ভেদরগঞ্জের মাটি ও মানুষের সাথে মিশে আছেন ডা. মেঘনাদ সাহা

0
127

শরীয়তপুর প্রতিনিধিঃ চাকুরি জীবনের সবচেয়ে বেশী সময় পাড় করেছি ভেদরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে। পদোন্নতির কারনে প্রথমে মঠবাড়িয়ায় পরে ভাঙ্গা উপজেলার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১ বছর দায়িত্ব পালন করেছি। এছাড়া চাকুরি জীবনের ২৫টি বছর ভেদরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দায়িত্ব পালন করছি। ভেদরগঞ্জবাসী জানে আমি ডাক্তার ও প্রশাসক হিসেবে কেমন। তাই ভেদরগঞ্জবাসীর আবেদনের প্রেক্ষিতে পুনরায় এ হাসপাতালে যোগদান করেছি। সাংবাদিকদের সাথে খোশগল্পে এসব কথা বললেন ভেদরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মেঘনাদ সাহা।

তিনি আরও বলেন, প্রশাসক হিসেবে যোগদানের পর থেকে হাসপাতাল পরিস্কার পরিচ্ছন্নতার বিষয়ে নজরদারি, স্বল্প সংখ্যক চিকিৎসক ও জনবল দিয়ে শতভাগ চিকিৎসা সেবা প্রদান করে আসছি। উপজেলার ১৩টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভার ৩ লাখ মানুষের কেউ বলতে পারবে না যে, তারা চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত হয়েছে। প্রশাসক হিসেবে যোগদানের পরে কোথাও কোন স্বাস্থ্য সংকট নাই।


স্বাস্থ্য সেবায় অনিয়মের কোন রিপোর্ট আমার কাছে আসার পূর্বেই আমার স্বাস্থ্য পরিদর্শক জানতে পারে। তাকে নির্দেশণা দেয়া আছে অনাকাঙ্খিত কোন ঘটনা ঘটলে (যেমন, পানিতে ডুবে মৃত্যু, শিশু মৃত্যু, সাপে-কুকুরের কামড়, প্রাকৃতিক দূর্যোগ সহ কোন ঘটনা থাকলে) আমাকে জানাবে। কারণ আমার কাছে রিপোর্ট আসার পূর্বে সেই বিষয়ে আমার স্বাস্থ্য পরিদর্শক আগে জানবে। তবে এ পর্যন্ত আমার উপজেলায় এ ধরনের কোন ঘটনা ঘটেনি।

কয়েকদিন পূর্বে সকল ইউনিয়নে মেডিকেল টিম গঠন করেছি। সপ্তাহের প্রতি মঙ্গলবার সহকারী স্বাস্থ্য পরিদর্শকদের নিয়ে মিটিং করে মাঠ পর্যায়ের মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিয়ে আলোচনা করি। স্বাস্থ্য বিভাগের কোন নির্দেশণা থাকলে তাদের জানিয়ে দেই। মাসে ২টি সমন্বয় সভা করি। ১টি সিএইচসিপিদের নিয়ে এবং অপরটি স্বাস্থ্য বিভাগের ফিল্ড স্টাফদের নিয়ে। পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের মিটিং আলাদা ভাবে করা হয়। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিস্কার পরিচ্ছন্নতার ক্ষেত্রে স্টাফদের সাথে আমি উপস্থিত থাকি। এতে তারা উৎসাহিত হয়। প্রয়োজনে আমিও সহায়তা করি। ভর্তি রোগীদের চিকিৎসা ও মানসম্মত খাবার নিশ্চিত করার কথাও জানান ডা. মেঘনাদ সাহা।


জানাগেছে, হাসপাতালটি ৩১ শয্যা থেকে ৫০ শয্যায় উন্নিত হয়েছে। কিন্তু ৩১ শয্যার এ হাসপাতালে ২৭ জন চিকিৎসকের বিপরিতে বর্তমানে পদায়ন আছে ৭ জন। সিএইচসিপির ক্ষেত্রেও রয়েছে ৭ জনের সংকট। জনবল সংকটের মধ্যেও ভেদরগঞ্জ ও সখিপুরবাসী স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে না। মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে পেরে আত্মতৃপ্তি রয়েছে হাসপাতালের সকল কর্মকর্তা কর্মচারির মাঝেও। প্রতিদিন বহির্বিভাগে ১৬০ জন রোগীকে সেবা প্রদানের পাশাপশি ৫০ শয্যা হাসপাতালের ভর্তি রোগীদের সেবা প্রদান করতে হয়। ভর্তি রোগীদের খাবারের দিকেও বিশেষ নজরদারী রয়েছে ডা. মেঘনাদ সাহার। তিনি প্রশাসক হিসেবে যোগদানের পূর্বে ভর্তি রোগীরা সকালের নাস্তায় ১টি ডিম পেত। ডা. মেঘনাথ সাহা যোগদানের পরথেকে ভর্তি রোগীরা সকালের নাস্তায় ২টি করে ডিম পায়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here