খালেদা জিয়ার মুক্তি দিয়ে সু-চিকিৎসার ব্যবস্থা করার দাবি জানালেন নজরুল ইসলাম খান

0
78


স্টাফ রিপোর্টার :
বাংলাদেশের গণমানুষকে বৈষম্য নিপীড়ন এবং অধিকারহীনতা থেকে মুক্ত করতে অধিক সংখ্যাক জনগণকে সুসঙ্গত করে আন্দোলন-সংগ্রামে সম্পৃক্ত করার আহবান জানিয়েছেন, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান। তিনি বলেন, আজকে বিষয় একটাই তা হলো গণমানুষকে বৈষম্য নিপীড়ন এবং অধিকার হারা থেকে মুক্ত করা আর পথও একটাই সেটা হলো গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা এই কঠিন কাজটি এই অতি দরকারি কাজটি এই অনিবার্য কাজটি করতে হলে, জনমতকে সুসঙ্গত করুন অধিক সংখ্যায় জনগণকে আন্দোলন-সংগ্রামে সম্পৃক্ত করুন যাতে প্রয়োজনে গণ অভ্যুত্থান ঘটাতে পারি।

সোমবার (৩০এপ্রিল ২০১৮) দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবে গণতান্ত্রিক ফোরাম কেন্দ্রীয় কমিটি কতৃক আয়োজিত এক প্রতিবাদ সভায় এসব কথা বলেন। গণতান্ত্রিক ফোরাম কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি ও শরীয়তপুর-১ (পালং-জাজিরা) আসনে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী হাজী মোজাম্মেল হক মিন্টু সওদাগরের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম শফিকের সঞ্চালনায় প্রতিবাদ সভায় আরও বক্তব্য দেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু, যুগ্ম-মহাসচিব ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দীন খোকন, প্রশিক্ষণ বিষয়ক সম্পাদক এবি এম মোশাররফ হোসেন, নির্বাহী কমিটির সদস্য আবু নাসের মোহাম্মাদ রহমাতুল্লাহ, কৃষদল কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য আলিম হোসেন, সেলিম হোসেন, জিনাফের সভাপতি লায়ন মিয়া মো. আনোয়ার, কৃষদল নেতা ইঞ্জিনিয়ার হৃদয় প্রমুখ।

নজরুল ইসলাম আরও বলেন,গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা এই কঠিন কাজটি এই অতি দরকারি কাজটি এই অনিবার্য কাজটি বরাবর বিএনপি কী করতে হয়েছে এটাই বাংলাদেশের ইতিহাস। তিনি বলেন, আমরা মুক্তিযুদ্ধ করেছিলাম শুধু সার্বভৌম রাষ্ট্রের জন্য নয় একটি স্বাধীন সার্বভৌম গণতন্ত্র রাষ্ট্রের জন্য। যে রাষ্ট্রে মানুষের ওপর মানুষ নিপীড়ন করবেনা বৈষম্য থাকবে না। বিএনপির এ নেতা বেগম জিয়ার স্বাস্থ্য সম্পর্কে বলেন তিনি বলেছিলেন তার পিঠে ব্যথা এবং তার ঘাড়ে ব্যাথা। যে ব্যাথা তার পুরো হাত ও পা কে শক্ত করে ফেলে।


প্রচন্ড ব্যাথায় তিনি ঘুমাতে পারেন না। এই পর্যন্ত যতজন ডাক্তার তাকে দেখতে গিয়েছে সবাই বলেছে যে পরিবেশে তাকে রাখা হয়েছে এই পরিবেশ তাকে আরও অসুস্থ করে তুলবে। এবং জরুরি অবস্থায় তাকে এমআরআই, বিশেষ ধরনের ফিজিওথেরাপি করা দরকার এবং সেই অনুযায়ী তাকে চিকিৎসা দেয়া দরকার। কারা কর্তৃপক্ষ চিঠি দিয়েছেন কিন্তু সেই চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে কোন ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে না অথচ আজকে যিনি সরকার প্রধান তিনি যখন কারা বন্দি ছিলেন, তাকে স্কয়ার হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হয়েছিল।

