কালের বিবর্তনে গরুর গাড়ি হারিয়ে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে ঘোড়ার গাড়ি !

0
123

শাহিনুর ইসলাম প্রান্ত, লালমনিরহাট প্রতিনিধি: একসময় উত্তরাঞ্চলে গ্রামাঞ্চলের পরিবহন বলতে একমাত্র বাহন ছিল গরুর গাড়ি। কালের বিবর্তনের কারণে গরুর গাড়ি হারিয়ে গেলেও দিনদিন জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে ঘোড়ার গাড়ি। যা কয়েক বছর আগেও রংপুর অঞ্চলে ঘোড়ার গাড়ির কথা খুব একটা ভাবার বিষয় ছিল না। কিন্তু জীবন-জীবিকার তাগিদে সময়ের চাহিদা মেটাতে এ অঞ্চলের অনেকেই ঘোড়ার গাড়িকে বেছে নিয়েছে পেশা হিসেবে। রাজকীয় আদলে না হলেও ঘোড়া দিয়ে টানা গাড়ি এখন জনপ্রিয় বাহন হিসেবে স্থান করে নিয়েছে রংপুরের চরাঞ্চলসহ প্রত্যন্ত এলাকায়। এতে একদিকে যাতায়াত ব্যবস্থা সহজ হয়েছে অন্যদিকে ঘোড়ার গাড়ী চালিয়ে আর্থিক স্বচ্ছলতা এসেছে অনেক পরিবারে।

প্রাচীনতম যানবাহন ঘোড়ার গাড়ি। এক সময়ে এটি জমিদার ও রাজপরিবারের সদস্যদের প্রধান বাহন ছিল। রণাঙ্গনের রসদ সরবরাহে জন্য ব্যবহার করা হতো এই ঘোড়ার গাড়ি। যুগের পরিবর্তনের সাথে সাথে পরিবর্তন হয়েছে যানবাহনেরও। তারপরও আমাদের দেশ থেকে একেবারে হারিয়ে যায়নি জীবনচালিত বিশেষ যান ঘোড়ার গাড়ি।

সরে জমিনে গিয়ে দেখা যায়, লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ, আদিতমারী উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় চরাঞ্চলের উৎপাদিত কৃষি পণ্যসহ মালামাল পরিবহনে ঘোড়ার গাড়ির প্রচলন শুরু হয়েছে। যা দিনদিন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে।

চরাঞ্চলের বালুময় জায়গায় কোন যানবাহন না চলায় এখানকার মানুষ এক সময় মাইলের পর মাইল পায়ে হেঁটে বিভিন্ন স্থানে যাতায়াত করতো এমনকি তাদের উৎপাদিত কৃষি পণ্য নিজের ঘাড়ে করে আনা-নেওয়া করতো। কিন্তু ঘোড়ার গাড়ির প্রচলন হওয়ায় উৎপাদিত কৃষি পণ্যসহ মালামাল পরিবহনে ঘোড়ার গাড়ি ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করছে।

ভ্যান সদৃশ গাড়ির সামনে ঘোড়া জুড়ে দিয়ে বাহনটি চলে। উত্তরাঞ্চলের চরসহ প্রত্যন্ত গ্রামে রাস্তা-ঘাটের অভাবে যেখানে কোনো যান্ত্রিক বাহন চলাচল করে না সেখানে এই ঘোড়ার গাড়িই একমাত্র ভরসা। জমি থেকে উৎপাদিত ফসল গোলায় নিয়ে যেতে জুড়ি নেই বাহনটির।

শুকনো মৌসুমে কখনো তাও সম্ভব হতো না। এখন সে সব এলাকায় এক ঘোড়ার গাড়ী দিয়ে সহজে যাতায়াত করছে মানুষজন এবং চরের উৎপাদিত ব্যাপক কৃষিপণ্য আনা-নেওয়ার ক্ষেত্রেও ঘোড়ার গাড়ী পরিবহনে বিশেষ ভুমিকা রাখছে।

ঘোড়া গাড়ি চালক শহিদুল ইসলাম জানান, একটি ঘোড়াকে প্রতিদিন ১৫০ টাকার খাবার দিয়ে তারা দিনে আয় করছে প্রায় এক হাজার টাকা। এতে তাদের সংসার খরচ ভালভাবেই চলে যাচ্ছে।

হাতের কাছে ঘোড়ার গাড়ী পাওয়ায় স্থানীয় ব্যবসায়ীরাও সহজে পণ্য আনা-নেওয়া করতে পেরে খুশি। তাছাড়া বিভিন্ন অনুষ্ঠানে ঘোড়ার গাড়ি নিয়ে যায়। এতে একদিকে যাতায়াত ব্যবস্থা সহজ হয়েছে অন্যদিকে ঘোড়ার গাড়ী চালিয়ে আর্থিক স্বচ্ছলতা এসেছে অনেক পরিবারে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here