দারিদ্রতাকে জয় করে আঁধার ঘরে আলো জালিয়েছে সেলিনা ও হামিদুল

0
175

শাহিনুর ইসলাম প্রান্ত, লালমনিরহাট প্রতিনিধি: লালমনিরহাটের অদম্য মেধাবী হামিদুল ইসলাম ও সেলিনা আক্তার সিমু জয় করেছে দারিদ্রতাকে। এবার এসএসসি পরীক্ষায় এ প্লাস পেয়ে তারা তাদের আঁধার ঘরে আলো জালিয়েছে। সিমুর বাবা নেই, হামিদুলের মা-বাবা দিনমজুর। পরিবারের অভাব অনটন নিত্যদিনের সঙ্গী তাদের।

ঠিকমত পড়াশোনার খরচ জোগাতে না পারলেও দারিদ্র্যতা দমাতে পারেনি, তাদের শত প্রতিকুল পরিবেশ তাদের মেধা বিকাশে বাঁধা হয়ে দাঁড়াতে পারেনি। এসএসসিতে জিপিএ-৫ পেয়ে সবাইকে অবাক করেছে তারা। সেলিনা আক্তার সিমু হাতীবান্ধা এসএস সরকারী উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ও হামিদুল ইসলাম হাতীবান্ধা আর্দশ উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এ সফল্য অর্জন করেছেন।

হাতীবান্ধা উপজেলার সিঙ্গিমারী ইউনিয়নের দঃ গড্ডিমারী গ্রামের ইউনিয়ন পরিষদ এলাকার দিনমজুর রহিজ উদ্দিনের পুত্র হামিদুল ইসলাম। হামিদুলের মা ও বাবা দুই জনেই দিন মজুরের কাজ করেন। নিজস্ব কোনো জমি না থাকায় অন্যের জমিতে বাড়ি করে আছেন তারা। ৬ সদস্যের সংসার চালাতে অনেক সময় মা-বাবার সাথে হামিদুলও দিন মজুরের কাজ করেন। সে পিইসি ও জেএসসিতে গোল্ডেন এ প্লাস পেয়েছে।

এবার হাতীবান্ধা আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় থেকে বিজ্ঞান শাখায় এ প্লাস পেয়েছে। হামিদুল ইসলাম ভবিষ্যতে প্রকৌশলী হতে চায়। তবে তার সেই স্বপ্ন পুরুণে বাঁধা হয়ে দাঁড়িয়েছে পরিবারের অভাব-অনটন।

হাতীবান্ধা আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এমজি মোস্তফা জানান, হামিদুল ইসলাম এ বিদ্যালয়ের একজন মেধাবী শিক্ষার্থী। সমাজের বিত্তবান কেউ তাকে সহযোগিতা করলে একদিন হামিদুল দেশের সম্পদে রুপান্তরিত হবে।

হাতীবান্ধা উপজেলার সিঙ্গিমারী ইউনিয়নের মধ্য ধবুনী গ্রামের লাল স্কুল এলাকার মৃত শফিউল্লাহ্’র মেয়ে সেলিনা আক্তার সিমু। সিমু পিইসি ও জেএসসিতে গোল্ডেন এ প্লাস পেয়েছে। এবার হাতীবান্ধা এসএস সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে বিজ্ঞান শাখায় এসএসসিতে এ প্লাস পেয়েছে।

তিস্তা নদীতে তার বাবার বসত-বাড়িসহ জমিজমা বিলীন হয়ে গেছে। গত বছর ক্যান্সার রোগে আক্রান্ত হয়ে তার বাবাও মারা যায়। ফলে মা, ১ বোন ও ২ ভাইকে নিয়ে দিন কাটছে সিমুর পরিবারের। সিমু লেখাপড়া করে বিচারপতি হতে ইচ্ছা পোষন করলেও তার উচ্চ শিক্ষায় বাঁধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দারিদ্রতা।

হাতীবান্ধা এসএস সরকারী উচ্চ বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষক রেজাউল করিম প্রধান জুয়েল জানান, সেলিনা আক্তার সিমু প্রতিদিন ১০/১২ কিলোমিটার বাই-সাইকেল চালিয়ে বিদ্যালয়ে আসে। লেখাপড়ার প্রতি তার প্রচণ্ড আগ্রহ রয়েছে। কিন্তু দারিদ্রতাই তার পথ চলায় বাঁধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। সমাজের সহযোগিতা পেলে তারা তাদের উচ্চ শিক্ষার স্বপ্ন পুরুণ করতে পাবেন।