ার হোসেন বলেন, ‘রোজায় অসাধু ব্যবসায়ীরা চিনির দর বাড়ানোর চেষ্টা করলে সরকারি চিনি বাজারে ছাড়া হবে। এ বিষয়ে সব প্রস্তুতি চূড়ান্ত আছে।

#বাংলাটপনিউজ/আরিফ

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here