সেই হতদরিদ্র পরিবারের দায়িত্ব নিলেন কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসক

0
198

হতদরিদ্র সেই পরিবারটির দায়িত্ব নিয়েছেন কুড়িগ্রামের জেলা প্রশাসক মোসাম্মৎ সুলতানা পারভীন। রোববার একটি ছবিতে দেখা যায়, জ্বরে বেহুঁশ হয়ে ফুটপাতে শুয়ে থাকা এক মায়ের মাথায় পরম যত্নে পানি ঢালছে ছোট্ট একটি শিশু। আর পাশে বসে অবাক চোখে তা দেখছে তারই ছোট ভাই।

এমন একটি ছবি আলোচনার ঝড় তোলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে। এ নিয়ে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রচারের পর সেই পরিবারটির দায়িত্ব নেন কুড়িগ্রামের জেলা প্রশাসক।

পরিবারটি তাদের আদি বাসস্থান কুড়িগ্রামে ফিরে যেতে চায়। সেজন্য জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নেয়া হয়েছে সব ধরনের ব্যবস্থা। পরিবারটির স্থায়ীভাবে থাকার জন্য বরাদ্দ দেয়া হচ্ছে সরকারি খাস জমি। সেই সাথে সন্তানদের পড়াশুনাসহ তাদের বাবা আনসার আলীর কর্মসংস্থানেরও ব্যবস্থা করা হবে।

কুড়িগ্রামের জেলা প্রশাসক মোসাম্মৎ সুলতানা পারভীন বলেন, সাধারণ মানুষের  মানবিক দায়িত্ব থেকে আমি তাদের দায়িত্ব নিয়েছি। পরিবারটিকে নিয়ে আমি যখন সংবাদ দেখতে পাই, তখন আমাকে ভীষণভাবে নাড়া দেয়। একজন জেলা প্রশাসক হিসেবে নয় সাধারণ মানুষ হিসেবেই আমি তাদের দায়িত্ব নিয়েছি। তারা যাতে স্বচ্ছন্দে থাকতে পারে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তার সব রকমের ব্যবস্থা আমি করবো।

‘তারা আগে কুড়িগ্রাম সদরের যে সরকারি খাস জমিতে থাকতো সেখানেই আবার ফিরে যেতে চেয়েছে। আমি তাদের সেখানেই ফিরিয়ে নিয়ে যাব আগের থেকে যেন বেশি জমি পায় সেই ব্যবস্থা করে দেবো।’

কোন মানুষ গৃহহারা থাকবে না- সরকারের এমন লক্ষ্যের কথা উল্লেখ করে সুলতানা পারভীন আরো বলেন,  সেই লক্ষ্য বাস্তবায়ন করাই আমাদের কাজ। সেখানে আমার কুড়িগ্রামের একটি পরিবার এমন অসহায়ভাবে রাজধানীতে খোলা আকাশের নিচে থাকবে এটা মেনে নেয়া যায় না।

‘আমি তাদের ভাল রাখার সর্বোচ্চ চেষ্টা করব। বাচ্চাগুলোকে স্কুলে ভর্তি করিয়ে দেবো। খাওয়া-দাওয়ার ব্যবস্থা করে দেবো। ওদের বাবা কাজ করতে চেয়েছেন তার জন্য কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করব।’

শুধু কুড়িগ্রামের জেলা প্রশাসক হিসেবে নয়, একজন সচেতন নাগরিক হিসেবে নিজের দায়বদ্ধতা থেকে ওই পরিবারকে পুনর্বাসন করবো-যোগ করেন তিনি।

সেই মায়ের ছবি তোলা ও তা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে প্রকাশ করা তরুণ পারবেস হাসান জানান, আমার মনে হচ্ছে মানবতার জয় হয়েছে। এই পরিবারটির জন্য যত মানুষ দাঁড়াতে চেয়েছে তাতে আমি আপ্লুত। ওদের এখন আর খাওয়া পরার কষ্ট নেই। ওরা অনেক ভাল অাছে। জেলা প্রশাসক ওদের দেখেছেন এবং ওদের কুড়িগ্রামে ফিরিয়ে  নিয়ে যেতে চেয়েছেন।

রোববার রাস্তার পাশে জ্বরে বেহুশ সেই মাকে ব্যক্তি উদ্যোগে গণস্বাস্থ্য হাসপাতালে নিয়ে যান পারবেস। সেখানে চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে সন্তানদের কাছে ফেরেন মা।

সেই মায়ের নাম ফরিদা। বয়স ৩০ এর কোঠা ছুঁই ছুঁই। স্বামী আনসার আলী  দীর্ঘদিন ধরে ভুগছেন হার্টের রোগে। বছর সাত হল জীবিকার সন্ধানে কুড়িগ্রাম থেকে ঢাকায় এসেছে পরিবারটি। তারপর থেকে তারা ভাসমান জীবন-যাপন করছে। কখনো ফুলের মালা বিক্রি করে, কখনো ফুল বিক্রি করে চলে এই চার জনের সংসার। ছোট শিশু দুটোও মায়ের কাজে সহায়তায় কখনো ফুল কখনো বা চকলেট বিক্রি করে।

ফরিদার বড় সন্তানের নাম আকলিমা বয়স ১১ বছর। আর ৫ বছরের ছোট সন্তানের নাম ফরিদুর। অপুষ্টি আর খাদ্যাভাবে শিশুগুলো বাড়েনি বয়স অনুপাতে।।

যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ছবিগুলোতে দেখা যায়, একজন অসুস্থ মা ফুটপাতে শুয়ে কাতরাচ্ছেন। পাশে তার দুই ছোট ছোট সন্তান। পানি রাখার কোনো পাত্র নেই তাদের। আর তাই একটি বোতলের ছিপিতে করে আর হালিমের একটি খালি পাত্রে করে পানি ঢালছে মায়ের মাথায়। আরেকটি শিশু মায়ের পাশে অসহায়ভাবে বসে রয়েছে।

পাশেই একটি পলিথিনের প্যাকেটে ছিলো পাউরুটি আর কলা। তাতে কোন আগ্রহ নেই শিশু দুটোর। মাকে সুস্থ করে তোলাই যেন তাদের একমাত্র দায়িত্ব।

তবে এখন তারা স্কুলে পড়বে। ফিরে পাবে তাদের শৈশব।

#বাংলাটপনিউজ/আরিফ

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here