সিয়াম সাধনা ও নিয়মানুবর্তিতা

0
29

রোজাদারকে সম্পূর্ণ রমজানব্যাপী একটি নির্দিষ্ট ও অপরিহার্য নিয়ম মেনে চলতে হয়, যা মানুষকে নিয়মের অনুসারী করে তোলে। সিয়াম-সাধনার মধ্যদিয়ে মানব চরিত্রে নিয়মনীতি যথার্থভাবে ফুঁটে উঠে। যথাযথ সিয়াম পালনকারী নিজেকে একজন নিয়মানুবর্তীর নমুনা হিসেবে গড়ে তুলতে পারে। যদি সঠিকভাবে রোজা পালন করা হয় তাহলে একজন রোজাদার ব্যক্তিকে আমরা উত্তম চরিত্রের নমুনা বা মডেল বলতে পারি।

সিয়াম-সাধনার মাধ্যমে একজন রোজাদার স্বেচ্ছায় পানাহার ও অনৈতিক কাজ থেকে নিজেকে বিরত রাখেন। সুবহে সাদিকের পূর্বে উঠে সেহরি খাওয়া, পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের পাশাপাশি সারাদিন পানাহার থেকে বিরত থাকা, নির্দিষ্ট সময়ে ইফতার গ্রহণ আবার রাতের বেলায় তারাবিহ সালাতের জন্য দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে যাওয়া, এগুলো হল রোজাদারের নির্ধারিত কার্য। রোজাদারের জীবন একটি নির্দিষ্ট নিয়মে আবদ্ধ থাকায় নিয়মানুবর্তীতার মহান এক শিক্ষা অর্জিত হয়। যার মাধ্যমে অন্যান্য মাসসমূহে রোজাদার নিজেকে একটি নিয়মতান্ত্রিক পদ্ধতিতে পরিচালিত করতে পারে।

শুধু তাই নয়, সহিহ-শুদ্ধ সিয়ামের জন্য রোজাদারকে অন্যায়-অনাচার, ঝগড়া-পরনিন্দা, অশ্লীলতা ও অশোভন কাজ পরিহার করতে হয়। দীর্ঘ একমাস সিয়াম-সাধনার মাধ্যমে এভাবেই রোজাদারের মাঝে একটি সুন্দর নিয়মানুবর্তিতা প্রদর্শিত হয়। মাহে রমজানের এ নিয়মনীতি চর্চার ফলে আচার-আচরণ, নৈতিকতা, পানাহার ও স্বাস্থ্যের উন্নতির পরিবর্তন ব্যাপকভাবে পরিলক্ষিত হয়।

মানবজীবনে নিয়ম ও শৃঙ্খলা সব ক্ষেত্রেই সাফল্য বয়ে আনে। আর তা যদি শরীয়ত প্রদত্ত উপায়ে তৈরি হয়, তাহলে তাতে দুনিয়া ও আখিরাত উভয় জগতের সফলতার পথ উন্মোচিত হয়। মাহে রমজান আমাদের নিয়মানুবর্তিতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত, যা আমাদের প্রতিনিয়ত নিয়মানুবর্তিতার শিক্ষা দিয়ে যাচ্ছে। তাই প্রত্যেক রোজাদারের উচিত রমজানের এ শিক্ষাকে সারা বছর অনুসরণ করা।

#বাংলাটপনিউজ/আরিফ

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here