ধর্ম ব্যবসায়ীদের নতুন যড়ষন্ত্রের পথে বাংলাদেশ !

0
26

মানব জাতির বিশ্ব নেতা আমাদের প্রিয় নবীজি তার বিদায়ী হজ্বের ভাষনে স্পষ্ট করে বলেছেন, তোমরা কেউ ধর্ম নিয়ে বাড়াবাড়ি করিও না। তোমাদের পুর্বে অনেক জাতিই ধর্ম নিয়ে বাড়াবাড়ি করে ধ্বংস হয়ে গেছে। অতএব, জাতি, বর্ণ, শ্রেণী, ধর্ম সবার আগে আমাদের প্রথম পরিচয় আমরা আদম সন্তান, আমরা মানুষ, আমরা আশরাফুল মাখলুকাত। আমাদের জীবনের জন্য তৈরী হয়েছে ধর্ম। আমরা যে ধর্মেরই অনুসারী হই না কেন, আমাদের লক্ষ্য একমাত্র আমাদের সৃষ্টি কর্তাকে খুশি করা। আমরা মসজিদে নামাজ পরি আর হিন্দুরা মন্দিরে পুজা করে। আমাদের প্রার্থনার পদ্ধতি ভিন্ন, তবে লক্ষ কিন্তু একই।

বাংলা নববর্ষ পালনের নামে বৈশাখী মেলা করা হারাম উল্লেখ করে একজন ইমাম সাহেব বয়ান দিয়েছেন। তিনি তার বয়ানে উল্লেখ করেছেন, লাল শালু কাপড় পড়ে কোনো মুসলমান মেলায় যেতে পারে না। তিনি বলেছেন, বাংলা নববর্ষ নাকি হিন্দুদের উৎসব, মুসলমাদের নয়। আমি তার ওই বয়ানের বিরুদ্ধে ফেসবুকে একটি স্ট্যাস্টাস দিয়েছিলাম। তার পর পরেই আমার বিরুদ্ধে বেশ কিছু ব্যক্তি ঐক্যবদ্ধ হয়ে আমার ওই স্ট্যাস্টাসের বিরোধীতা শুরু করেন। আমার পক্ষে অবস্থানের সংখ্যা ছিলো দুই-এক জন। এতে আমি লজ্জিত হইনি।

তবে মনে ধারণা তৈরী হয়েছে, (১) আমরা স্বাধীনতার ৪৭ বছরেও ধর্ম ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে বের হতে পারিনি। অসম্প্রদায়িক চেতনায় দেশ স্বাধীন হলেও এখনো আমরা মৌলবাদের কাছে জিম্মি আছি। পাকিস্তানী কিছু নব্য এজেন্ট আমাদের দেশে এখনো জন্ম নিচ্ছে। (২) আমার ফেসবুকে কিছু ধর্ম ব্যবসায়ী ও তার অনুসারী বন্ধু হয়ে আছেন। হে আল্লাহ, তুমি আমাকে ধর্ম ব্যবসায়ীদের হাত থেকে রক্ষা কর।

যাই হোক আমার কিছু প্রশ্ন, বাংলা নববর্ষ চালু করেছেন মোঘল সম্রার্ট আকবর। তিনি জমির খাজনা আদায়ের সুবিধার জন্য আরবী সালের আদলে বাংলা নববর্ষের সুচনা করেন। বাদশা আকবর একজন মুসলিম বাদশা ছিলেন আর তখন থেকেই বাংলা নববর্ষের সুত্রপাত। অতএব আমরা বলতে পারি বাংলা নববর্ষ কোনো ধর্মীয় উৎসব নয়।

পরবর্তীতে ১৯৬৭ সালে যখন বাঙ্গালী সাংস্কৃতিকে পাকিস্তানী গোষ্ঠী হানা দিতে শুরু করেন তখন তৎকালীন পুর্ব পাকিস্তানে ছায়ানট প্রতিবাদ হিসাবে বাংলা নববর্ষ উৎসব চালু করেন। আমরা এবার বলতে পারি, এটি বাঙ্গালী জাতির উৎসব বা প্রতিবাদ কর্মসুচী। আর সব উৎসবের সাথে ধর্মের সর্ম্পক বের করাও ঠিক নয়। যারা বাংলা নববর্ষ উৎসবের বিরোধীতা করছেন তারা মুলত পর্দার আড়াল থেকে পাকিস্তানী গোষ্ঠীর সেই অপচেষ্টা নতুন করে শুরু করেছেন বলে আমি মনে করি।

“ধর্ম যার যার, উৎসব সবার”- এটিকে যারা মানতে পারছে না তারাই আজ নববর্ষ উৎসবের বিরোধীতা করছেন। আর হ্যা, লাল শালু কাপড়ের কথা বলা হয়েছে। কিন্তু কোরআনের কোথাও কি বলা আছে ? লাল শালু কাপড় পড়া যাবে না। যারা আমার প্রাণের জাতীয় সংগীত গাওয়া বা বাংলা নববর্ষের বিরোধীতা করছেন তাদের বলবো কোরআনের কোথায় উল্লেখ আছে জাতীয় সংগীত গাওয়া যাবে না বা বাংলা নববর্ষ উৎসব করা

লেখক: আসাদুজ্জামান সাজু

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here