রাস্তার মধ্যখানে ভ্রাম্যমান ফল বিক্রেতা পথচারীদের জন্য বাকি রইল কি?

0
48

সিলেট প্রতিনিধি : সিলেট নগরীর বড় সমস্যা হকার। হকার মুক্ত সিলেট নগরী গড়তে আদালত স্বপনোদিত হয়ে রুল জারী করে। তাছাড়া সিসিক মেয়রের দায়িত্ব্য নেয়ার পর থেকে আরিফ কয়েক দফা অভিযান পরিচালনা করলেও কোন ফল পাওয়া যায়নি।

সর্বশেষ গত সোমবার বিকাল ৪টার দিকে সিলেট সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা নগরীর বন্দরবাজারে হকারদের সড়কে না বসতে অনুরোধ করেন। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে হকার্স লীগ নেতা আব্দুর রকিবের নেতৃত্বে হকাররা বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে নগর ভবনে হামলা চালায়। পরে সিসিকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ঐক্যবদ্ধ হয়ে হকারদের প্রতিহত করেন। এ ঘটনার পর হকাররা নিজেরাই নগরীর বন্দরবাজার ও জিন্দাবাজার এলাকায় হকারদের দোকানপাট ও কয়েকটি গাড়ি ভাঙচুর করে। তারা মেয়র আরিফের বিরুদ্ধে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে মিছিলও করে।

এ ঘটনায় মঙ্গলবার রাতে সিটি করপোরেশনের আইন সহকারী শ্যামল রঞ্জন দেব বাদি হয়ে কোতোয়ালী থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলা নং-১১। আজ প্রথম প্রহর রাত ১টার দিকে পুলিশ গ্রেফতার করে সিলেট মহানগর হকার্স কল্যান সমিতির সভাপতি ও হকার্স লীগ নেতা রকিব আলীকে। এতকিছুর পরও দখল মুক্ত হয়নি সিলেটের প্রান কেন্দ্র বন্দর। এ যেন সিসিক হকারদের চোর পুলিশ খেলা। আর এ খেলায় ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন সাধারন পথচারীরা। আর এদের কারণেই সিলেট শহর যানজটের নগরী হিসেবে খ্যাতি লাভ করেছে।

হকার সমস্যায় যেন পুরো শহর থমকে আছে। পড়ছে ব্যবসা-বাণিজ্যে বিরূপ প্রভাব। সিলেট শহরে ঢোকার পর হকার সমস্যা আর যানজটের কবলে পড়ে মানুষের নাভিশ্বাস। শহর থেকে বেরিয়ে যাবার পর যেন হাফ ছেড়ে বাঁচে সকলে। হাটাচলার সুবিধা না থাকায় প্রয়োজনে শহরে আসা মানুষগুলো প্রতিনিয়ত দুর্ভোগে ভোগে। চলতে গিয়ে কখনযানবাহনের চাপায় পড়ে এমন আতঙ্কে থাকে মানুষ। ফুটপাত দিয়ে তো হাঁটা যায়ই না, রাস্তার বেশ অংশও দখল করে রেখেছে হকার। এবার হকার রাস্তার ঠিক মধ্য স্থানও দখল করে নিয়েছে।

আসছে রমজানের ঈদ। ওই সময় এমনিতে শহরে যানজট বেড়ে যায়। বিশেষ করে বিকেল বেলা ইফতার তাড়িত সময়টায় যানজট লাগে বেশি। সবাই যে যার গন্তব্যে দ্রুত পৌঁছার আকুতি থেকে এ সমস্যার সৃষ্টি হয়। সিলেট শহরের বন্দরবাজার দিয়ে ঢোকা ও বেরিয়ে যাবার দুটি রাস্তার ফুটপাত হকারের দখলে। বন্দর বাজারের ৬০ ফুট প্রশস্ত রাস্তার প্রয় ২৫ ফুট হকারের দখলে। সিলেট শহরের কেন্দ্রবিন্দু কোর্ট পয়েন্ট। রাস্তার প্রশস্ততা প্রায় দেড় শত ফুট। ত্রিমুখী এরাস্তা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সেখানে ফুটওভার ব্রিজ করায় রাস্তার প্রশস্ততা কমেছে। ওইখানে আগে থেকেই রাস্তার একপাশে অটোরিকশা-লেগুনা স্ট্যান্ড দখল করে রেখেছে প্রায় ৩০/৪০ ফুট। অপরপাশে হকারের পসরায় আরো প্রায় ৩০/৩৫ ফুট তাদের দখলে। বাকি ৫০/৬০ ফুট দিয়ে এতদিন যানবাহন ও মানুষ চলাচল করত।

সম্প্রতি ফুটওভার ব্রিজের মধ্যের খুঁটি দখল করেছে আরো প্রায়২০ ফুট। রইল বাকি রাস্তার প্রায় ৩০/৪০ ফুট।
ক’দিন ধরে ফুটওভার ব্রিজের মধ্যের খুঁটি ঘেঁষে রাস্তার মধ্যস্থান দখল করে হকার বসায় প্রশস্ততা আরো ৫/৬ ফুট কমেছে। তাহলে রাস্তার জন্য রইল বাকি কি? ঢাকা শহরেও রাস্তার মধ্যখানে হকার বসতে পারে না। কেবল সিলেটেই বসছে। সেখানে পুলিশ দাঁড়িয়ে থাকে। মনে হয় পুলিশই হকারদের নিরাপত্তা দিচ্ছে। কেননা তাদের পকেট ভারী করার এটাও একটা মাধ্যম।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here