সাটুরিয়ায় আকাশে মেঘ করলেই লোডশেডিং

0
45

আব্দুস ছালাম সফিক, মানিকগঞ্জ ঃ ‘পেঁচা রাষ্ট্র করে দেয় পেলে কোন ছুতা, জানো না, আমার সাথে সূর্যের শত্রুতা।’ ঠিক এই অবস্থা এখন ভর করেছে মানিকগঞ্জ বিদ্যুৎ বিভাগে। বর্তমান সময়ে এলাকাবাসীর বড় দুর্ভোগের নাম বিদ্যুৎ বিভ্রাট। বিদ্যুৎ এখন আর যায়না। বলা চলে, মাঝে মধ্যে আসে।

আকাশে মেঘ জমলেই অন্ধকারে ডুবে যায় মানিকগঞ্জ জেলার সাটুরিয়া উপজেলার বিভিন্ন এলাকা। শুরু হয় বিদ্যুতের তেলেসমাতি কারবার। তার উপর ‘মরার উপর খাঁড়ার ঘা ভুতুরে বিল।’ আর এর সাথে যোগ হয়েছে, কর্তাদের নানা অজুহাতে ঘুষ আদায়ের কৌশল। লাখ লাখ টাকার বিদ্যুৎ চুরি করে কর্তারা আখের গুছিয়ে নিচ্ছেন। এসবের প্রতিবাদ করলেই নেমে আসে নানাবিধ শাস্তির সাথে জেল জরিমানা। এইসব ভোগান্তি নিত্য সঙ্গী করে এলাকাবাসী তথাকথিত বিদ্যুৎ সুবিধা ভোগ করছেন।

বিদ্যুৎ গ্রাহকরা জানান, গত এক সপ্তাহ ধরে আকাশ কোন রকম মেঘ দেখা গেলে, অথবা ঝড়-বৃষ্টি হলে বিদ্যুৎ বিভাগের কাছে তা আর্শিবাদ হয়ে আসে। এই অছিলায় সংযোগ সংস্কারসহ নানাবিধ অজুহাত দেখিয়ে বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ করে দেয়া হয়।

মেঘলা আকাশ দেখলেই বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ করায় গাঢ় অন্ধকারে ঢেকে যায় সম্পূর্ণ উপজেলা। তখন এই ভূতুরে নগরী অপরাধীদের অভয়ারণ্যে পরিণত হয়। অপরাধীদের সুযোগ করে দিতেই বিদ্যুতের এই লুকোচুরি বলে এলাকায় জনশ্রুতি আছে।

মিটার নষ্টের অজুহাতে লোড বিলের নামে হাজার হাজার ইউনিটের দায় চাপানো হচ্ছে। মিটার না দেখে দেয়া হচ্ছে অতিরিক্ত বিলের বোঝা এমনও অভিযোগ রয়েছে। ঘুষ ছাড়া সংযোগ মেলে না এখানে। সারা বছর গ্রাহকদের কাছ থেকে নেয়া হচ্ছে সার্ভিস চার্জ। তারপরও সামান্য কাজ করাতে দিতে হয় অতিরিক্ত উৎকোচ।

এসব বিষয়ে মুঠোফোনে কথা হয় সাটুরিয়া সাব জোনাল অফিসের সহকারি মহা ব্যবস্থাপক (এজিএম) মো. আব্দুল খালেকের সাথে। তিনি নিয়মিত বিদ্যুৎ সরবরাহের আশ্বাস দেন। তবে ঘুষ আদায়ের বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, বজ্রপাতের সময় আমাদের সাব-স্টেশনগুলোর যন্ত্র সয়ংক্রিয়ভাবে বন্ধ হওয়ায় বিদ্যুৎ সরবরাহ সাময়িক সময়ের জন্য বন্ধ থাকে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here