যে যুবলীগে অপরাধের আখরা !

0
970

নিজস্ব প্রতিনিধি: আশুলিয়ায় যুবলীগের আহ্বায়ক কমিটি গঠনের দশ মাস পার হয়ে গেলেও এখনো পুর্নাঙ্গ কমিটি গঠন করতে পারেনি যুবলীগ। গত বছরের ১৮ জুলাই আগের কমিটি বিলুপ্ত করে ২১ সদস্য বিশিষ্ট আহ্বায়ক কমিটি দেওয়ার আগামী তিন মাসের মধ্যে সব ইউনিয়নের কমিটি গঠনের পর সম্মেলনের মাধ্যমে পুর্নাঙ্গ কমিটি গঠনের নির্দেশ দিয়েছিলেন যুবলীগের চেয়ারম্যান। অথচ এর দশ মাস পার হয়ে গেলেও এখনো সব ইউনিয়নের কমিটি গঠন করতে পারেনি যুবলীগের নতুন এই আহ্বায়ক কমিটি।

অন্যদিকে আহ্বায়ক কমিটি পাওয়ার পর পরই নিজেদের আত্নীয় স্বজনদের নিয়ে ইউনিয়ন কমিটি গঠন করার অভিযোগ রয়েছে। এছাড়াও জমি দখল, ঝুট ব্যবসা দখল ও চাদাবাজীর অভিযোগও রয়েছে নতুন এই কমিটির সদস্যদের বিরুদ্ধে। এসব কারনে এখন পর্যন্ত যুবলীগের পুর্নাঙ্গ কমিটি গঠিত হয় নাই বলে দাবী করছেন যুবলীগের অনেক নেতাকর্মীরা।

দলীয় সুত্র জানায়, গত বছরের ১৮ জুলাই কবির হোসেন সরকার আহ্বায়ক ও মঈনুল ইসলাম ভুইয়াকে যুগ্ন আহ্বায়ক করে আশুলিয়া থানার ২১ সদস্য বিশিষ্টি একটি কমিটি গঠন করা হয়। তবে কমিটি গঠনের পর ইউনিয়নে নিজের আত্নীয় স্বজনদের দিয়ে নতুন কমিটি দেওয়া শুরু করে যুবলীগের ওই দ্ইু নেতা। থানা যুবলীগের যুগ্ন আহ্বায়ক হওয়ার সুবাধে মঈনুল ইসলাম ভুইয়া তার নিজের পরিবারের দশ জন সদস্য ভাইয়ের ছেলে সোহাগ মিয়াকে সাংগঠনিক সম্পাদক, নিজের বোনের ছেলে আব্দুল কাইয়ুমকে সাংগঠনিক সম্পাদক, বোনের ছেলে নয়ন মিয়াকে যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, চাচাত ভাই বকুলকে সহ-সভাপতি, ভাইয়ের ছেলে শুভকে সহ-সভাপতি, চাচাত ভাই উজ্জল ভুঁইয়াকে ত্রাণ বিষয়ক সম্পাদক, বোনের মেয়ে আমেনা আক্তারকে মহিলা বিষয়ক সম্পাদক, চাচাত ভাই আবুল হোসেন ধামসোনা ইউনিয়ন যুবলীগের সদস্য, চাচাত ভাই ওয়াসীম ভুঁইয়া ওয়ার্ড যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক এবং ভাতিজা দিপুকে ওয়ার্ড পর্যায়ের নেতা বানিয়েছেন। একই অভিযোগ রয়েছে আহ্বায়ক কবির হোসেন সরকারের বিরুদ্ধে। এদিকে নতুন কমিটি পাওয়ার পর থেকেই যুবলীগ নেতারা চাদাবাজী, জমি দখল ও ঝুট ব্যবসা দখল করতে শুরু করে দিয়েছে। তাদের হাত থেকে রক্ষা পায় নাই যুবলীগের স্থানীয় নেতারা।

উজ্জল সরকার নামের এক ব্যক্তি অভিযোগ করে বলেন, তিনি বাগবাড়ি এলাকার ৪৬ শতাংশ একটি জমি ক্রয়ের পর ভোগ দখল করে আসছে। সম্প্রতি যুবলীগ নেতা ওই জমি নিজের দাবী করে তার কাছ থেকে ২০ লাখ টাকা চাদা দাবী করেন। তবে উজ্জল সরকার চাদার টাকা দিতে অপরাগতা প্রকাশ করলে কবির হোসেন সরকার প্রকাশ্যে গুলি বর্ষন করে এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টির পর জমি নিজের দখলে নিয়ে যায়। এ ঘটনায় উজ্জল সরকার বাদী হয়ে যুবলীগ নেতা সহ ২৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছেন।

এর কিছু দিন পরই আশুলিয়ার ইয়ারপুর ইউনিয়ন সাবেক যুবলীগ নেতা মোশারফ হোসেন মুসার ঝুট ব্যবসা দখল করার পায়তারা শুরু করে যুবলীগের আহ্বায়ক কবির হোসেন সরকার ও যুগ্ন আহ্বায়ক মঈনুল ইসলাম ভুইয়ার লোকজন। টানা এক সপ্তাহ কারখানার সামনে ঝুটের ট্রাক আটকে রাখার পর ওই ব্যবসা নিজেদের নিয়ন্ত্রনে নিয়ে নেয়।

