‘রুমের বেঞ্চ তছনছ করবা যে শিক্ষক খাতা নিয়ে আসবে তার নাক ফেটে দিবা’

0
83


শাহিনুর ইসলাম প্রান্ত, লালমনিরহাট প্রতিনিধি:
‘তোমরা আগে ইউএনওকে একটা অভিযোগ দিবা, পরীক্ষা হলে গিয়ে রুমের বেঞ্চে তছনছ করবা। যে শিক্ষক খাতা নিয়ে আসবে তার নাক ফেটে দিবা’। লালমনিরহাটের পাটগ্রাম সরকারি জসিমুদ্দিন কাজী আবদুল গনি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হাবিবুর রহমানের ‘উসকানিমূলক’ একটি অডিও ফাঁস হয়ে গেছে, যাতে এসব কথা শোনা যায়। চলমান এইচএসসি পরীক্ষায় ওই কলেজের শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি বসতে না দেয়ার কারণে শিক্ষার্থীদের উসকানি দেয়ার এ অডিও নিয়ে জেলাজুড়ে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে।

জানা গেছে, অধ্যক্ষের উসকানিতে ওই কলেজের পরীক্ষার্থীরা পাটগ্রাম মহিলা কলেজ এইচএসসি কেন্দ্রে গিয়ে গত বৃহস্পতিবার কক্ষ তছনছ করেছে। পাশাপাশি ব্যাপক বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে তারা। শেষ পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের শান্ত করে ওইদিনের পরীক্ষা সম্পন্ন করা হয়। তবে এ নিয়ে ফাঁস হওয়া অডিও বক্তব্যসহ ইউএনও এবং সংশ্লিষ্টদের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন পাটগ্রাম মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ ও কেন্দ্র সচিব মিজানুর রহমান নিলু। পাশাপাশি তিনি থানায় জিডি করেছেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডের সচিব প্রফেসর আমিনুল হক সরকারের নেতৃত্বে একটি তদন্ত টিম রোববার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে।

জানা যায়, চলতি বছর পাটগ্রাম উপজেলায় দুটি পৃথক কেন্দ্রে এইচএসসি পরীক্ষা চলমান রয়েছে। এর মধ্যে একটি হল পাটগ্রাম সরকারি কলেজ ও অপরটি মহিলা কলেজ কেন্দ্র। বিধি মোতাবেক সরকারি কলেজের শিক্ষার্থীরা মহিলা কলেজে আর মহিলা কলেজের শিক্ষার্থীরা সরকারি কলেজ কেন্দ্রে গিয়ে পরীক্ষা দিচ্ছে। শিক্ষা বোর্ডের পরিপত্র অনুযায়ী, ৫ ফুটের নিচের বেঞ্চে একজন এবং ৬ ফুট বেঞ্চে দু’জন করে বসিয়ে পরীক্ষা নিচ্ছে মহিলা কলেজ কেন্দ্রের সচিব।

কিন্তু ওই কেন্দ্রের সাড়ে ৩ ফুট দৈর্ঘ্যরে বেঞ্চে একজন করে বসিয়ে পরীক্ষা নেয়ার কারণে নাখোশ হয়ে উঠেছে পাটগ্রাম সরকারি কলেজের শিক্ষার্থীরা। বিষয়টি নিয়ে তারা বুধবার নিজ কলেজের অধ্যক্ষ হাবিবুর রহমানের বাসায় যায়। এ সময় অধ্যক্ষ হাবিবুর রহমান তার শিক্ষার্থীদের উসকানিমূলক বক্তব্য দেন। তিনি শিক্ষার্থীদের বলেন, ‘তোমরা আগে ইউএনওকে একটা অভিযোগ দিবা, পরীক্ষা হলে গিয়ে রুমের বেঞ্চে তছনছ করবা। যে শিক্ষক খাতা নিয়ে আসবে তার নাক ফেটে দিবা। শোন এখন তোমরা এই কাজগুলো করবা।’

এ প্রসঙ্গে পাটগ্রাম সরকারি জসিমুদ্দিন কাজী আবদুল গনি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হাবিবুর রহমানের কাছে জানতে চাইলে কোনো কথা বলতে রাজি হয়নি তিনি।

পাটগ্রামের ইউএনও নুর কুতুবুল আলম জানান, আমি এ সংক্রান্ত সকল অভিযোগ জেলা প্রশাসক বরাবর প্রেরণ করেছি। তিনি দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডে প্রেরণ করছেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here