সাভারে শ্রমিকের মৃত্যু, ৩ ঘন্টা মহাসড়ক আবরোধ

0
28

সাগর ফরাজী,সাভার (ঢাকা): সাভারে একটি তৈরী পোশাক কারখানার ভিতরে অসুস্থ হয়ে এক শ্রমিকের মৃত্যুর ঘটনায় ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছে ওই কারখানার অন্যান্য শ্রমিকরা। বিক্ষুদ্ধ শ্রমিকরা এসময় কারখানার সামনে পার্কিং করে রাখা বেশ কয়েকটি গাড়িতে ভাংচুর চালায়।

শনিবার দুপুরে সাভার পৌর এলাকার উলাইল মহল্লায় অবস্থিত প্রাইড গ্রুপের এইচআর টেক্সটাইল কারখানায় এ শ্রমিক মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। নিহত শ্রমিকের নাম মোঃ রাশেদুল (২৫)। সে কুড়িগ্রাম জেলার উলিপুর থানার জায়গীর গ্রামের মঞ্জুর মুন্সির ছেলে। নিহত রাশেদুল উলাইল এলাকায় পরিবার নিয়ে ভাড়া থেকে এইচআর টেক্সটাইল কারখানায় সুইং অপারেটর হিসেবে কাজ করতো। তার দেড় বছরের একটি সন্তান রয়েছে বলে জানিয়ে সহকর্মীরা।

নিহতের সহকর্মী মাজেদা বেগম জানায়, রাশেদুল দুপুরের খাবার খেয়ে মেশিনে এসে কাজ করতে বসলে কিছুক্ষন পরই তার মাথা ব্যাথা ও বমি হতে থাকে। এসময় তাকে কারখানার নিজস্ব মেডিকেলে নিয়ে গেলে চিকিৎসক ব্যাথার ঔষধ দেন। কিন্তু ঔষধ খাওয়ার পরও তার শরীর ঠিক না হওয়ায় তিনি হাসপাতালে যাওয়ার জন্য কারখানার পিএম আব্দুল্লাহ আল মামুনের কাছে ছুটি চান। পর্যায়ক্রমে ফ্লোর ইনচার্য জুলহাস এবং এপিএম রুবেলসহ সবার কাছেই ছুটি চেয়ে ব্যার্থ হয়।

এর কিছুক্ষন পর সে অচেতন হয়ে পড়ে। এঘটনায় কারখানা কর্তৃপক্ষ তাকে উদ্ধার করে স্থানীয় একটি হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক রাশেদুলকে মৃত ঘোষনা করেন। কারখানার শ্রমিক ওসমান গনি বলেন, রাশেদুল বার বার ছুটি চাওয়ার পরও পিএম তাকে ছুটি দেয়নি। একপর্যায়ে ছুটি না পেয়ে কারখানার ভিতরেই তার মৃত্যু হয়। মারা যাওয়ার পর তাকে অন্য হাসপাতালে নেয়া হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি। অপর শ্রমিক আমেনা বেগম জানান, কারখানার ৫ তলায় কাজ করতো রাশেদুল।

সে দুপুরে অসুস্থ্য হয়ে মারা যাওয়ার পরও বিষয়টি ধামাচাপা দিতে কর্তৃপক্ষ কারখানার মূল ফটক বন্ধ করে ভিতরে গান ছেড়ে দেন। পরবর্তীতে মৃত্যুর বিষয়টি সকল শ্রমিকদের মাঝে ছড়িয়ে পড়লে দুপুর ৩ টা থেকে কাজ বন্ধ রেখে বিক্ষোভ করে তারা। এসময় বিক্ষোদ্ধ শ্রমিকরা দোষীদের বিচারের দাবিতে ১ঘন্টা ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক অবরোধ করে রাখে। খবর পেয়ে সাভার মডেল থানা পুলিশ ও শিল্প পুলিশসহ আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌছে বিচারের আশ্বাস দিয়ে বিকেল ৪টার দিকে শ্রমিকদেরকে রাস্তা থেকে সরিয়ে দেয়। প্রায় ঘন্টা ব্যাপী বৈঠক চলার পর বিষয়টি সমাধান না হওয়ায় বিকেল ৫ টায় বিক্ষুদ্ধ শ্রমিকরা আবারও মহাসড়ক অবরোধ করে রাখে।

শ্রমিকরা জানায়, কেন কারখানা কর্তৃপক্ষ অসুস্থ্য হওয়ার পরও রাসেদুলকে ছুটি দিলোনা। এঘটনায় দায়ীদেরকে বরখাস্তসহ বিচারের আওতায় আনার দাবি জানান। এছাড়া নিহতের দেড় বছরের একটি বাচ্চা থাকায় তার ভবিষ্যতের জন্য নগদ ১০ লক্ষ টাকা এবং রাসেদুলের যাবতীয় পাওনা পরিশোধেরও দাবি জানায়। শ্রমিকদের দাবির প্রেক্ষিতে কারখানা মালিকের ছেলে নাহিদ ঘটনাস্থলে এসে প্রাথমিকভাবে দুই লক্ষ টাকা প্রদানের কথা জানান।

এঘটনায় শ্রমিকরা উত্তেজিত হয়ে তার উপর চড়াও হয় এবং কারখানার সামনে রাখা বেশ কয়েকটি গাড়িতে ভাংচুর চালায়। শিল্প পুলিশের ইন্সপেক্টর মোঃ হারুন উর রশিদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, শ্রমিকরা নগদ ৪ লাখ টাকা দাবি করেছে কিন্তু মালিকপক্ষ দুই লাখ টাকা দিতে রাজি হয়েছে। বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা চলছে। এছাড়া যে কোন অপ্রীতিকর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আমাদের সর্বাত্মক প্রস্তুতি রয়েছে। এদিকে প্রায় তিন ঘন্টা মহাসড়ক অবরোধ করে রাখার কারনে রাস্তার দুই পাশে হাজার হাজার যানবাহন আটকা পড়েছে। এসময় অনেকে গাড়ি থেকে নেমে পায়ে হেটে গন্ত্যবের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হতে দেখা গেছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here