কিন্তু বেগম খালেদা জিয়াকে তার পছন্দের ইউনাইটেড হাস্পাতালে চিকিৎসা করতে দেয়া হচ্ছে না এমন কি জেল কর্তৃপক্ষের সুপারিশ মানা হচ্ছে না। আমি বলতে চাই এটা রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের কোন আচরণ নয়। রাজনৈতিতে প্রতিপক্ষ থাকবে তবে রাজনীতিক প্রতিপক্ষের আচরণ হবে না। তারা পরস্পর বিরোধিতা করবে একজন অন্যজনের সমালোচনা করবে কিন্তু এমন এমন অমানবিক হবে এটা আমরা প্রত্যাশা করি না। আমরা অবিলম্বে বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি দিয়ে তাকে সুচিকিৎসার ব্যবস্থা করার দাবি জানাচ্ছি।

অন্যদিকে, আগামী ডিসেম্বর এবং জানুয়ারির মধ্যেই দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হবে এবং মিথ্যা ও সাজানো মামলায় কারাবন্দী বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া আবারও বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন দলটির ভাইস-চেয়ারম্যান ও কৃষকদলের সাধারণ সম্পাদক শামসুজ্জামান দুদু। এসময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, ‘আপনি (প্রধানমন্ত্রী) চান অথবা না চান একটা কথা আপনাকে বলি এদেশের মানুষ গণতন্ত্র প্রিয়, তারা খুব গণতন্ত্রকে পছন্দ করে। গণতন্ত্রের জন্য এদেশের মানুষ লড়াই করেছে, যুদ্ধ করেছে। এই গণতন্ত্রকে বাদ দিয়ে বাংলাদেশের মানুষ কিছু ভাবতে পারে না। সেহেতু আগামী ডিসেম্বর এবং জানুয়ারির মধ্যেই দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হবে, ফলে বিএনপি এবং ২০ দলীয় জোট ক্ষমতায় যাবে এবং দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া আবারও বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হবেন।

এভাবেই দেশের সকল সমস্যার সমাধান হবে বলে আমি বিশ্বাস করি।’শামসুজ্জামান দুদু বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্বপরিবারে নিহত হওয়ার পরে তাঁর দুটি অসহায় মেয়ে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং শেখ রেহানা যখন ভারতে আশ্রয় নিয়েছিল তখন কেউ বিশ্বাস করতে পারেননি শেখ হাসিনা একদিন দেশে ফিরে আসবেন এবং বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হবেন। তেমনিভাবে এখনও অনেকেই বিশ্বাস করতে পারছেন না বেগম খালেদা জিয়া কারাগার থেকে বের হয়ে আসবেন, তাঁর ছেলে তারেক রহমান বাংলাদেশে আসবেন এবং প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নিবেন।’

ছাত্রদলের সাবেক এই সভাপতি আরও বলেন, ‘শেখ হাসিনা যা সত্য প্রমাণিত করেছেন তারেক রহমানের জন্যও সেটি সত্য প্রমাণিত হবে। কারণটা হলো শেখ হাসিনার পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান রাষ্ট্রপতি এবং প্রধানমন্ত্রী ছিলেন, তাঁর মা প্রধানমন্ত্রী ছিলেন না।আর এদিকে আমাদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বাবা শহীদ জিয়াউর রহমান রাষ্ট্রপতি ছিলেন এবং তার মা বেগম খালেদা জিয়া তিনবারের প্রধানমন্ত্রী। সুতরাং পাল্লা তো এই (তারেক) দিকে বেশি ভারী।’

সরকারের সমালোচনা করে শামসুজ্জামান দুদু বলেন, ‘বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর আতাউর রহমান কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে কত হাজার কোটি টাকা লুটপাট করলো তার তদন্ত করতে পারলেন না। ১ হাজার কোটি টাকা ফার্মার্স ব্যাংক থেকে চুরি হয়ে গেলো, ৯৬ হাজার কোটি টাকা শেয়ার বাজার থেকে লুটপাট করা হলো সেই অপরাধীরা কোথায়? তাদের তো ঠিকানা হওয়ার কথা ছিল কেন্দ্রীয় কারাগারে।

আর যিনি দুর্নীতি বিরোধী পরিবারের আস্থার প্রতিক, সেই দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া যার থাকার কথা ছিল কারাগারের বাহিরে কিন্তু সারা বিশ্বময় তাকে একটি মিথ্যা সাজানো মামলায় আটকে রাখা হয়েছে পরিত্যক্ত একটি কারাগারে।’

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here