১২ জুনই বৈঠক হচ্ছে : ট্রাম্প

0
44

উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের সঙ্গে আগের জুনের ১২ তারিখেই বৈঠক হবে বলে আবারও নিশ্চিত করলেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সিঙ্গাপুরে এ বৈঠকের তারিখ এর আগে নির্ধারণ করা হয়েছিল।

শুক্রবার ফের ট্রাম্পের এ ঘোষণার পর থিতিয়ে পড়া উদ্বেগটা আবার চাঙ্গা হলো—এ দুই নেতার বৈঠকে আসলে কী ঘটতে যাচ্ছে?

সিঙ্গাপুরে ১২ জুন ট্রাম্প-উন বৈঠকের তারিখ ঠিক হওয়ার পরও দুই পক্ষের মধ্যে বাগিবতণ্ডা অব্যাহত ছিল। এ বিতণ্ডার এক পর্যায়ে ট্রাম্প বৈঠকটি বাতিল করে দেন, কিন্তু ২৪ ঘণ্টার মাথায় জানান, বৈঠকটি হতে পারে।

গত শুক্রবার উত্তর কোরিয়ার নেতা উনের ডান হাত হিসেবে পরিচিত সাবেক গোয়েন্দা প্রধান কিম ইয়ং চোলের সঙ্গে কথা বলার পর ট্রাম্প জানান, উনের সঙ্গে বৈঠকটা আগের তারিখেই হবে। হোয়াইট হাউসের ওভাল অফিসে শুক্রবার চোলের সঙ্গে দেড় ঘণ্টা আলাপ করেন ট্রাম্প। এ সময় তাঁর হাতে উনের চিঠি তুলে দেন চোল।

চোলের সঙ্গে বৈঠক ভালো হয়েছে মন্তব্য করে পরে ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা ১২ জুন সিঙ্গাপুরে বসতে যাচ্ছি। ’ উনের কাছ থেকে পাওয়া চিঠি ‘খুব আগ্রহোদ্দীপক’ ছিল, এমন মন্তব্য করলেও পরে তিনি স্বীকার করেন, চিঠিটা তিনি তখন পর্যন্ত খুলে দেখেননি।

উনের সঙ্গে এক বৈঠকেই সব লক্ষ্য অর্জন করা সম্ভব নয় মন্তব্য করে ট্রাম্প বলেন, ‘আমি কখনো বলিনি, এক বৈঠকে সব হবে। আমি মনে করি, এটা হতে যাচ্ছে একটা প্রক্রিয়া সম্পর্কটা কিন্তু গড়ে উঠছে এবং তা খুবই ইতিবাচক। ’

উত্তর কোরিয়াকে সম্পূর্ণ পরমাণু অস্ত্রমুক্তকরণে প্রস্তুত ‘শত শত’ নিষেধাজ্ঞার বাস্তবায়ন স্থগিত করে দেওয়া হবে, এমনটা উল্লেখ করে ট্রাম্প বলেন, ‘আমাদের মধ্যে যেখানে এত সুন্দরভাবে কথাবার্তা চলছে, সেখানে কেন আমি নিষেধাজ্ঞা দিতে যাব?’ পরমাণু নিরস্ত্রীকরণের স্বার্থে প্রয়োজনে উত্তর কোরিয়ার ওপর সর্বোচ্চ চাপ সৃষ্টির যে নীতি তিনি ধরে রেখেছিলেন, সে অবস্থান থেকে সরে এসে এদিন বলেন, ‘আমি ‘সর্বোচ্চ চাপ’ শব্দগুলো আর একদমই ব্যবহার করতে চাই না, কারণ আমাদের মধ্যে সম্পর্ক তৈরি হচ্ছে। আপনারা সম্পর্কটা দেখতেই পাচ্ছেন। ’

নতুন করে কোনো নিষেধাজ্ঞা না দেওয়ার প্রতিশ্রুতি ট্রাম্প কতটা পূরণ করতে পারবেন, সেটা পর্যবেক্ষণের বিষয় বটে, তবে যেটা দৃশ্যমান তা হলো, উত্তর কোরিয়ার প্রতিবেশী দেশ থেকে সেনা প্রত্যাহারের কোনো ভাবনাই আপাতত যুক্তরাষ্ট্রের নেই। দক্ষিণ কোরিয়ায় মোতায়েন সাড়ে ২৮ হাজার মার্কিন সেনার প্রসঙ্গে গতকাল শনিবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী জিম ম্যাটিস স্পষ্ট বলেছেন, ‘সিঙ্গাপুরে ১২ জুনের বৈঠকের টেবিলে ওই (দক্ষিণ কোরিয়া থেকে সেনা প্রত্যাহার) ইস্যু থাকবে না আর থাকা উচিতও না। ’

গতকাল সিঙ্গাপুরে অনুষ্ঠিত নিরাপত্তা সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন। তিনি জানান, দক্ষিণ কোরিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের সেনা মোতায়েন থাকার বিষয়টি সিউল-ওয়াশিংটনের নিজস্ব বিষয় এবং ট্রাম্প-উন বৈঠকে সমঝোতার সঙ্গে এর কোনো সম্পর্ক নেই।

