আলতা রঙের নিষিদ্ধ দাগ !

0
130

কবি মীনা উজ্জলের আলতা রঙের নিষিদ্ধ দাগ বইটি কিনে ছিলাম বই মেলা থেকে। বইটি প্রকাশ করেছে প্রকাশক সাঈদ বারী’র সূচীপত্র প্রকাশন। আর ভিতরের কাহিনী মলাটে ফুটাতে যথাসাধ্য চেষ্টা করেছেন তরুন প্রজন্মের প্রচ্ছদ কারক রাগীব আহসান। নির্ভুল বানান,১০০% কোয়ালিটি হোয়াইট পেপারের ৪৯ টি কবিতা জায়গা নিয়েছে ৭-৬৪ পৃষ্ঠা পর্যন্ত।বহু প্রতীক্ষা আর আশা ভালোবাসার এ বইটি কবি উৎসর্গ করেছেন আমারই প্রিয় ব্যক্তিত্ব কবির গুরু বিশিষ্ট কবি ও ছড়াকার আতিক হেলালকে।

আতিক হেলাল যে একজন মীনা উজ্জলকে কতদূর এগিয়ে দিয়েছেন তার উদাহরণ হতে পারে আলতা রঙের নিষিদ্ধ দাগ,আর, আর শ্রদ্ধেয় আতিক হেলাল প্রমানিত এ প্রজন্মের এ ক্যাটাগরির একজন কনসালটেন্ট হিসাবে।বইটি

লেখা বা প্রকাশে কবির বুকের ধন কিশোর পুত্র উল্লাসের ভূমিকাও কম নয়।কিশোর পুত্র মেধাবী উল্লাস ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন ছাত্র, তার নিয়মিত/অনিয়মিত কিছু লেখা কবির সম্মুখে আসলে কবি অবাক হয়ে যান, কারনটা হলো এই যে কিশোর পুত্র উল্লাস এত সুন্দর সুন্দর লিখেন অথচ সে এতটাই প্রচার বিমুখ যে কেউ কখনো জানেই না সে লেখা লেখি করে।কবির ভালো লাগা আবিষ্কার হলো, কবি লিখে ফেললেন না বলা কথা। বন্ধুদের উৎসাহ,প্রেরণা পরামর্শ আর ভালোলাগা একটি বই হয়ে বের হলো ফ্রেবুয়ারী ১৮ তে। ভালোলাগা ভালোবাসায় বইটি কিনেছিলাম আমিও।

আলতা রঙের নিষিদ্ধ দাগ কবি মীনা উজ্জল প্রণয়,আবেগ আর জীবনের কতো কথা লিখলেন ছন্দে ছন্দে যা নব্য লেখক হিসাবে অসম্ভব প্রায়।কবিতার ভাজে ভাজে কবিকে বার বার অভিজ্ঞ একজন লেখক হিসাবেই মনে হয়েছে।একলা আমিতেই কত প্রভাত যে কেটে গেছে কবির।নিখোঁজ সংবাদের পাতার পরেও কিংবা ফলাফল শূন্যেও কবি প্রিয়তমকে করেছে বিজয়ী। হারেই জাগরণের স্বপ্ন প্রাপ্তি শীকার করেছে
কবি।কবি না কি আবার নামহীনা ঘাসফুল,আবার কবির আছে মৌনতার পাহাড়। মানে অভিমানে যে প্রণয়ের মিলামেশা আর কেমিস্ট্রি কবি দেখিয়েছেন। আলতা রঙ ধুয়ে নিষিদ্ধ দাগ কেটে আমি সেখানে না হয় রংধনু এঁকে দিলাম।আমি একটু কষ্টই পেয়েছি, কবি বড় বেসামাল, তাইতো প্রিয়তমকে অনুরোধ, খুঁজো না আমায় অনুরোধ।

আহা! কত গভীর সে অভিমান।মুখ নয় বুকের ভীতরই যেন সৃষ্টির উল্লাসে তৈরি ভাষার প্রকাশন।আবার একটু আশা দেখে ভালোও লেগেছে বিষাদের খেলায় মাতে জীবন্ত স্বপ্নগুলো একটি শেষ বিশ্বস্ত চুম্বনের নেশায়।মাঝে মাঝে কবি কল্পনার জগৎ ভ্রমন করেছেন ইচ্ছা কিংবা শখে, চাঁদের বুড়ি হিংসা আর রাগে কবির উপর ক্ষোভ ঢালতো! কবি সব দিয়ে দিতেও রাজি তাই চুপি চুপি, শব্দ না করে এসে সব নিয়ে যেতে বলেছে।ইশ! কতটা প্রেম কতটা গভীর ভালোবাসা! নারী জীবনে সতীত্ব আর মাতৃত্বের পরীক্ষার কথা কবি বলেছেন বিক্ষত, নির্যাতিত অসহায় বেদনা সুরে তা কি জীবন বেদনার না কী নারী কূলের জন্য ভবিষ্যৎ কিংবা সতর্ক আবার না কি পরামর্শ তা অস্পষ্ট।তবে আমরা জানি এবং মানি লেখকের লেখা মাত্রই জীবনী নয়।মরেও মরতেই ফিরে আসে কবি, ফিরে চায় বার বার শতবার জন্ম যেন যে তার হাজার মরণে।তবে ধর্মের কল বাতাসে যে নড়েনা তা কবি স্পষ্ট করেছেন জোর বজ্রকন্ঠে আর আতœবিশ্বাসে।

শেষ কিছু কথা , একটি কবিতা স্বার্থক হয়ে উঠে তখনই, যখন এটি জীবনের অদেখা অংশকে আমাদের সামনে দৃশ্যমান করে তুলতে পারে। সেদিক থেকে এই বইয়ের প্রতিটি কবিতাই সফল ও স্বার্থক। পাঠক প্রতিটি কবিতায়ই নতুন স্বাদ খুঁজে পাবেন বলে আমার বিশ্বাস। অধিকাংশ কবিতাই আধুনিক কবিতার প্রচলিত ধারা থেকে আলাদা। যদিও কিছু কবিতায় গত শতাব্দীর মধ্যভাগে রচিত কবিতার রীতি অনুসরণ করা হয়েছে বলে মনে হয়েছে। এতে কবিতার সৌন্দর্য্য বেড়েছে বৈ কমেনি। বইয়ের প্রেমের কবিতাগুলোর কথা আলাদা করে না বললেই নয়। একেকটি কবিতা যেন একেকটি মহাকাব্যের কাব্যিক সারাংশ। কবির কিছু কবিতায় প্রাচীন বুলগেরিয়ান

সাহিত্যের ছাপ আছে। জীবনানন্দের কবিতারও ছাপ আছে কিছুটা। কবিকে এসব ব্যাপারে সচেতন হতে হবে। কারণ নিজস্বতা একজন সফল কবির অন্যতম বৈশিষ্ট্য। পরিশেষে বলা যায়, সমসাময়ীক বাংলা সাহিত্যে কবিতার যে খরা চলছে তার মাঝে দাঁড়িয়ে এই অনবদ্য বইটি কাব্যের জয়গানই উচ্চারণ করবে।