ভারতের তিন রাজ্যে ১১৬ জনের মৃত্যু

0
14

ভারতের উত্তরাঞ্চলীয় রাজ্য রাজস্থান, উত্তর প্রদেশ ও উত্তরাখণ্ডে শক্তিশালী ধূলিঝড়, ব্যাপক ঝড়বৃষ্টি ও বজ্রপাতে ১১৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। আহতের সংখ্যা আড়াই শতাধিক।

কর্তৃপক্ষের আশঙ্কা, মৃতের সংখ্যা আরো বাড়তে পারে। বেশির ভাগ মৃত্যুর ঘটনাই ঘটেছে ঘরবাড়ি বা গাছের নিচে চাপা পড়ে।

গত বুধবার সন্ধ্যারাত থেকে হঠাৎ করেই প্রচণ্ড গতির ধূলিঝড় ও বজ্রপাত শুরু হয়। এর পরই নামে প্রবল বৃষ্টি। প্রাকৃতিক এই দুর্যোগে বহু ঘরবাড়ি ধসে পড়েছে, অনেক বাড়িঘরের চাল উড়ে গেছে, গাছপালা ভেঙে গেছে বা উপড়ে পড়েছে, অনেক স্থানে বিদ্যুৎ সংযোগও বিচ্ছিন্ন হয়েছে। এই ঝড়বৃষ্টিতে উত্তর প্রদেশে ৬৫ জন, রাজস্থানে ৩৩ জন এবং উত্তরাখণ্ডে দুজন মারা যাওয়ার বিষয়টি স্থানীয় প্রশাসন নিশ্চিত করেছে। এর মধ্যে উত্তর প্রদেশের শুধু আগ্রাতেই ৪৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। উত্তরাখণ্ডের চামোলিতে ভূমিধসের খবরও পাওয়া গেছে।

দুর্যোগে নিহতদের প্রতি গভীর সমবেদনা প্রকাশ করেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।

সংকট মোকাবেলায় রাজ্য সরকারগুলোকে সহায়তার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে বলেও তিনি জানিয়েছেন।

উত্তর প্রদেশ ও রাজস্থানের মুখ্যমন্ত্রী নিহত প্রত্যেকের পরিবারকে চার লাখ টাকা ও আহত প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।

সরেজমিনে ঘুরে আসা স্থানীয় সাংবাদিকরা জানিয়েছেন, এই প্রাকৃতিক দুর্যোগের আঘাতে ওই তিন এলাকার স্বাভাবিক জনজীবন কার্যত স্তব্ধ হয়ে পড়েছে। ধ্বংসের চেহারা ক্রমেই ভয়াবহ আকার নিচ্ছে।

সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে উত্তর প্রদেশের আগ্রা। এ ছাড়া বিজনৌর, বেরিলি, সাহারানপুর, পিলিভিট, ফিরোজাবাদসহ অনেক জেলাই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ জেলা প্রশাসনকে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় উদ্ধারকাজ চালানোর নির্দেশ দিয়েছেন। ক্ষতিগ্রস্ত জেলাগুলোতে যাতে দ্রুত ত্রাণসামগ্রী পৌঁছে দেওয়া যায়, সে নির্দেশও দিয়েছেন তিনি।

রাজস্থান রাজ্যের কয়েকটি অংশে তীব্র দাবদাহ চলছিল কয়েক দিন ধরেই। এ সময় কোটা অঞ্চলসহ কোনো কোনো জায়গায় তাপমাত্রা সর্বোচ্চ ৪৫ দশমিক ৪ ডিগ্রি পর্যন্ত রেকর্ড করা হয়।

বুধবার সন্ধ্যায় হঠাৎ করেই পূর্বাঞ্চল দিয়ে বয়ে যাওয়া তীব্র ধূলিঝড়ে আলওয়ার, ধোলপুর ও ভরতপুর জেলা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এসব জেলার ঘুমিয়ে থাকা লোকজনের ওপর ঘরের ছাদ ধসে পড়ে বেশির ভাগের মৃত্যু হয়। ধোলপুরে বজ্রপাতে একটি গ্রামের ৪০টি ঘর পুড়ে যায়। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী বসুন্ধরা রাজে দ্রুত উদ্ধারকাজ চালাতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দিয়েছেন। আওয়াল জেলায় গাছ উপড়ে বিদ্যুতের খুঁটি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর বুধবার রাত থেকে জেলাটি বিদ্যুত্হীন অবস্থায় রয়েছে।

গতকাল জেলার সব স্কুল-কলেজে ছুটি ঘোষণা করা হয়। সবচেয়ে বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে ভরতপুর জেলায়, এখানে মারা গেছে ১২ জন।

উত্তরাখণ্ডে মেঘভাঙা বৃষ্টিতে ভেসে গেছে বহু এলাকা। বিশেষ করে চামোলি ও উত্তরকাশী জেলার অসংখ্য ঘরবাড়ি পানির তোড়ে ভেসে গেছে। এ রাজ্যে ভূমিধসের ঘটনাও ঘটেছে। প্রায় একই সময়ে দিল্লিতেও ধূলিঝড় ও পরে ভারি বৃষ্টিপাত হয়েছে। তবে দিল্লি থেকে তেমন কোনো ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।

আবহাওয়া বিভাগ জানিয়েছে, স্থানীয় সময় বিকেল ৪টা ৪৫ মিনিটে হঠাৎ করে ঘণ্টায় ৫৯ কিলোমিটার বাতাসের বেগ নিয়ে একটি ঝড় শহরটির ওপর আছড়ে পড়ে। হঠাৎ করে শুরু হওয়া ঝড়টি মাত্র কয়েক মিনিট স্থায়ী হলেও এতে দুটি আন্তর্জাতিক ফ্লাইটসহ ১৫টি ফ্লাইটের অবতরণ বিঘ্নিত হয়। উত্তর প্রদেশ, রাজস্থান ও উত্তরাখণ্ডের প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের প্রভাবে পাঞ্জাব ও হরিয়ানাতেও বিদ্যুেসবা বিঘ্নিত হয়।

সূত্র : এনডিটিভি, আনন্দবাজার, বিবিসি, এএফপি।

#বাংলাটপনিউজ/আরিফ

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here