ট্রাম্পের গত শুক্রবারের বক্তব্য যাই হোক, এর আগ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র দাবি করে এসেছে, তারা উত্তর কোরিয়াকে পরমাণু অস্ত্রমুক্তকরণে ‘সম্পূর্ণ, যাচাইযোগ্য ও অপরিবর্তনযোগ্য’ পদক্ষেপ চায়। অন্যদিকে উত্তর কোরিয়া বলেছে, যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে নিরাপত্তার পূর্ণ নিশ্চয়তা পেলেই তবেই শুধু তারা পরমাণু কর্মসূচি সম্পূর্ণ বাদ দেবে।

বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে ্পূর্ণ নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আওতায় দক্ষিণ কোরিয়া থেকে সব মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের ইস্যুটিও গুরুত্বপূর্ণ। এই যখন পরিস্থিতি, তখন উনের সঙ্গে ট্রাম্প বৈঠকের নিশ্চয়তা দিলেও, ম্যাটিস জানালেন, কোরীয় উপদ্বীপ থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহার নিয়ে কোনো কথা হবে না।

শুধু ম্যাটিসের এ সাম্প্রতিক বক্তব্য নয়, খোদ ট্রাম্প ও উনের অবস্থানও আগামী বৈঠকের সফলতার ব্যাপারে পর্যবেক্ষকদের মধ্যে আশঙ্কার জন্ম দিয়েছে।

বরাবরের শক্ত অবস্থান থেকে গত শুক্রবার ট্রাম্পের সরে আসার ব্যাপারে সেন্টার ফর ন্যাশনাল ইন্টারেস্টের প্রতিরক্ষা গবেষণা বিষয়ক পরিচালক হ্যারি কেজিয়ানিস বলেন, ‘ঠিক এই মুহূর্তে ট্রাম্পের উত্তর কোরিয়া নীতি একটা অনিশ্চয়তার মধ্যে আছে বলে মনে হচ্ছে। আপাতদৃষ্টিতে মনে হচ্ছে, উত্তর কোরিয়াকে ভুলিয়ে-ভালিয়ে একটা সম্ভাব্য পরমাণু চুক্তির দিকে নিয়ে যাওয়াই ট্রাম্পনীতির লক্ষ্য। ’

উত্তর কোরিয়াকে নিরাপত্তা ও ব্যাপক অর্থনৈতিক সহযোগিতার যে আশ্বাস যুক্তরাষ্ট্র দিচ্ছে, তা থেকে কেজিয়ানিস এমন ধারণা করছেন বলে জানান। সেই সঙ্গে তিনি আশঙ্কা করছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সুবিধাটুকু আদায় করে উত্তর কোরিয়া নিজেদের পরমাণু অস্ত্রের অবস্থানে অটল থাকার মতো প্রতারণা করতে পারে। সে ক্ষেত্রে উত্তর কোরিয়ার লোক-দেখানো আনুগত্যের ফাঁদ থেকে ট্রাম্পের অবশ্যই সাবধান থাকা দরকার বলে মন্তব্য করেন এ বিশ্লেষক।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের কাউন্সিল অন ফরেইন রিলেশনসের যুক্তরাষ্ট্র-কোরিয়া নীতিবিষয়ক কর্মসূচির পরিচালক স্কট সিন্ডার ট্রাম্পের আশ্বাসের ব্যাপারেও সতর্কবার্তা দেন। উত্তর কোরিয়ার ওপর ‘সর্বোচ্চ চাপ সৃষ্টির’ নীতি থেকে সরে আসার যে ঘোষণা ট্রাম্প গত শুক্রবার দিয়েছেন, সে ব্যাপারে সিন্ডার বলেন, ‘অনেকে ধরে নেবে যে ‘সর্বোচ্চ চাপ’ অভিধাটি ব্যবহার না করার মানে হলো নিষেধাজ্ঞার পর্ব শেষ হলো। আমার ধারণা, এমনটা ভাবার সময় এখনই আসেনি। ’

হেরিটেজ ফাউন্ডেশনের কর্মকর্তা ব্রুস ক্লিংগার মনে করছেন, ট্রাম্প ও উনের মধ্যে নৈকট্য সৃষ্টির সম্ভাবনা কম। কেননা পরমাণু অস্ত্র আর ক্ষেপণাস্ত্র ছাড়লেও উন পরমাণু কর্মসূচি ফের চালু করার সক্ষমতা হারাতে চাইবেন না কোনোভাবেই। উনের তেমন কোনো সদিচ্ছা নেই বলেই বিশ্বাস যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দাদের।

তাদের দাবি, উন সম্প্রতি দেশি-বিদেশি সাংবাদিকদের উপস্থিতিতে পুংগিয়ে রি পরমাণু পরীক্ষাকেন্দ্রে যে বিস্ফোরণ ঘটিয়েছেন, সেটা ছিল নেহাত লোক-দেখানো। ভাসা ভাসা ওই বিস্ফোরণে পরমাণুকেন্দ্রটির বেশ খানিকটা অংশ অক্ষত রয়ে গেছে। গোয়েন্দাদের এ বিশ্লেষণ উনের মনোভাবকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে।

সূত্র : সিএনএন, এএফপি।

#বাংলাটপনিউজ/আরিফ

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here