‘নতুন’ বাংলাদেশ বনাম ‘উদীয়মান’ আফগানিস্তান

0
145

দুদলের জন্য যুদ্ধটা দুই রকমের। একটা দল যারা ক্রিকেটবিশ্বের কাছে নিজেদের নতুন করে তুলে ধরেছে, প্রতিনিয়ত লড়াই করে যাচ্ছে পরাশক্তি হিসেবে নাম খোদাই করার জন্য, তাদের সামনে এমন একটা দল যারা সদ্য টেস্ট স্ট্যাটাস পাওয়ার পর ছোট ফরম্যাটেও যেকোনো দলের জন্য হুমকি। বাংলাদেশ বনাম আফগানিস্তান। সুনাম ধরে রাখার চ্যালেঞ্জ বনাম যোগ্যতা প্রমাণের লড়াই।

রোববার বাংলাদেশ সময় রাত সাড়ে ৮টায় মুখোমুখি হবে দুই দল। ম্যাচটি সরাসরি সম্প্রচার করবে চ্যানেল আই ও গাজী টিভি।

এই টি-টুয়েন্টি ম্যাচ দিয়েই আন্তর্জাতিক অঙ্গনে পা রাখতে যাচ্ছে ভারতের রাজীব গান্ধী স্টেডিয়াম। উত্তরাখণ্ডের রাজধানী দেরাদুনে অবস্থিত ২৫ হাজার দর্শক ধারণক্ষমতার নতুন এ স্টেডিয়ামটি আফগানদের ‘হোম ভেন্যু’।

টি-টুয়েন্টি ফরম্যাটে আফগানিস্তানের বিপক্ষে একবার খেলেছিল বাংলাদেশ। মিরপুরে ২০১৪ সালের টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপে। সে ম্যাচের ফল জানলে অনেকেই হয়ত ভ্রু কুঁচকে বলবেন, আফগানিস্তানকে নিয়ে এত আলোচনার কী আছে? সেই প্রথম ও একমাত্র দেখায় মাত্র ৭২ রানে গুটিয়ে গিয়ে ৯ উইকেটে টাইগারদের কাছে হেরেছিল মোহাম্মদ নবীর দল।

এই ম্যাচ দিয়ে আফগানদের মোটেও বিবেচনা করে যাবে না। দলটির অধিনায়ক বদলেছে। দল হিসেবেও তারা বেশ উন্নতি করেছে। টেস্ট মর্যাদা ছাড়া বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে।

সময়ের ব্যবধানে বাংলাদেশও উন্নতির ধারায়। তবে ওয়ানডে ও টেস্টে এই সময়ে যতটা উন্নতি করেছে ততটা হয়নি টি-টুয়েন্টি ফরম্যাটে। র‌্যাংঙ্কিংয়ে আফগানিস্তানের চেয়ে দুই ধাপ পিছিয়ে থাকা সেটিই প্রমাণ করে। টাইগার অধিনায়ক সাকিব আল হাসান দলের সঙ্গে দেরাদুনে যাওয়ার আগে আফগানিস্তানকে ফেভারিট বলেছিলেন র‌্যাংঙ্কিংয়ের কারণেই।

চার বছর পর টি-টুয়েন্টিতে মুখোমুখি হতে যাওয়া দল দুটির মাঝে একটি ম্যাচ না গড়ালে বোঝার উপায় নেই আসলেই কারা এগিয়ে। ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশের সামনে আছে রশিদ খান চ্যালেঞ্জ। এই লেগস্পিনারকে নিয়ে বেশ আলোচনা হচ্ছে ক্রিকেটারদের  মাঝে। ভীত না হয়ে সমীহ করেই মোকাবেলা করার কথা দেশ ছাড়ার আগে জানান সহ-অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ।

অন্যদিকে আফগানিস্তানের সামনে আছে সাকিব চ্যালেঞ্জ। মুখোমুখি প্রথম দেখায় মাত্র ৮ রান দিয়ে এ বাঁহাতি স্পিনার নিয়েছিলেন  তিন উইকেট। এই ম্যাচে দারুণ একটি কীর্তি অপেক্ষা করছে সাকিবের জন্য। দুটি উইকেট নিতে পারলে বিশ্বের তৃতীয় ক্রিকেটার হিসেবে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ১০ হাজার রানের পাশাপাশি ৫০০ উইকেটের মালিক হবেন। এর আগে এই রেকর্ড আছে শহীদ আফ্রিদি এবং জ্যাক ক্যালিসের। একটি জায়গায় তারা সাকিবের চেয়ে পিছিয়ে। দুজনই ৫০০ ম্যাচের বেশি খেলে ওই মাইলফলকে পৌঁছান। সেখানে সাকিবের সামনে সুযোগ ৩০০তম ম্যাচে ওই কীর্তি গড়ার।

সাকিবের মতো রশিদ খানও ব্যক্তিগত মাইলফলকের সামনে দাঁড়িয়ে। একটি উইকেট নিতে পারলে টি-টুয়েন্টিতে দ্রুততম সময়ে ৫০ উইকেটের মালিক হবেন। রশিদ টি-টুয়েন্টি খেলছেন দুইবছর ২২০ দিন হল। যেটি ম্যাচের হিসেবে দ্বিতীয় দ্রুততম।

মোহাম্মদ নবীর সামনেও একটি কীর্তির হাতছানি। এই ম্যাচে ৩৯ রান করতে পারলে পঞ্চম অলরাউন্ডার হিসেবে টি-টুয়েন্টিতে এক হাজার রান এবং ৫০টির বেশি উইকেটের মালিক হবেন। আগের চারজন আফ্রিদি, সাকিব, থিসারা পেরেরা এবং ব্রাভো।

#বাংলাটপনিউজ/আরিফ