নিঃস্বার্থ মেসির কোনও অহংকার নেই: সুয়ারেজ

0
37

বিশ্বকাপ মহারণে নামার আগে ক্লাব সতীর্থ লিওনেল মেসির আরেকদফা প্রশংসা করেছেন লুইস সুয়ারেজ। উরুগুয়ে তারকা বলেছেন, অবিশ্বাস্য সব রেকর্ড ভাঙা-গড়ার কৃতিত্ব থাকা সত্ত্বেও মাঠে নিঃস্বার্থ মেসির কোনো অহংকার নেই।

বার্সার হয়ে দিনের পর দিন প্রায় একইরকম পারফর্ম কর চলেছেন মেসি। অন্যান্য যুগের সঙ্গে মিলিয়ে তাকে ফুটবলের অন্যতম গ্রেটদের সারিতে রাখা হচ্ছে। পাঁচবারের ব্যালন ডি’অর জয়ী আর্জেন্টাইন তারকা কাতালান জার্সিতে সাড়ে ৫০০’র (৫৫২) বেশি গোল করেছেন।

৩০ বছরের মেসি একের পর এক গোল করেও বছরের পর বছর সতীর্থদের কাছে নিজেকে নিঃস্বার্থ প্রমাণ করেছেন। এমনটাই বলছেন সুয়ারেজ, ‘লিও আমার সতীর্থ এবং বন্ধু। ব্যক্তি হিসেবে দারুণ এবং একজন গ্রেট পারিবারিক মানুষও। শুধু আমিই মেসিকে এভাবে দেখি না, পুরো দুনিয়াই এভাবে দেখে।’

বার্সার ড্রেসিংরুমে মেসির সঙ্গে চার বছর কাটিয়ে ফেলেছেন ‍সুয়ারেজ। তাই এলএম টেনের ব্যাপারে বেশ ভালো ধারণাই হয়েছে, ‘তার সঙ্গে মাঠে আমার অনেক মুহূর্তের কথা মনে আছে। আমার শুধু এই ধারণাই হয়েছে যে, সে কত বড় ফুটবলার। আর কি অবিশ্বাস্য সব কাজই না করেছে।’

একটা ভয়াবহ সংকটের মধ্যদিয়ে লিভারপুল ছেড়ে বার্সেলোনায় যোগ দিয়েছিলেন সুয়ারেজ। সেসময় অনেক কঠিন পথ পাড়ি দিতে হয়েছে তাকে। সেই কঠিন সময়ে প্রতি মুহূর্তে পাশে পেয়েছেন মেসিকে।

মেসি তাকে বড় তারকা হয়ে উঠতে কীভাবে সাহায্য করেছেন এবং এখনও করছেন সেকথাই সবাইকে জানিয়েছেন সুয়ারেজ, ‘আমরা শুধু ফুটবলারই না। আমরা সন্তানের বাপও। কাছাকাছি বয়সী আমাদের দুজনের মানসিকতাও একই রকম। আমরা এক সঙ্গে মজা করি, সাফল্য উপভোগ করি, মাঝে মধ্য খাওয়া-দাওয়াও এক সঙ্গে করি। তার ফলেই আমাদের এত সুন্দর বন্ধুত্ব হয়েছে এবং সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে বিশ্বাসের ভীতটা হয়েছে অটুট।’

কিকারকে দেয়া সাক্ষাতকারে সুয়ারেজ আরও বলেন, ‘ফুটবলে প্রকৃত বন্ধু খুঁজে পাওয়া অনেক কঠিন। বিশেষ করে সে যদি একই পজিসনে খেলে। একটা দলে অনেক অহংকারেরও ছড়াছড়ি থাকে। কিন্তু আমাদের দলে সেরকম কিছু নেই। কখনও ছিলও না। সেটা বছরের পর বছর আমার প্রমাণ করে এসেছি।’

উরুগুইয়ান তারকার আরও সংযোজন, ‘সে আমাকে গোল্ডেন বুট পেতে সাহায্য করেছে। আমাদের মধ্যে কোনো ঈর্ষা নেই, বন্ধুর সঙ্গে সব জিনিস ভাগাভাগি করে নিয়ে তার জন্য গর্ব করি।’

মেসি-সুয়ারেজের সঙ্গে মিলে একটা সময় বার্সায় ভয়ংকর আক্রমণভাগ গড়ে তুলেছিলেন নেইমার। কিন্তু ২০১৭ সালে বিখ্যাত ‘এমএসএন’ ভেঙে প্যারিসে চলে গেছেন ব্রাজিল তারকা।

সুয়ারেজ বলেন, ‘নেইমার পিএসজিতে যাওয়া নিয়ে কিছুটা দ্বিধা-দ্বন্দ্বে ছিল। তবে তারা দুজনেই ব্রাজিল তারকার মনের চাওয়াকে সমর্থন করেছেন।

সুয়ারেজ বলেন, ‘মেসি এবং আমি, দুজনেই তার সঙ্গে কথা বলেছি। কারণ সে(নেইমার) আমাদের মতামত চেয়েছিল। তার মনের মধ্য দ্বিধা-দ্বন্দ্ব ছিল। সে এখানে(বার্সা) অনেকদিন ছিল এবং প্রয়োজনীয় সবকিছুই পেয়েছে। আমি মনে করি না সে অর্থের জন্য গেছে। তার অন্য কোনো লক্ষ্য আছে, যেটা সে প্যারিস থেকে অর্জন করতে চায়।’

তবে সুয়ারেজ যাই বলুন না কেনো বার্সলোনা তারকাকে কিংবদন্তি ফুটবলারদের সারিতে রাখছেন না রিয়াল মাদ্রিদের সাবেক গোলরক্ষক ফ্রান্সেসকো বুইয়ো। বরং মেসির চেয়ে ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোকেই এগিয়ে রাখছেন তিনি।

চারটি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ও নয়টি লা লিগা শিরোপা জয়সহ ক্লাবের হয়ে সম্ভব্য সব সাফল্যই পেয়েছেন মেসি। গেল মৌসুমেও বার্সেলোনার লা লিগা শিরোপা পুনরুদ্ধার এবং কোপা ডেল রে জয়ে রাখেন বড় অবদান। সব ধরনের প্রতিযোগিতায় করেন ৪৫ গোল।

তারপরও স্পেনের সাবেক এই ফুটবলার বলছেন, ‘লিগ ও কোপা ডেল রে জয়ের জন্যই কী মেসি এখানে? সেরা খেলোয়াড়রা চ্যাম্পিয়ন্স লিগ, বিশ্বকাপ ও কোপা আমেরিকা জেতে। মেসির আশেপাশে বার্সেলোনায় বড় মাপের অনেক খেলোয়াড় আছে। তাকে আপনারা যতটা ফল নির্ধারক মনে করেন আসলে সে ততটা নয়।’

#বাংলাটপনিউজ/আরিফ

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here