রোহিঙ্গাদের সহায়তায় ৩৯৪ কোটি টাকা দেবে ইইউ

0
79

মিয়ানমারে জাতিগত নিধনের শিকার রোহিঙ্গাদের জন্য ৪ কোটি ইউরো সহায়তা দেবে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। বাংলাদেশি টাকায় এর পরিমাণ ৩শ’ ৯৪ কোটি ৪৬ লাখ ৬৭ হাজার টাকা।

বাংলাদেশ এবং মিয়ানমারের রাখাইনে ঝুঁকির মধ্যে থাকা রোহিঙ্গাসহ স্থানীয়দের জীবন-রক্ষায় সহায়তার জন্য বৃহস্পতিবার এই সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়।

গত বছরের আগস্টে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর জাতিগত নিধন অভিযানের মুখে প্রায় ৭ লাখের বেশি রোহিঙ্গা পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়। খুন, ধর্ষণ ও অগ্নিসংযোগের এই ঘটনাকে জাতিগত নিধনযজ্ঞের ‘পাঠ্যপুস্তকীয় উদাহরণ’ বলে আখ্যা দেয় জাতিসংঘ। মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল রোহিঙ্গাদের ‘বিশ্বের সবচেয়ে নিপীড়িত সংখ্যালঘু’ বলে অভিহিত করেছে।

তবে রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে ফেরত পাঠাতে গত বছরের নভেম্বরে বাংলাদেশ-মিয়ানমারের মধ্যে চুক্তি হলেও তা কার্যকরে তেমন অগ্রগতি নেই।

হিউম্যানিটেরিয়ান এইড অ্যান্ড ক্রাইসিস ম্যানেজমেন্ট কমিশনার ক্রিস্টোস স্টাইলানডিস বলেন: ‘সাম্প্রতিক মাসগুলোতে রোহিঙ্গা সংকট নজিরবিহীন হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। লাখ লাখ মানুষের মানবিক সাহায্য প্রয়োজন। বাংলাদেশ ও মিয়ানমারে থাকা এই মানুষদের সাহায্য করতে ইইউ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এই সহায়তার ফলে জরুরি সেবা খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি এবং স্বাস্থ্যসেবার মতো প্রয়োজনীয় চাহিদা পূরণ করবে। এছাড়ও বর্ষাকালের জন্যও সাহায্য থাকবে।’

জানা যায়, বৃহস্পতিবার ঘোষিত এই মানবিক সহায়তার মধ্যে ২ কোটি ৯০ লাখ ইউরো ব্যবহৃত হবে কক্সবাজার জেলায়। খাদ্য, পুষ্টি সহায়তা, বিশুদ্ধ পানি এবং স্যানিটেশন সুবিধা, স্বাস্থ্য সেবা এবং শরণার্থী ও স্থানীয়দের মধ্যে সবচেয়ে ঝুঁকির মধ্যে থাকা দলের সুরক্ষায় তা ব্যয় হবে।

বিশ্বের সবচেয়ে ঘনবসতিপূর্ণ এই ক্যাম্পগুলোতে আরও ৭০ লাখ ইউরো বর্ষাকালের প্রস্তুতি বৃদ্ধিতে ব্যবহৃত হবে। এসময় বন্যা ও ভূমিধসের মতো দুর্যোগের সম্মুখীন হওয়ার শঙ্কা রয়েছে।

আর ৪০ লাখ ইউরো মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গা এবং স্থানীয়দের রক্ষা, আশ্রয়, স্বাস্থ্য, পানি, স্যানিটেশন, খাবার এবং মানসিক সহায়তার জন্য কাজে লাগানো হবে।

ইউরোপিয়ান কমিশন এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, ১৯৯৪ সাল থেকেই আন্তর্জাতিক এনজিও এবং জাতিসংঘের মাধ্যমে কক্সবাজারের মানবিক কর্মসূচিগুলোতে অর্থায়ন করে আসছে সংস্থাটি। বৃহস্পতিবারের এই জরুরি সাহায্যের পর বাংলাদেশে রোহিঙ্গাদের জন্য ২০০৭ সাল থেকে মোট সাহায্যের পরিমাণ দাঁড়ায় ৮ কোটি ৬০ লাখ ইউরোরও বেশি।

এছাড়াও, মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে ঝুঁকির মধ্যে থাকা অধিবাসীদের জন্য ২০১০ সাল থেকে ইইউ প্রায় ৮ কোটি ১০ লাখ ইউরো অর্থ মানবিক সহায়তা দিয়েছে। ২০১৭ সালের অক্টোবরে কক্সবাজারে সহায়তা দেয়ার জন্য ইইউ সিভিল প্রোটেকশন মেকানিজম চালু করা হয়েছে।

ইউরোপিয়ান কমিশন আরও জানায়, মিয়ানমারের রাখাইনে ৪ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা এবং স্থানীয় জনগণের মানবিক সহায়তা প্রয়োজন। প্রায় ১০ লাখ রোহিঙ্গা কক্সবাজার জুড়ে ক্যাম্পগুলোতে বসবাস করছে। কক্সবাজারে বসবাস করা রোহিঙ্গা ও স্থানীয়দের মধ্যে ১৩ লাখ লোকের সাহায্য প্রয়োজন।

এছাড়াও রিফিউজি ক্যাম্পগুলো বর্ষাকালে আকস্মিক বন্যা বা ভূমিধসের ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। অক্টোবর পর্যন্ত এই মৌসুমে এই দুর্যোগ ২ লাখ জীবন ঝুঁকির মধ্যে ফেলতে পারে।

#বাংলাটপনিউজ/আরিফ

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here