দক্ষিন তারাবুনিয়ায় বিদ্যুতের মিটারের টাকা আটকে রেখেছে আওয়ামীলীগ নেতা !

0
393

খোরশেদ আলম বাবুল শরীয়তপুর প্রতিনিধি ঃ সখিপুরের দক্ষিণ তারাবুনিয়া ইউনিয়নের ২টি গ্রামের পল্লী বিদ্যুতের ৩১৪ জন গ্রাহকের মধ্য থেকে ২৪৮ জনের মিটারের টাকা উঠিয়ে আটকে দিয়েছে এক আওয়ামীলীগ নেতায়। এমন অভিযোগ পাওয়া গেছে দক্ষিণ তারাবুনিয়া ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের দুদুমিয়া মোল্যা কান্দি ও মোহব্বত আলী মোল্যা কান্দি গ্রামের পল্লী বিদ্যুৎ প্রত্যাশী গ্রাহকদের পক্ষ থেকে। ঘর ওয়্যারিং এর ৭মাস অতিবাহিত হলেও ওই আওয়ামীলীগ নেতা মিটার এনে দেয়ার কথা স্বীকার করেছেন কিন্তু দিচ্ছেন না। তবে কবে নাগাদ মিটার পাবে তা নিয়ে শংশয়ে আছে গ্রাহকবৃন্দ। সরেজমিন ঘুরে এবং পল্লী বিদ্যুত প্রত্যাশী গ্রহকদের সাথে কথা বলে জানা যায়, শরীয়তপুরের সখিপুর থানার দক্ষিন তারাবুনিয়া ইউনিয়নের ৭নম্বর ওয়ার্ডের দু’টি গ্রাম পল্লী বিদ্যুতের আওতায় আসে।

প্রায় ১ বছর পূর্বে ঠিকাদারের মাধ্যমে বিদ্যুতের খুঁটি স্থাপন ও তার টানা হয়। সে সময় ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক হামিদ চৌকিদার গ্রাহকদের মিটার দেয়ার কথা বলে কৌশলে মিটারপ্রতি ১২শ টাকা করে ২৪৮ জন মিটারের গ্রাহকদের কাছ থেকে প্রায় ৩ লাখ টাকা তোলে। পরবর্তীতে গ্রাহকের টাকায় আওয়ামীলীগ নেতায় ঘর ওয়্যারিং এর জিনিসপত্র (তার, বোর্ট, ইত্যাদি) ঢাকা থেকে এনে প্রত্যেক গ্রাহকের কাছে অধিক মূল্যে বিক্রি করে। বিষয়টি লাভজনক দেখে এলাকার মেম্বার হানিফ শেখ সহ আনোয়ার চৌধুরী, ওসমান মামুদ ও আলমগীর বেপারী ওয়্যারিং সামগ্রী বিক্রির ব্যাবসায় যোগ দেন।

এ সময় ব্যাবসায়ীরা সকলে মিলে মিটারের জন্য উঠানো ৩ লাখ টাকা থেকে ১ লাখ ৬৮ হাজার টাকা খরচ করে ফেলেন। অবশিষ্ট টাকা আওয়ামীলীগ নেতা হামিদ চৌকিদারের কাছে রক্ষিত আছে। হামিদ চৌকিদার একচাটিয়া ব্যবসা করতে না পেরে মনক্ষুন্ন হয়ে গ্রাহকের মিটারের টাকা আটকে দিয়েছেন। ঘর ওয়্যারিং এর ৭ মাস অতিবাহিত হলেও গ্রাহক মিটার পাচ্ছে না। মিটার দেই-দিচ্ছি বলে কালক্ষেপন করছেন ওই আওয়ামীলীগ নেতা। কবে নাগাদ মিটার পাবে তা নিয়ে শংশয়ে আছেন গ্রাহকরা।

গ্রাহক খাজা মো. চৌধুরী জানায়, সে ২টি মিটারের জন্য ২৪শ টাকা হামিদ চৌকিদারের নিকট জমা দেয়। ৭ মাস অতিবাহিত হলেও মিটার পাচ্ছে না তিনি। পরবর্তীতে বিদ্যুৎ অফিসে গিয়ে খোজ নিয়ে দেখে মিটার বাবদ টাকা জমা হয়নি। এমটি ভাবে আলাউদ্দিন মাল ১টি, সাইফুল্লাহ মাস্টার ৫টি মিটারের টাকা হামিদ চৌকিদারের নিকট জমা করেছে। এদের কেউই মিটার পায়নি।

মেম্বার হানিফ শেখ বলেন, ২৪৮টি মিটারের টাকা হামিদ চৌকিদারের কাছে জমা আছে। সে অফিসে মিটারের টাকা জমা না দেয়ায় গ্রাহকরা বিদ্যুত পাচ্ছে না। এ নিয়ে এলাকায় একাধিক বার দরবার হয়েছে। দরবারে এসে হামিদ চৌকিদার বলে মিটার এনে দিবে। কবে দিবে তা জানায় না। বিদ্যুৎ অফিসে গিয়ে খোজ নিয়ে দেখি গ্রাহকদের সদস্য ফরমও পূরণ করা হয়নি। পরর্বীতে আমার নিজের থেকে ১৫ হাজার টাকা খরচ করে সকল গ্রহকদের সদস্য করেছি। এখন হামিদ চৌকিদার মিটারের টাকা জমা দিলেই আমরা বিদ্যুৎ সুবিধা পাব। ওয়্যারিং মিস্ত্রী আল আমিন বলেন, আমার ওয়ারিং সম্পন্ন হয়েছে। মিটারের টাকা জমা দিলেই এলাকায় মিটার আসবে। এলাকাবাসী বিদ্যুতের সুবিধা ভোগ করতে পারবে।

অভিযুক্ত হামিদ চৌকিদার বলেন, আমি ২১ বছর ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক ছিলাম। আমার এলাকা বিদ্যুতের আওতায় এসেছে। মিটার, আর্থিণ রড ও মিটার বোর্ট বাবদ ১২শ টাকা করে ২৪৮ জন গ্রাহকের কাছ থেকে টাকা নেই। আমি ভাবছি একক হাতে বিদ্যুতের বিষয়টি পরিচালনা করব। এরমধ্যে মেম্বার হানিফ শেখ, আনোয়ার চৌধুরী, ওসমান মামুদ ও আলমগীর বেপারী এসে ওয়ারিং এর মালামাল এনে গ্রাহকদের কাছে বিক্রি করার জন্য ১ লাখ ৬৮ হাটার টাকা নেয়। সে টাকা ফেরত না দেয়েয় মিটারের টাকা জমা দেইনি। এ নিয়ে একাধিকবার দরবার হয়েছে। আমি বলেছি মিটার এনে দিব। এখন এমপি’র সাথে আলাপ করে দেখি সে কবে সময় দিতে পারবে। এমপি যেদিন সময় দিবে সেদিন বিদ্যুতের উদ্বোধন করিয়ে নিব এবং মিটারের টাকা জমা করে দিব।