মোশারফ অভিযোগ করে বলেন, তিনি ইয়ারপুর ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি ছিলেন। এছাড়াও ওই ইউনিয়নের আওয়ামীলীগের সদস্য তিনি। সাত বছর যাবৎ আশুলিয়ার বাইপাইল এলাকার উইন্ডো গ্রুপের একটি কারখানার সাথে ঝুট ব্যবসা করতেন। অথচ যুবলীগের নতুন কমিটি নিয়ে আসার পর আহ্বায়ক ও যুগ্ন আহ্বায়ক জোর পূর্বক তার ব্যবসা দখল করে নিয়েছে।

অন্যদিকে আশুলিয়ার ডিইপিজেড এলাকায় দুটি কারখানায় ঝুট ব্যবসা দখলের অভিযোগ রয়েছে যুগ্ন আহ্বায়ক মঈনুল ইসলামর ভুইয়ার বিরুদ্ধে। এমনকি ওই ব্যবসা দখলের জন্য বাইপাইল এলাকার তিন ব্যবসায়ী হালিম তালুকদার, সুবেলুর রশিদ শুভ ও নজরুল ইসলামকে হত্যার পর লাশ গুম করে ফেলার হুমকি দেয় যুবলীগ নেতা মঈনুল ইসলাম ভুইয়া। এ ঘটনায় ব্যবসাীয়রা বাদী হয়ে যুবলীগ নেতার বিরুদ্ধে আশুলিয়া থানায় এশটি সাধারন ডায়েরী দায়ের করেন। এছাড়াও ওই যুবলীগ নেতার বিরুদ্ধে কেন্দ্রীয় নেতাকর্মীর কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন ব্যবসায়ীরা। এছাড়াও বাইপাইল বাসস্ট্যন্ড ও বসুন্ধরা মাঠ এলাকায় দুই ব্যবসায়ীর জমি দখলেরও অভিযোগ রয়েছে মঈনুল ইসলাম ভুইয়ার বিরুদ্ধে।

শুধু জমি দখল, ঝুট ব্যবসা ও চাদাবাজী করেই খান্ত হয়নি যুবলীগের এই নেতার লোকজন। আশুলিয়ার বাইপাইল এলাকার আব্দুল্লাপুর-বাইপাইল বাসস্ট্যন্ড এলাকায় বিভিন্ন অটোরিক্সা ও মাহেন্দ্র থেকে প্রতিদিন হাজার হাজার টাকা চাদা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে মঈনুল ইসলাম ভ্ইুয়ার বিরুদ্ধে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে আশুলিয়ার যুবলীগের একাধিক নেতাকর্মীরা অভিযোগ করে বলেন, নিজেদের আধিপাত্ব্য বিস্তার ধরে রাখার জন্য আত্নীয় স্বজনদের দিয়ে ইউনিয়ন পর্যায়ে বিভিন্ন কমিটি গঠন করেছে যুবলীগের আহ্বায়ক ও যুগ্ন আহ্বায়গ। এর ফলে যোগ্যতা ও জন সমর্থন থাকা স্বত্তেও দলের জন্য যারা বছরের পর বছর নিরলস পরিশ্রম ও রাজপথে থেকে বিএনপি-জামায়াতকে প্রতিহত করেছে সেই সব ত্যাগী নেতারা নেতৃত্ব থেকে বঞ্চিত হয়েছে।

এছাড়াও মহাসড়কে যানবাহন থেকে চাদাবাজী, জমি ও ঝুট ব্যবসা দখলে নিজেদের আধিপাত্ব বিস্তার করার জন্য বর্তমান যুবলীগ নেতারা তাদের আত্নীয়-স্বজনদের নিয়ে কমিটি গঠন করেছে। নতুন আহ্বায়ক কমিটি হওয়ার পর থেকেই যুবলীগের আহ্বায়ক ও যুগ্ন আহ্বায়কের লোকজন জমি দখল, ঝুট ব্যবসা দখল ও বিভিন্ন সেক্টরে ব্যাপক চাদাবাজী শুরু করে দিয়েছে। তদের জন্য অনেকেই এখন ঠিকমতো ব্যবসা পরিচালনা করতে পারছে না বলেও অভিযোগ করেন তারা। এ ব্যাপারে আশুলিয়া থানা যুবলীগের আহ্বায়ক কবির হোসেন সরকারের মুঠোফোনে একাধিবার চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি।

অন্যদিকে ঢাকা জেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক জি এস মিজান বলেন, আশুলিয়া থানা যুবলীগের এখনো পুর্নাঙ্গ কমিটি গঠন করা হয়নি। এছাড়াও যুবলীগের বিরুদ্ধে অভিযোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলেও তিনি জানান।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here