ঝিনাইদহের হরিণাকুন্ডু ও কালীগঞ্জ চলমান এইসএসসি পরীক্ষা উপেক্ষা করে মেলার নামে জুয়া আসর,প্রশাসন নির্বিকার!

0
23


জাহিদুর রহমান তারিক, ঝিনাইদহঃ
চলমান এইচ,এস,সি পরিক্ষার মধ্যেও ঝিনাইদহের হরিণাকুন্ডু উপজেলার ভবানীপুর বাজারে ও কালীগঞ্জের রেল গেটে রমরমা জুয়ার আসর চলছে। মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে প্রশাসন দেখেও না দেখার ভান করছে। জানা যায়, গত ১৬ এপ্রিল থেকে শুরু হওয়া ভবানীপুর বাজারের বৈশাখী মেলায় চলছে উন্মুক্ত স্থানে জুয়া ও র‌্যাফেল ড্র। সকালে থেকে গভীর রাত পর্যন্ত উচ্চ শব্দে উপজেলা ও আশপাশ এলাকায় অকর্ষণীয় মাইকিং করে মেলার প্রচার করা হচ্ছে। উঠতি বয়সের যুবকরা ভোর রাত পর্যন্ত ভিড় জমাচ্ছে যাত্রা প্যান্ডেল ও জুয়ার আসরে। জুয়ার নাম পাল্টিয়ে রাখা হয়েছে বউরানী খেলা। এরই পাশাপাশি চলছে মানুষ ঠকানো দৈনিক বিকাশ র‌্যাফেল ড্র নামের প্রকাশ্য জুয়া।

এ ঘটনায় এলাকার অভিভাবক মহলসহ সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে। এলাকার বাইরে থেকে যাত্রা দলে আসা মেয়েরা আয়োজক কমিটি ও এলাকার যুবকদের কাছে জিম্মি হয়ে ভোগের পাত্রী হচ্ছে। যাত্রা প্যান্ডেলের অপরদিকে পান বরজে বসানো হয়েছে র‌্যাফেল ড্র ও জমজমাট জুয়ার আসর। আয়োজকরা এতই বেপরোয়া যে নামাজের সময় পর্যন্ত মাইক বন্ধ করছে না। লটারীর নামে গ্রামগঞ্জে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে র‌্যাফেল ড্র’র প্রচার মাইক। এ নিয়ে মানুষ ক্রমশ ক্ষুদ্ধ হয়ে উঠেছে। মেলা হচ্ছে গ্রামবাংলার ঐতিহ্য। কিন্তু মেলার অনুমতি নিয়ে মুলত জুয়া খেলাকেই প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে। এলাকার যুবসমাজ র‌্যাফেল ড্র’র ফাঁদে পড়ে নিঃস্ব হচ্ছে। সেখানে বসানো হয়েছে ২টি বৌরানী নামক জোয়ার বোর্ড। যেখানে প্রতিদিন লক্ষ লক্ষ টাকার জুয়া খেলা হয়। আর এই জুয়ার আসরে ভিড় করছে উঠতি বয়সের স্কুল কলেজগামী তরুনেরা।

অভিভাবক মহল চরম ক্ষোভের সুরে জানান, উঠতি বয়সী কলেজ পড়ুয়া শিক্ষার্থী আর গ্রাম্য যুবকের আড্ডায় জমে ওঠা গভীর রাত পর্যন্ত মেলা প্রাঙ্গন এখন শুধুই রমরমা জুয়ার আসর। এর ফলে এলাকার এইচএসসি শিক্ষার্থীদের লেখাপড়া লাঠে উঠেছে। যুব সমাজকে গ্রাস করছে অবক্ষয়ের নীল ছোবল। সমাজবিরোধী কাজ পরিচালিত হলেও নগদ নারায়নে তুষ্ট হরিণাকুন্ডু উপজেলা প্রশাসন। অর্থলোভীরা মেলার নামে যাত্রা ও জুয়ার আসর বসিয়ে এলাকায় চুরি, ডাকাতি ও ছিনতাইয়ের মত ঘৃন্য কাজের সুযোগ সৃষ্টি করছে। আয়োজক কমিটির সদস্য বীর বসির আহমেদ জানান, বিচিত্রা অনুষ্ঠানের কথা না বললে মেলার প্রশাসনিক অনুমতি মেলেনা। মেলার অনুমোদন করতে ডিসি অফিস, এসপি অফিস, ইউএনও অফিস ও থানায় অনেক টাকা লাগে।

