কেমন থাকবে বিশ্বকাপ ভেন্যুগুলোর আবহাওয়া?

0
42

২০১৮ বিশ্বকাপ শুরু হতে আর মাত্র নয় দিন বাকি। অংশ নিতে যাওয়া দলগুলো রাশিয়ার বিশ্বমঞ্চ মাতানোর শেষধাপের প্রস্তুতি নিচ্ছে। খেলোয়াড়রাও নিজের আলো ছড়ানোর জন্য সর্বোচ্চটা ঢেলে ঘাম ঝরাচ্ছেন। প্রস্তুতি যেমনই হোক, খেলতে নেমে অবশ্য তাদের এমন একটি বিষয়ের মুখোমুখি হতে হবে, যা থাকবে আয়ত্তের বাইরে। সেটা স্টেডিয়াম অঞ্চলের আবহাওয়া।

রাশিয়ার ১১ শহরের ১২টি ভেন্যুতে হবে এবারের বিশ্বকাপের ম্যাচগুলো। সেখানে পূর্ব এবং পশ্চিমের শহরের মধ্যে দূরত্ব ১৫৫০ মাইল পর্যন্ত। এই দূরত্বের কারণেই আবহাওয়ায় যথেষ্ট তারতম্য থাকবে।

শুধু দলগুলোই নয়, যারা বিশ্বকাপ দেখতে যাবে তাদেরও শহরগুলোর আবহাওয়া সম্পর্কে জেনে রাখতে বলছেন আয়োজকরা। কোন শহরে উষ্ণতা বা শীত কতটুকু, কোথায় বৃষ্টির পরিমাণ বেশি, কোথায় বজ্রপাত বেশি হয় বা টর্নেডোর মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগের সম্ভাবনা রয়েছে, সেটি জানতেই এই আয়োজন-

ভলগোগ্রাদ
রাশিয়ার উষ্ণ শহরগুলোর অন্যতম ভলগোগ্রাদ। জুনে সেখানে গড় তাপমাত্রা ২৬.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। জুলাইতে গড় তাপমাত্রা থাকে ২৯.৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস। জুনে মাসিক বৃষ্টিপাতের পরিমাণ ৪১ মিলিমিটার এবং জুলাইতে সেটা গিয়ে দাঁড়ায় ৩৫ মিলিমিটারে। বিশ্বকাপ হবে জুন-জুলাই জুড়ে, তাপমাত্রার সঙ্গে বৃষ্টির হানাও থাকবে।

রোস্তভ
রোস্তভের তাপমাত্রাও ভলগোগ্রাদের মতো। তবে বৃষ্টির পরিমাণ কিছুটা বেশি। জুনে সেখানে গড় তাপমাত্রা থাকে ২৬.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। জুলাইতে গড় তাপমাত্রা ২৯.২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। জুনে মাসিক বৃষ্টিপাতের পরিমাণ ৭০ মিলিমিটার এবং জুলাইতে সেটা গিয়ে দাঁড়ায় ৫৩ মিলিমিটারে।

সোচি
যারা সোচি ভ্রমণ করবে তাদের মোটামুটি তাপমাত্রার মধ্য দিয়ে যেতে হবে। সেখানে জুনে গড় তাপমাত্রা থাকে ২৪.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। জুলাইতে গড় তাপমাত্রা থাকে ২৭.৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। তবে প্রচুর বৃষ্টির জন্য ভ্রমণকারীদের সতর্ক থাকতে হবে। কারণ সেখানে জুনে গড় বৃষ্টিপাতের পরিমাণ ১০৪ মিলিমিটার এবং জুনে বেড়ে দাঁড়ায় ১২৮ মিলিমিটারে।

