স্বেচ্ছাশ্রমে রাস্তা নির্মাণ করে দেশে অনন্য নজির সৃষ্ঠি করেছে জাজিরার ডুবুলদিয়াবাসী

0
309

শরীয়তপুর প্রতিনিধি ঃ স্বেচ্ছাশ্রমে সারে ৩ কিলোমিটার রাস্তা নির্মাণ করে দেশেবাসীর কাছে অনন্য দৃষ্টান্ত সৃষ্ঠি করেছে শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলার উত্তর ডুবলদিয়াবাসী। এ রাস্তা নির্মাণের মধ্য দিয়ে ৭টি গ্রামের মানুষ নাগরিক সুবিধা পাবে বলে ধারণা করছেন রাস্তা নির্মাণে দূর্সাহসিক ভূমিকা পালনকারী দেলোয়ার হোসেন। স্বেচ্ছাশ্রমে রাস্তা নির্মাণ করতে দেলোয়ার হোসেন এলাকাবাসী সহ জাজিরা উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যানের আর্থিক সহায়তা পেয়েছেন। স্বেচ্ছাশ্রমে রাস্তা নির্মাণ করে একই সাথে জেলাবাসী ও জেলা প্রশাসনের বাহবাও কুড়িয়েছেন এলাকাবাসী।

রাস্তা নির্মাণের প্রধান উদ্যোক্তা জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র দেলোয়ার হোসেন বলেন, উপজেলার সবচেয়ে অবহেলিত আমাদের ৭টি গ্রাম। উত্তর ডুবুলদিয়া হাওলাদার কান্দি, আকন কান্দি সহ গ্রামগুলোতে প্রায় ৪ হাজার মানুষের বসবাস। বর্ষার মৌসুমে নৌকা ও শুকনো মৌসুমে ক্ষেতের আইল দিয়ে পায়ে হাটা ছাড়া এলাকাবাসীর কোন বিকল্প ব্যবস্থা ছিল না। যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন থাকায় এলাকায় শিক্ষার হারও দিনদিন কমতে থাকে। এলাকার মুরুব্বিরা সরকারী ভাবে রাস্তা চেয়ে বিভিন্ন দপ্তরে বারবার আবেদন করে। বারবারই সরকারী দপ্তর থেকে আবেদনের ফাইল হারিয়ে যায়। আমিও একবার উপজেরা প্রকৌশল দপ্তরে গিয়ে ফাইল খুজে পাইনি। ফাইল খুঁজে না পেয়ে বাড়ি ফিরে গিয়ে স্বেচ্ছাশ্রমে রাস্তা নির্মান করার বিষয়ে এলাকার যুবকদের সাথে ক্যাম্পেইন করি।


অনেকেই হাসি-ঠাট্টার ছলে সরাসরি বলে দেয়, এভাবে রাস্তা নির্মাণ অসম্ভব। এক পর্যায়ে রহমান, শাকিল সহ ৭/৮ জনকে বিষয়টি বুঝাতে সক্ষম হই। এ বিষয়ে হাওলাদার কান্দির হারুন হাওলাদার ও আকন কান্দির সূরুজ আকন ও টিটু আকনের সহায়তা নেই। গত ২০ এপ্রিল প্রথম রাস্তার কাজ শুরু করি। এভাবে সারে ৩ কিলোমিটার জায়গায় রাস্তা নির্মাণ অসম্ভব বলে মনে হয়। পরে মুরব্বিদের সিদ্ধান্ত মতে এলাকাবাসীর কাছ থেকে চাঁদা তুলে তহবিল গঠন করি। ওই সময় নগদ যে টাকা উঠে তা থেকে সেচ্ছাসেবীদের রুটি-কলা খাওয়াই এবং টিটু আকনের ভ্যাকু মেশিন দিয়ে ১ঘন্টা মাটি কাটিয়ে বিল পরিশোধ করি। এ ভাবেই রাস্তা নির্মাণের সূত্রপাত হয়। রাস্তা নির্মাণে এ পর্যন্ত ৪ লাখ টাকার বেশী ব্যায় হয়েছে। এর মধ্যে উপজেরা পরিষদের চেয়ারম্যান মোবারক আলী শিকদার তার ব্যক্তিগত তহবিল থেকে দেরলাখ টাকা অনুদান দিয়েছেন। এখনও রাস্তার কাজ কিছুটা বাকি রয়েছে। তাছাড়া খালের উপর একটা বাঁশের সাঁকো রয়েরছ। সেখানে একটা কাঠের পুল নির্মান করতে পারলে এ বর্ষা কোন রকম পার কার যাবে।

জাজিরা উপজেলা পরিষ চেয়ারম্যান মোবারক আলী শিকদার স্বেচ্ছশ্রমে রাস্তা নির্মানের কথা শুনে রাস্তায় যান। সেখানে উপস্থিত লোকজনের সামনেই রাস্তা নির্মাণে তার সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিতে আগ্রহ প্রকাশ করেন। সেচ্ছাসেবীদের সম্মতিক্রমে তিনি তার ব্যক্তিগত তহবিল থেকে ১লাখ ৫০ হাজার টাকা অনুদান প্রদান করেন।
স্বেচ্ছেশ্রমে নির্মিত রাস্তা পরিদর্শণে গিয়ে শরীয়তপুরের জেলা প্রশাসক কাজী আবু তাহের বলেন, ৭ গ্রামের মানুষ মিলে স্বেচ্ছাশ্রমে সারে ৩ কিলোমিটার রাস্তা নির্মাণ করে দেশের মধ্যে একটি দৃষ্টান্ত করেছে। তারা সরকারের দিকে তাকিয়ে না থেকে স্বেচ্ছাশ্রমে নিজেদের প্রয়োজনীয় রাস্তা নির্মাণ করেছে। এ ধরণের কাজের উদ্যোক্তারা নিঃসন্দেহে প্রশংসার দাবীদার।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here