এজন্য জুয়া ও র‌্যাফেল ড্র না চালালে পোষায় না। প্রতি রাতে প্রশাসনিক খরচ অনেক টাকা। তাই দুইটি বউরানী জুয়ার বোর্ড বাবদ প্রতি রাতে ৬০ হাজার, র‌্যাফেল ড্র বাবদ ৬০ হাজার ও যাত্রা বাবদ ৪০ হাজার সর্বমোট ১ লাখ ৬০ হাজার টাকার বিনিময়ে মেলার মাঠ বহিরাগত এক পার্টির কাছে বিক্রয় করা হয়ছে। সে বীরদর্পে আরো জানায়, প্রতিদিন প্রশাসনের অনেক টাকার বিনিময়ে জুয়ার বোর্ড চালায়, ১০টা প্রত্রিকায় রিপোর্ট করেও কোনো লাভ নেই। অনুমোদন থাকাকালীন কেউ এই মেলা ও জুয়ার বোর্ড বন্ধ করতে পারবেনা।

এ বিষয়ে হরিণাকুন্ডুবাসী ভবানীপুর বাজারে মেলার নামে চলা জুয়া ও র‌্যাফেল ড্র বন্ধে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। হরিণাকুন্ডু থানার অফিসার ইনচার্জ কে এম শওকত হোসেন মুঠোফোনে জানান, মেলায় জুয়া চললে তার বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাইফুল ইসলাম জানান, জুয়ার বিষয়টি খুবই আপত্তিকর, র‌্যাফেল ড্র’র কথা শুনেছি। আপনারও খবর নেন। আমিও নিচ্ছি। তারপর কি ব্যবস্থা নেওয়া যায় দেখছি।

এদিকে, কয়েকদফা প্রাকৃতিক দুর্যোগে মানুষের দশা যখন কাহিল, তখন বৈশাখী মেলার নামে অশ্লিলতা ও জুয়ার আসরে গ্রামের মানুষ আরো ফতুর হয়ে যাচ্ছে। আয়োজকরা এতই বেপরোয়া যে নামাজের সময় পর্যন্ত মাইক বন্ধ করছে না। লটারীর নামে গ্রামগঞ্জে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে র‌্যাফেল ড্র’র প্রচার মাইক। এ নিয়ে মানুষ ক্রমশ ক্ষুদ্ধ হয়ে উঠেছে। কিন্তু মেলার অনুমতি নিয়ে মুলত জুয়া খেলাকেই প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে।

অভিযোগ পাওয়া গেছে, ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ পৌরসভার ব্যানারে সেখানকার কাশিপুর রেলওয়ে মাঠে চলছে বৈশাখী মেলা। অথচ বৈশাখী মেলার অনুমতি নিয়ে নীতি নৈতিকতাকে বিসর্জন দিয়ে মেলার মাঠের বাইরে চরকা, ওয়ানটেন ও ফোরগুটির ঘর বানানো হয়েছে। রিয়াজ নামে এক জুয়াড়ি এই কোর্টের মালিক। তিনিই জুয়া খেলা চালিয়ে যাচ্ছেন বলে অভিযোগ।

বিষয়টি নিয়ে কালীগঞ্জ পৌরসভার প্যানেল মেয়র আশরাফুল আলম অভিযোগ খন্ডন করে বলেন, প্রতি বছর বৈশাখী মেলা হয়। এবারো হচ্ছে। আমি আয়োজকদের কঠোর ভাবে বলেছি কোন ধরণের জুয়া ও লটারি খেলা হবে না। জুয়া ও লটারি চল্লে­তিনি নিজেই মেলা ভেঙ্গে দিবেন বলে জানান। তিনি আরো জানান, আগে হয়তো চল্লেও এখন আর চলছে না। তবে প্যানেল মেয়রের এই বক্তব্য নেওয়ার পর রাতে সাংবাদিকদের একটি বিশেষ টিম গোপনে জুয়া খেলার দৃশ্য ক্যামেরাবন্দি করেন।

কালীগঞ্জ থানার ওসির বক্তব্য নিতে তার মুঠোফোনে কল করা হলে ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়। ঝিনাইদহ সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপারকে ফোন দিলে তিনিও ফোন ধরেন নি। বিষয়টি নিয়ে র‌্যাব-৬ এর অধিনায়ক খোদাদাদ জানান, আসলে মেলার অনুমতি দেন জেলা প্রশাসক। তারপরও আমরা অনুসন্ধান করে দেখছি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here