চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জে শশুর-পুত্রবধূর চাঞ্চল্যকর বিয়ে !

0
123

চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি ॥ চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার শিবগঞ্জ উপজেলার ধাইনগর ইউনিয়নে প্রেমের সম্পর্কের জের ধরে শশুর-পুত্রবধূর চাঞ্চল্যকর বিয়ের খবর পাওয়া গেছে। ঘটনার বিষয়বস্তু তেমন জটিল না হলেও চেয়ারম্যানের মোটা অংকের চাওয়া উৎকোচ দিতে অস্বীকার করায় জোরপূর্বক বিয়ে দিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। ধাইনগর ইউপি চেয়ারম্যান তাবারিয়া চৌধুরী ও পরিষদের ২জন সদস্য মিলে এ কান্ড ঘটিয়েছেন বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে।

জানা গেছে, শিবগঞ্জ উপজেলার ধাইনগর ইউনিয়নের মহেষপুর গ্রামের বাবর আলীর ছেলে ইউসুফ আলীর সঙ্গে একই ইউনিয়নের জাবড়ি কাজিপাড়া গ্রামের মৃত জোবদুল হক জোবুর মেয়ে সাথী খাতুনের সাথে প্রায় ১ বছর আগে বিয়ে হয়। বিয়ের পর স্বামী নিয়ে একই বাড়ীতে বসবাস করছিল সাথী। সাথীর স্বামী বাড়িতে থেকেই বিভিন্ন কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করে থাকে। এরই মধ্যে পুত্রবধু সাথীর উপর কু-নজর পড়ে শশুর বাবর আলীর। দিনে দিনে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে শশুর বাবর ও পুত্রবধু সাথীর। এক পর্যায়ে দৈহিক মেলামেশাও শুরু হয় দু’জনের মধ্যে। ‘কথায় বলে চোরের ১০ দিন, গেরস্তের ১দিন’। কিন্তু ১০ দিন চুরি করলেও একদিন ধরা পড়লেই সব শেষ।

তেমনী ভাবে প্রেমিক যুগল বাবর ও সাথীর কূকীর্তি ধরা পড়ে বাবরের পরিবার ও এলাকার মানুষের চোখে। মেল মেশার এক পর্যায়ে সাথীর গর্ভে সন্তানও আসে। কিন্তু সাথীর গর্ভের সন্তানটি কার বাবরের নাকি ইউসুফের? এনিয়ে এলাকায় সোরগোল পড়ে যায় এবং তোলপাড়ও শুরু হয়। অবশেষে এ সমস্যার সমাধানের জন্য ধাইনগর ইউনিয়ন পরিষদে বিচারের ব্যবস্থা হয়। চেয়ারম্যান তাবারিয়া চৌধুরীর নির্দেশে গত ২১ জুন দিবাগত রাতে সারারাত ধাইনগর ইউনিয়ন পরিষদের কক্ষে ঘটনার সাথে জড়িত পূত্রবধূ ও শশুরকে আটকে রাখে।

তবে বিষয়টি সঠিকভাবে তদন্তের মাধ্যমে সুষ্ঠ সমাধান না করে, বিচার ধামাচাপা দেয়ার জন্য উল্টো ভুক্তভোগী পরিবারটির কাছে ২ লক্ষ টাকা উৎকোচ দাবী করেন চেয়ারম্যান। এই উৎকোচের অর্থ দিতে অস্বীকার করায় চেয়ারম্যান অগ্নিমুর্তি ধারণ করেন। নিজেই বিচার করে রায় দিয়ে হুকুম দেন প্রথমে ইউসুফ সাথীকে তালাক দেবে, বাবর-সাথীর বিয়ে পড়াতে হবে। একইসাথে জোরপূর্বক বাবরের স্ত্রী ৩ সন্তানের জননী নাসিমা বেগমকেও তালাক দেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়।

