চাঁপাইনবাবগঞ্জে কালবৈশাখী ঝড় ও শিলাবৃষ্টিতে ব্যাপক ক্ষয়-ক্ষতি

0
111

চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি ॥ সোমবার ভোরে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার উপর দিয়ে বয়ে যাওয়া কালবৈশাখী ঝড় ও শিলাবৃষ্টিতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ভোর ৫টা থেকে সকাল ১০টা পর্যন্ত দফায় দফায় বয়ে যাওয়া ঝড় ও শিলাবৃষ্টিতে জেলার প্রধান অর্থকরি ফসল আমের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। ছোট ছোট আমসহ গাছের কাঁচা পাতা পর্যন্ত ঝরে গাছের নিচে স্তুপ জমে যায়। শিলাপাথরও স্তুপ আকারে জমা হয় মাঠে-ময়দানে ও রাস্তায়, বাগানে ও বাড়ি ছাড় এবং আঙিনায়। শিলাবৃষ্টিতে ঘরের ঢেউটিন ছিদ্র হয়ে যায়। ক্ষতি হয়েছে ধান ক্ষেতেরও। মূলত ঝড়ে ব্যাপক পরিমানে ক্ষতি হয়েছে জেলার শিবগঞ্জ, গোমস্তাপুর ও ভোলাহাট উপজেলায়। ঝড়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলাতেও বেশ কিছু ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

শিবগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, জেলার শিবগঞ্জ উপজেলায় সোমবার ভোরে অন্ধকার হয়ে ঘন-কালো মেঘ নেমে আসে। কাল বৈশাখী শুরু করে তান্ডব। তান্ডবে উপজেলার রসোনামসজিদ, মনাকষা, দাইপুকুরিয়া, কানসাট, বিনোদপুর, দূর্লভপুর, চককীর্ত্তি, মোবারকপুরসহ উপজেলার বিভিন্ন স্থানে কালবৈশাখী ঝড়ের সাথে শুরু হয় ছোট বড় শিলাবৃষ্টি। এতে একদিকে আম ফল ও গাছের ব্যাপক ক্ষতি হয়, অন্যদিকে কৃষকদের ক্ষেতের পাঁকা ধান নষ্ট হয়ে যায়। ঝড়ে উড়ে গেছে অনেক টিনের ঘর-বাড়ি, কোথাও কোথাও উপড়ে পড়েছে আম গাছসহ অন্যান্য গাছও। এর আগেও ঝড় ও শিলাবৃষ্টিতে উপজেলায় ক্ষয় ক্ষতি হয়।

গোমস্তাপুর প্রতিনিধি জানান, জেলার গোমস্তাপুরের বিভিন্ন স্থানে কালবৈশাখী ঝড় ও শিলাবৃষ্টিতে কোটি কোটি টাকার ক্ষয়-ক্ষতি হয়েছে। সোমবার ভোর ৫টা থেকে সকাল ১০টা পর্যন্ত দফায় দফায় কালবৈশাখী ঝড়, বজ্রপাত আর শিলাবৃষ্টি হতে থাকে। এতে গোমস্তাপুর, চৌডালা, বোয়ালিয়া ইউনিয়ন, রহনপুর পৌরসভার আংশিক, রহনপুর (নন্দীপুর) ইউনিয়নে আংশিক, গোমস্তাপুর ইউনিয়নের কৃষক সাইফুল ইসলাম জানান, শিলাবৃষ্টিতে তার ধান ক্ষেতের এত বেশি ক্ষতি হয়েছে যে, তার ধান শ্রমিকরা আর কেটে দিবে না বলে জানিয়েছে।


কালবৈশাখী ঝড় ও শিলা বৃষ্টিতে গাছের আম তো দূরে থাক, কোন কোন গাছের পাতা, ছাল পর্যন্ত নেই। এই ঝড় ও শিলাবৃষ্টিতে আম ব্যবসায়ী ও কৃষকের মেরুদন্ডই ভেঙ্গে দিয়েছে। ভোলাহাট প্রতিনিধি জানান, ভোলাহাটে সোমবার সকাল ৬টার দিকে শিলাবৃষ্টিতে পাকা ধান, আম ও বাড়ী-ঘরের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। উপজেলার জামবাড়ীয়া ও আলালপুর এলাকায় প্রায় ৭৫ শতাংশ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানা গেছে।

জামবাড়ীয়া ইউপি চেয়ারম্যান মুশফিকুল ইসলাম জানান, সোমবার সকালের শিলাবৃষ্টি ও কালবৈশাখী ঝড়ে পাকা ধান ও আমের ৭৫ শতাংশ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে জামবাড়ীয়া ইউনিয়নে। এছাড়া ৫০ শতাংশ কাঁচা বাড়ী-ঘর নষ্ট হয়ে গেছে। ভোলাহাট উপজেলা চেয়ারম্যান অধ্যাপক আনোয়ারুল ইসলাম জানান, আলালপুর এলাকায় প্রায় ৬০শতাংশ পাকা ধান ও আমের ক্ষতি হয়েছে। বাড়ী-ঘরের তেমন ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। ধানচাষী জামিল বলেন, তাদের ১০ বিঘা জমিতে বোরো ধান কাটার মত হয়েছিলো। কিন্তু স্বর্বনাশা শিলাবৃষ্টি ও কালবৈশাখী ধানের ক্ষয়ক্ষতি করায় পথে বসে যেতে হয়েছে।

আম ব্যবসায়ী ইসমাইল হোসেন বলেন, তার আম বাগানে গিয়ে তিনি হতাশ হয়ে পড়েছেন। একদিনের শিলাবৃষ্টিতে তাকে পথে বসিয়ে দিয়েছে। তার আমের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। জেলায় ঝড় ও শিলাবৃষ্টিতে ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে জানতে চাইলে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের জেলা প্রশিক্ষন কর্মকর্তা সামস ই তাবরিজ বলেন, জেলায় ঝড় হয়েছে, তবে তেমন ক্ষতি হয়নি। ক্ষয়ক্ষতির পরিমান জানার জন্য মাঠ পর্যায়ে কাজ করছে কৃষি কর্মকর্তারা।

সোমবার ভোরে জেলায় ঝড় ও শিলাবৃষ্টিতে আম, ধান ও ঘরবাড়ির ব্যাপক ক্ষতি হলেও জেলার কৃষি অফিসের কর্মকর্তারা জ্ঞাত নয়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here