শরীয়তপুরে মাদক বিরোধী অভিযানে মাদক নিয়ন্ত্রন অফিসের কোন ভুমিকা নেই

0
830

শরীয়তপুর প্রতিনিধি ঃ সারাদেশে যখন মাদক নির্মূল অভিযান পরিচালনা হচ্ছে। পুলিশ, র‌্যাব সহ আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সাথে মাদক বিক্রেতাদের বন্দুক যুদ্ধ হচ্ছে। মাদক বিক্রেতা সহ মাদকের গডফাদার বন্দুক যুদ্ধে নিহত হচ্ছে। ঠিক তখনই শরীয়তপুর জেলা মাদক নিয়ন্ত্রন কর্মকর্তার কার্যালয় মাদক নির্মূল অভিযান থেকে সড়ে দাড়িয়েছে। মাদক নির্মূল অভিযান থেকে সরে দাড়ানোর পিছনে জেলা মাদক নিয়ন্ত্রন কর্মমর্তার কোন দূর্বলতা, কৌশল বা দায়বদ্ধতা রয়েছে কিনা তা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয় সূত্র জানায়, পুলিশ হেড কোয়াটারের নিদের্শে মাদক নির্মূল অভিযান চলছে। মাদক নির্মূল অভিযানে জেলা পুলিশের ব্যাপক ভূমিকা রাখছে। পুলিশের অভিযানে প্রতিদিই মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার হচ্ছে। মাদক নির্মূলে পুলিশের এ অভিযান অব্যাহত থাকবে। শরীয়তপুর জেলাকে মাদক মুক্ত করণে জেলা পুলিশ ও গোয়েন্দা পুলিশের চ্যালেঞ্জ রয়েছে। কোন মাদকের গডফাদার, খুচরা ব্যবসায়ী ও মাদক সেবন কারী এ অভিযান থেকে বাদ পড়বে না।

জেলা মাদক নিয়ন্ত্রন কার্যালয়ের কর্মকর্তার সাথে মোবাইল ফোনে এ বিষয়ে কথা হয়। তিনি জানান, আগামী ৩০ তারিখ পর্যন্ত তিনি একটা প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন। প্রশিক্ষণ থেকে ফিরে মাদকের অভিযানে নামবেন। আপনি ছাড়া আপনার কার্যালয়ের অন্য কেউ মাদক নির্মূল অভিযানে যেতে পারে না? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, তার অফিসে তিনি ছাড়াও একজন সহকারী দারোগা ও দু’জন সিপাহী রয়েছে। তারা বাসাবাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ব্যাতিত অন্যান্য স্থানে অভিযান পরিচালনা করতে পারে। তাহলে তারা অভিযান পরিচালনা করছেনা কেন?

জবাবে তিনি বলেন, সহকারী দারোগা জিন্নত আলী তার কোন কমান্ড মানে না। এজন্য তাকে কোন অভিযানে পাঠানো হয় না। অফিসার ছাড়া সিপাহীরা অভিযান পরিচালনা করতে পারে না। তবে যে সহকারী দারোগা আপনার কমান্ড মানে না তাকে বদলি করে দেন। এর জবাবে মাদক নিয়ন্ত্রন কর্মকর্তা বলেন, কোন কর্মচারি বা কর্মকর্তাকে বদলী করার ক্ষমাতা আমার নাই। আমি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের বরাবর এ দারোগার দায়িত্বে অবহেলা সম্পর্কে লিখিত অভিযোগ পাঠিয়েছি। দেখি কর্তৃপক্ষ কী সিদ্ধান্ত গ্রহন করেন।

ডামুড্যা উপজেলা ছাত্রলীগ সভাপতি মেহেদি হাসান রুবেল ফেসবুকে এক স্ট্যাটাচের মাধ্যমে লিখেছেন, সারাদেশে জননেত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে মাদক নির্মূল অভিজান চলছে। কিন্তু আমাদের ডামুড্যাতে প্রশাসনের কোন পদক্ষেপ দেখতে পাচ্ছি না। উপজেলায় রয়েছে ইয়াবার শীর্ষ স্থানীয় গডফাদার এবং বিক্রেতা । তাদের বিরুদ্ধে তো প্রশাসন কোন ব্যবস্থা গ্রহন করছে না। এর আসল কারন কি ? আমরা প্রশাসনের কাছে মাদক নির্মূলে দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ দেখতে চাই। উপজেলা ছাএলীগের পক্ষে প্রশাসনের কাছে মাদকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার বিশেষ অনুরোধ করেন এ ছাত্রলীগ নেতা।

পুলিশ সুপার আব্দুল মোমেন বলেন, আমি পুলিশ সুপার পদে যোগদানের পর থেকেই মাককের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করে আসছি। এখন পুলিশ হেড কোয়াটারের নির্দেশে অনুযায়ী মাদক নির্মূল অভিযান চলছে। পরবর্তী নির্দেশ না পাওয়া পর্যন্ত এ অভিযান অব্যাহত থাকবে। এ অভিযান শেষ হলেও সারা বছর পুলিশের মাদক বিরোধী অভিযান অব্যাহত থাকবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here