শরীয়তপুরে বানিশলের মে দিবস পালন

0
105

শরীয়তপুর প্রতিনিধি ঃ ভিন্ন ভিন্ন কর্মসূচির মধ্যদিয়ে শরীয়তপুরে আন্তর্জাতিক শ্রমিক (মে দিবস) দিবস পালন করেছে বাংলাদেশ নির্মাণ শ্রমিক লীগ (বানিশল)। মঙ্গলবার সকাল থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত সকল প্রকার শ্রম বন্ধ রেখে সংগঠনের ব্যানারে র‌্যালী নিয়ে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে অবস্থান করে বানিশল শ্রমিকরা।

সকাল ১০টায় জেলা প্রশাসক কাজী আবু তাহের এর অংশগ্রহনে এক বর্ণাঢ্য র‌্যালী বের হয়ে শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে কেন্দ্রী শহীদ মিনার চত্বরে এসে র‌্যালী শেষ হয়। সেখানে সংক্ষিপ্ত সমাবেস শেষে বালিশল সংগঠনের শ্রমিকগণ দাবী আদায়ের মিছিল নিয়ে শরীয়তপুর পৌরসভা অডিটোরিয়ামে অবস্থান করে। সেখানে আলোচনা সভা ও মধ্যাহ্ন ভোজের আয়োজন করা হয়।

এসময় সংগঠনের পক্ষ থেকে প্রবিন ৪ জন নির্মাণ শ্রমিককে মৃত্যু স্মৃতি স্মারক পদক ও ৫ জন শ্রমিককে নগদ অর্থ প্রদান করা হয়। পদক প্রাপ্তরা হলেন নির্মাণ শ্রমিক মো. আলী বেপারী, দুলাল হোসেন রাড়ি, সামচুল হক হাওলাদার ও শাহজাহান মোল্য। নগদ অর্থ প্রাপ্ত হলেন সিরাজ তালুকদার, আব্দুল রব মোল্যা, মো. সুলতাল ঢালী, সামচুল হক ঢালী ও জয়নাল কজী। পরবর্তীতে দুপুর ১২টার পর থেকে স্বস্ব কর্মস্থলে যোগদান করেন শ্রমিকগণ।

র‌্যালীতে অংশগ্রহন করেন আন্তঃজেলা সড়ক পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়ন, জেলা ট্রাক, ট্যাংক লরী, কাভার ভ্যান চালক শ্রমিক ইউনিয়ন, দাসার্ত্তা অটোবাইক মালিক শ্রমিক ঐক্য পরিষদ, ইমারত নির্মাণ শ্রমিক ইউনিয়ন বাংলাদেশ (ইনসাব), বাংলাদেশ শাসনতন্ত্র শ্রমিক আন্দোলন, ফারয়েজী শ্রমিক আন্দোলন সহ বিভিন্ন সংগঠনের শ্রমিকগণ।

বক্তব্যে রাখেন সংগঠনের সভাপতি নান্নু জমাদ্দার, কার্যকরি সভাপতি মরন সরদার, সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ বেপারী। তারা বলেন, পহেলা মে আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস। শ্রমিকের স্বার্থ রক্ষা এবং অধিকার আদায়ের দাবিতে সারা বিশ্বের শ্রমজীবী মানুষ ব্যাপক কর্মসূচি পালন করে থাকে। ১৮৮৬ সালের পহেলা মে শিকাগোর রাজপথে ঘটে যাওয়া ঘটনাবলি থেকে এ দিবসের উৎপত্তি।

সেদিন আট ঘন্টা শ্রম, মজুরি বৃদ্ধি, কাজের উন্নত পরিবেশ ইত্যাদি দাবিতে শ্রমিক সংগঠন ধর্মঘটের ডাক দিয়েছিল। অত্যন্ত বর্বরপন্থায় সেদিন ধর্মঘট দমন করা হয়। এতে ১১ জন শ্রমিক প্রাণ হারান। আজ শ্রমিকের অধিকার অনেকাংশে বাস্তবায়িত হয়েছে। শ্রমিকরা সেদিনই শ্রমের মর্যাদা পাবে যেদিন শ্রমিকের ন্যয্য অধিকার ও যথাযথ মর্যাদা পাবে। আজও অনেক ক্ষেত্রে শ্রমিকরা অবহেলিত রয়েছে। তাদেরও অধিকার আদায়ের আন্দোলনে যোগ দিতে হবে।