সামারা
ভলগোগ্রাদ, রোস্তভ ও সোচির মতো একই গড় মাত্রার তাপ থাকে সামারায়। সেখানে জুনে গড় তাপমাত্রা ২৫.৩ ডিগ্রি সেলসিয়া এবং জুলাইতে ২৬.৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস। মাসিক গড় বৃষ্টিপাত ৫৬ মিলিমিটার ও জুলাইতে ৫৭ মিলিমিটার।

কাজান
ফুটবলার এবং সমর্থকদের জন্য বেশ আরামদায়ক হবে কাজান শহর। সেখানে জুনে গড় তাপমাত্রা থাকে ২৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং জুলাইতে ২৫.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। মাসিক গড় বৃষ্টিপাত ৬৩ মিলিমিটার ও জুলাইতে ৬৭ মিলিমিটার।

নভগোরোদ
নভগোরোদে জুনে গড় তাপমাত্রা থাকে ২২.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং জুলাইতে ২৪.৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। যদিও সেখানে ৩৮.২ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত তাপমাত্রা দেখা গেছে। এখানে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ একটু বেশি। জুনে গড় বৃষ্টিপাত ৭৬ মিলিমিটার ও জুলাইতে ৭৩ মিলিমিটার।

একাটেরিনবার্গ
জুনে একাটেরিনবার্গে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা থাকে ২৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং জুলাইতে সর্বোচ্চ গড় তাপমাত্রা ২৪.৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। সেখানে মাসিক বৃষ্টিপাত জুনে ৭৫ মিলিমিটার এবং জুলাইতে ৯০ মিলিমিটার।

মস্কো
মস্কোর দুটি স্টেডিয়াম হবে বিশ্বকাপের ম্যাচ। রাজধানীর লুঝনিকি ও স্পার্টাকে হবে ম্যাচগুলো। মস্কোতে জুনে তাপমাত্রা থাকে সর্বোচ্চ ২২ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং জুলাইতে সর্বোচ্চ গড় তাপমাত্রা ২৪.৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস। রুশ রাজধানীতে মাসিক গড় বৃষ্টিপাত জুনে ৮০ মিলিমিটার এবং জুলাইতে ৮৫ মিলিমিটার।

সারানস্ক
সারানস্ক গেলেই উষ্ণতা থেকে ঠাণ্ডার ছোঁয়া পাবেন ফুটবলার ও সমর্থকরা। সেখানে জুনে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা হয় ২২.৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং জুলাইতে ২৩.৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস। জুনে মাসিক গড় বৃষ্টিপাত ৫৯ মিলিমিটার এবং জুলাইতে ৭৪ মিলিমিটার।

সেইন্ট পিটার্সবার্গ
জুনে তাপমাত্রার গড় ২০ ডিগ্রি সেলসিয়াস ও জুলাইতে ২৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা নিয়ে উষ্ণতারই আহ্বান জানাচ্ছে সেইন্ট পিটার্সবার্গ। সেখানে মাসিক গড় বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে জুনে ৭১ মিলিমিটার ও জুলাইতে ৬৭ মিলিমিটার।

কালিনিনগ্রাদ
কালিনিনগ্রাদের তাপমাত্রাও কাছাকাছি পর্যায়ের। সেখানে গড় তাপমাত্রা জুনে ২০.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং জুলাইতে ২৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস। মাসিক সর্বোচ্চ গড় বৃষ্টিপাত জুনে ৭৯ মিলিমিটার এবং জুলাইতে ৭৭ মিলিমিটার।

তাপমাত্রা ও বৃষ্টিপাতের তারতম্য বিশ্বকাপ দেখতে যাওয়া ভ্রমণকারীরদের নানা রকম পরিস্থিতি ও অভিজ্ঞতার মুখোমুখি করবে নিশ্চিতভাবেই। সেইসঙ্গে অংশ নেয়া দলগুলোকেও ভিন্ন ভিন্ন পরিস্থিতির সঙ্গে অতিদ্রুত মানিয়ে নিতে হবে।

#বাংলাটপনিউজ/আরিফ

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here