চিকন্দীতে ভিজিএফ এর চাল পায়নি কার্ডধারিরা !

0
113

শরীয়তপুর প্রতিনিধিঃ শরীয়তপুর সদর উপজেলার চিকন্দী ইউনিয়ন পরিষদের আওতায় গরীব অসহায় মানুষের ঈদুল ফিতর উদযাপনে জন্য ভিজিএফ এর চাল বিতরণ করা হয়েছে। সে ক্ষেত্রে চাল পরিমানে কম দেয়া ও শতাধিক কার্ডধারীকে চাল না দেয়ার অভিযোগ রয়েছে চেয়ারম্যান ও মেম্বারদের বিরুদ্ধে। অভিযোগের ভিত্তিতে সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার ঘটনাস্থল পরিদর্শণ করে অভিযোগের সত্যতা পেয়েছে।

চিকন্দী ইউনিয়ন পরিষদ সূত্রে জানাগেছে, ২০১৭-২০১৮ অর্থ বছরে পরিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে বিশেষ ভিজিএফ কর্মসূচির মাধ্যমে ইউনিয়নের গরীব অসহায় মানুষের তালিকা করে ১ হাজার ৯৫৮ জনের মাঝে ১০ কেজি করে চাল বিতরণের কথা ছিল। আজ চাল বিতরণে দায়িত্ব পালন করেন ইউপি চেয়ারম্যান এনামুল হক মুন্সীর ভাই দেলোয়ার মুন্সী ও ওয়ার্র্ড মেম্বারগণ। তারাই মাস্টাররুল নিয়ন্ত্রন করেন। ইউপি সচিব পরিষদে থাকা পর্যন্ত যে সকল কার্ডধারি উপস্থিত হয়েছে তারাই ১০ কেজির স্থলে ৮ কেজি পরিমান চাল পেয়েছে। সচিব চলে যাওয়ার পর যে সকল কার্ডধারিগণ উপস্থিত হয়েছে তারা কোন চাল পায়নি।

চাল না পেয়ে ১০১, ৯৬০, ১২৬৬, ১৭০৮ নম্বর কার্ডধারি রুনা বেগম, শাবানা বেগম, খায়রুন্নেছা, মন্নান সওদাগর সহ শতাধিক কার্ডধারি অভিযোগ করেন, তারা কার্ড নিয়ে সকাল সারে ১০টার পর পরিষদে উপস্থিত হয়ে কোন চাল পায়নি। চেয়ারম্যান মেম্বার বলেছে চাল শেষ হয়েগেছে। আমরাতো তালিকা ভূক্ত। তাহলে আমার চাল কই। এ সময় চাল পেয়েও অনেকে অভিযোগ করেছে তাদের ২ কেজি করে চাল কম দেয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে ইউপি সচিব দুলাল বলেন, আমি যতক্ষণ চাল বিতরণ করেছি ততক্ষন কেউ চাল না পেয়ে ফেরত যায়নি। আমি চেয়ারম্যানের ভাই দেলোয়ার মুন্সীর কাছে মাষ্টাররুল জমা করে ইউএনও অফিসে যাই। তখনও অনেকে চাল নিতে আসেনি। তার পরে কি হয়েছে তা আমি জানি না।

চাল ওজনে কম দেয়া ও অনেক কার্ডধারি চাল না পাওয়ার বিষয়ে জানতে চিকন্দী ইউনিয়ন পরিষদে গিয়ে চেয়ারম্যান এনামুল হক মুন্সীকে পাওয়া যায়নি। একাধিকবার ফোনকরা হলেও চেয়ারম্যান এনামুল হক মুন্সী ফোন তুলেননি। পরবর্তীতে ফোনে মেম্বার তমিজ খানের সাথে কথা হয়। তিনি জানায়, কেউ চাল না পেয়ে ফেরত গেছে এমন খবর তার জানা নাই।


এ বিষয়ে এলাকার সাধারণ ও সচেতন মানুষের সাথে কথা বলে জানাগেছে, চেয়ারম্যান এনামুল হক মুন্সী স্বেচ্ছাসেবকলীগের জেলার সভাপতি। তার দ্বারা সবই সম্ভব। এ পূর্বেও তিনি ১০ টাকা কেজি দরের চালের তালিকায় মা, ভাই-বোন, চাচা-মামা সহ নিকট আত্মীয়দের নাম দেখিয়ে ৭-৮ মেট্রিকটন চার আত্মসাত করতে গিয়ে ধরা পরেছে। এটা তার জন্য নতুন কিছুই না।

এ বিষয়ে সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. জিয়াউর রহমান বলেন, চাল ওজনে কম দেয়ার কথা শুনে চিকন্দী এলাকায় যাই। কয়েকজনের চাল ওজন করেছি। ৮ কেজি ৭শ গ্রাম পর্যন্ত চার পাওয়া গেছে। এ প্রতিবেদন জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে পাঠিয়ে দেয়া হয়েছে। কার্ডধারিরা চাল পায়নি তা আমার জানা নাই। এ বিষয়ে অভিযোগ পেলে চেয়ারম্যানকে নিয়ে বসে বিষয়টি সমাধান করা হবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here