নানা অনিয়মে ভরা সাটুরিয়া উপজেলা পরিষদ !

0
92

আব্দুস ছালাম সফিক, সাটুরিয়া ঃ নবনির্মিত ভবন সজ্জিতকরণ, আবাসিক ভবন সংস্কার, পুকুর কাটা নিয়ে মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া উপজেলা পরিষদে চলছে অনিয়ম। অস্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় দরপত্র দিয়ে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে। নিয়মবহির্ভূতভাবে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও), প্রকৌশলীর কক্ষে স্থাপন করা হয়েছে এয়ার কন্ডিশনার (শীতাতপ নিয়ন্ত্রক)।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ২০১৭-১৮ অর্থবছরে রাজস্ব খাতে সাটুরিয়া উপজেলাকে বরাদ্দ দেওয়া হয় ৪২ লাখ টাকা। এই টাকায় বেশ কয়েকটি প্রকল্প নেওয়া হয়। বরাদ্দের টাকা ব্যয় করা হয় নবনির্মিত ভবন সজ্জিতকরণের কয়েকটি প্রকল্পে। প্রায় ১০ মাস আগে নতুন ভবনের নির্মাণকাজ শেষ হলেও উদ্বোধন করা হয়নি। বর্তমানে উপজেলার কাজ চলছে পুরনো ভবনে।

অথচ নতুন ভবন সজ্জিতকরণের জন্য কমপক্ষে ৯টি প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে চেয়ারম্যানের কক্ষ সজ্জিতকরণ বাবদ প্রায় চার লাখ ৭৬ হাজার, ইউএনওর কক্ষ সজ্জিতকরণ বাবদ প্রায় চার লাখ ৭৬ হাজার, সম্মেলনকক্ষে টেবিল স্থাপন বাবদ প্রায় চার লাখ ৮২ হাজার ও সজ্জিতকরণ বাবদ চার লাখ ৭৬ হাজার টাকা। প্রতিটি কাজ পেয়েছে সারা সোহা কনস্ট্রাকশন অ্যান্ড অ্যাসোসিয়েট। পত্রিকায় কোনো বিজ্ঞপ্তি না দিয়ে এবং উন্মুক্ত দরপত্র না ডেকে আরএফকিউ (রিকোয়েস্ট ফর কোটেশন) পদ্ধতি প্রয়োগ করা হয়েছে।

অভিজ্ঞরা জানান, জরুরি কাজে সাধারণত আরএফকিউ পদ্ধতিতে দরপত্র অনুষ্ঠিত হয়। কিন্তু কার্যালয় সজ্জিতকরণে এই পদ্ধতির প্রয়োজন নেই। কারণ এটা কোনো জরুরি বিষয় নয়। এদিকে আরো পাঁচটি প্রকল্পের মাধ্যমে নতুন ভবন সজ্জিতকরণ হয়েছে। প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির (পিআইসি) মাধ্যমে এই পাঁচটি কাজ করা হয়েছে।

প্রকল্পগুলো হচ্ছে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও ইউএনওর কক্ষে টাইলস স্থাপন বাবদ প্রায় এক লাখ ৩৮ হাজার, উপজেলা প্রকৌশলীর কক্ষে টাইলস স্থাপন বাবদ এক লাখ ৩৯ হাজার, টেলিফোন লাইন স্থাপন বাবদ দুই লাখ, মাল্টিমিডিয়া ও সাউন্ড সিস্টেম স্থাপন বাবদ দুই লাখ এবং আসবাবপত্র কেনা বাবদ প্রায় দেড় লাখ টাকা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক উপজেলা পরিষদের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা বলেন, ‘যাচাই করলে প্রকল্পগুলোতে মোটা দরে ফাঁকিবাজির প্রমাণ পাওয়া যাবে। আমার হিসাবে ৩০ শতাংশ কাজও হয়নি। ফাঁকিবাজির জন্যই অস্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় দরপত্র করা হয়েছে। এরা কেউ তাদের কক্ষে এয়ার কন্ডিশনার স্থাপন করার এখতিয়ার রাখেন না। এটা করতে পারেন কমপক্ষে চতুর্থ গ্রেডের কর্মকর্তারা। তাঁরা কেউ তা নন।’

এদিকে ২০১৭-১৮ অর্থবছরে উন্নয়ন খাতে ২০ লাখ টাকার একটি বরাদ্দে একই ধরনের অনিয়ম হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। উপজেলা পরিষদের আবাসিক জুঁই, রজনীগন্ধা, গোলাপ এবং পুরনো পরিষদ ভবন মেরামত বাবদ এই টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। এ ক্ষেত্রে কোনো বিজ্ঞপ্তি না দিয়ে আরএফকিউ পদ্ধতিতে ঠিকাদার নিয়োগ দেওয়া হয়।

এ বিষয়ে সাটুরিয়া উপজেলা প্রকৌশলী রনজিৎ দে বলেন, ‘আমার আসার আগে এই দরপত্রগুলো হয়েছে। ফলে এ সম্পর্কে কিছু জানা নেই। কাজের ফাইলও উপজেলা চেয়ারম্যান নিয়ে গেছেন।’ তবে তিনি জানান, কাজগুলোর দরপত্র প্রচলিত নিয়মে হওয়া উচিত ছিল। এমন কোনো জরুরি কাজ নয় যে আরএফকিউ পদ্ধতিতে হতে হবে। তিনি বলেন, ‘উপজেলা চেয়াম্যান, ইউএনও এবং প্রকৌশলীর কক্ষে এয়ার কন্ডিশনার বাসানোর এখতিয়ার নেই।’

কয়েকটি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, জনসাধারণের কাছ থেকে রাজস্ব আদায় করে সেই টাকায় কর্মকর্তাদের কক্ষ সজ্জিত করা কতটুকু যুক্তিসংগত, তা ভেবে দেখতে হবে।

এসব বিষয় নিয়ে মুঠোফোনে কথা হয় ইউএনও নাহিদ ফারজানা সিদ্দিকীর সাথে। তিনি জানান, ইউএনও’র মাধ্যমে ফাইলের চুড়ান্ত অনুমোদন দেয় উপজেলা চেয়ারম্যান। টেন্ডার হওয়া না হওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয় উপজেলা প্রকৌশল অফিস।

সাটুরিয়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান বসির উদ্দিন ঠান্ডু বলেন, ‘উপজেলা পরিষদকে পাশ কাটিয়ে এসব দরপত্র করা হয়েছে। তবে ইউএনও এবং প্রকৌশলীর অনুরোধে দরপত্রের কোনো কোনো কাগজে আমি স্বাক্ষর করেছি। অনিয়মের বিষয় জানার পর সব ফাইল আমার হেফাজতে এনেছি। পরীক্ষা করে ব্যবস্থা নেব।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here