চেয়ারম্যানের কথমতো কাজ। ইউনিয়ন পরিষদের ২ সাধারণ সদস্য আব্দুস সুবহান ও হোসেন আলী এবং গ্রাম্য পুলিশ আনারুল হক চেয়ারম্যানের দেয়া নির্দেশ পালনের জন্য উঠে পড়ে লাগেন। অবশেষে চেয়ারম্যানের নির্দেশ মোতাবেক বিচারের রায় বাস্তবায়ন করা হয়। এসব কাজে সার্বিক সহযোগিতা করেন অত্র ইউনিয়ন পরিষদের কম্পিউটার অপারেটর সেতাউর রহমান। এখন প্রশ্ন হচ্ছে, কাজী নেই, মৌলবী নেই, আবার ছয় মাসের অন্তসত্ত্বা বধুর বিয়ের নির্দেশ, ইসলামী শরিয়তের কোন তোয়াক্কা নেই। চেয়ারম্যান বলেই কি এমন অসামাজিক কাজ করা সমিচিন হয়েছে? আবার বাবর-সাথীর সম্পর্কটাও ইসলামী শরিয়ত বা সামাজিক কোনটাই নয়, সম্পুর্ণটায় অসামাজিক।

শুধু উৎকোচ না পেয়ে জোরপূর্বক এমন কাজ করেও শালিসে উপস্থিত সকলের মাঝে মিষ্টি বিতরণ করেন এবং উল্লাস করেন চেয়ারম্যানের লোকজন বলেও জানান বাবরের স্ত্রী নাসিমা বেগম ও এলাকাবাসী। এবিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে বেশ কয়েকজন এলাকাবাসী ও আওয়ামীলীগ নেতা জানান, ধাইনগর ইউনিয়নের মহেষপুর গ্রামের বাবর আলীর পরিবারের ঘটনাগুলো বিতর্কিত হলেও সত্য। বাবরের ছেলে বিয়ের পর থেকেই বাড়িতে থেকে বিভিন্ন কাজ করলেও কোথাও বাইরে যায় না। তারপরও বাড়ির পুত্রবধূর উপর শশুরের কূ-নজর, বিষয়টি অবশ্যই অসামাজিক এবং অমার্জনীয়।

তারপর আবার বিচার ধামাচাপা দেয়ার নামে অসামাজিক কাজকে প্রশ্রয় দেয়ার লক্ষ্যে বাবরের পরিবারের কাছ থেকে মোটা অংকের অর্থ উৎকোচ চাওয়া, এটিও একজন চেয়ারম্যানের অসামাজিক কাজের মধ্যেই পড়ে। আর উৎকোচ না পাওয়ার কারণে আবার জোরপূর্বক কোন আইনী তোয়াক্কা না করে বিয়ের ব্যবস্থা নেয়াও অবিচার করা। অবশ্য চেয়ারম্যান তাবরিয়ার বিরুদ্ধে ডজনেরও বেশী সালিশের টাকা আত্মসাৎ করা এবং সালিশে উৎকোচ গ্রহণ করে বিচার এদিক-ওদিক করার অনেক ঘটনা রয়েছে।

এ ব্যাপারে চেয়ারম্যান তাবারিয়া চৌধুরীর কাছে শশুর-পুত্রবধূর অনৈতিক কাজের সমাধানের জন্য উৎকোচ দাবীর বিষয়টি জানতে চাইলে, তিনি বিষয়টি স্বীকারও করেন। কিন্তু বিয়ে পড়ানোর বিষয়টিও তিনি অস্বীকার করেন। তবে পরিষদে তাদের আটকে রেখে তালাক সম্পন্ন করা হয়েছিল বলে তিনি নিশ্চিত করেন।

এদিকে, এভাবে অবৈধভাবে জোরপূর্বক বিয়ের বিষয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা জর্জ কোর্টের সিনিয়র আইনজীবি এ্যাড. নুরুল ইসলাম সেন্টুর কাছে ইসলামের বিধান মোতাবেক দেশীয় প্রচলিত আইন সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ঘটনাটি বে-আইনী এবং অসামাজিক। যা ইসলামী শরীয়াহ্ কোন ভাবেই সমর্থন করে না। বিষয়টি নিয়ে শিবগঞ্জ উপজেলাসহ জেলায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here