আমেরিকার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের অভিযোগে রুশ মহিলাকে গ্রেপ্তার

0
90

আমেরিকার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের অভিযোগে এক রুশ মহিলাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অভিযোগ, রাশিয়ার হয়ে চরবৃত্তি করতেন ২৯ বছর বয়সি মারিয়া বুতিনা। দীর্ঘদিন ধরে এই কাজ করলেও, তিনি আমেরিকায় চরবৃত্তির জন্য নাম নথিভুক্ত করাননি।

সোমবার তাঁকে আদালতে তোলা হয়। বুধবার মামলার পরবর্তী শুনানি। মার্কিন জাস্টিস ডিপার্টমেন্টের পক্ষে আদালতে জানানো হয়েছে, ২০১৫ থেকে ২০১৭-র ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বুতিনা ক্রেমলিনের এক উচ্চ পদস্থ আধিকারিক আলেক্সান্দার তোর্সিনের সহকারি হিসেবে কাজ করেছেন। ওই আধিকারিক আগে রাশিয়ার আইনসভা সেনেটের সদস্য ছিলেন। এখন তিনি রাশিয়ান সেন্ট্রাল ব্যাঙ্কের শীর্ষ আধিকারিক। এপ্রিলে তোর্সিনের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে মার্কিন ট্রেজারি দপ্তর। জাস্টিস ডিপার্টমেন্টের নথিতে আরও বলা হয়েছে, রাশিয়ার স্বার্থে বুতিনা স্থানীয় মার্কিনী এবং অনুপ্রবেশকারী সংস্থাগুলোর সঙ্গে জনসংযোগ বাড়িয়ে আমেরিকার রাজনীতিকে প্রভাবিত করার কাজে নিয়োজিত ছিলেন। তবে সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বুতিনা।

জানা যাচ্ছে, বুতিনা আদতে সাইবেরিয়ার বাসিন্দা। ছাত্র ভিসা নিয়ে তিনি আমেরিকান বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন। আমেরিকায় আসার আগেই তিনি ‘রাইট টু বিয়ার আর্মস’ নামে একটি সংস্থা তৈরি করেন। সংবাদমাধ্যম দাবি করেছিল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে শক্তিশালী অস্ত্র লবি ন্যাশনাল রাইফেল অ্যাসোসিয়েশনের (এনআরএ) সঙ্গে তাঁর যোগসাজশ রয়েছে। ২০১৪ সাল থেকে এনআরএ-এর অনুষ্ঠানগুলিতে দেখা যেত বুতিনাকে। ট্রাম্পের নির্বাচনী প্রচার সভাতেও তাঁকে দেখা গিয়েছে। এমনকী তিনি নাকি ট্রাম্পকে রাশিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে প্রশ্নও করেছিলেন। ওয়াশিংটন পোস্টের খবর, সেই প্রশ্নের উত্তরে ট্রাম্প জানিয়েছিলেন, ‘আমরা পুতিনকে নিয়ে চলব।’

মস্কো সফরে গিয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্প ২০১৬ সালে মার্কিন প্রেসিডেন্সিয়াল নির্বাচনে রাশিয়ার যোগ নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেন। সেই সময়েই রাশিয়ার ১২ জন গোয়েন্দাকর্তার বিরুদ্ধে ডেমোক্র্যাট দলের তথ্য পাচার নিয়ে নথি প্রকাশ করে মার্কিন জাস্টিস ডিপার্টমেন্ট। সে সময়েই বুতিনার নাম সামনে আসে। আদালতে হলফনামা দিয়ে মার্কিন জাস্টিস ডিপার্টমেন্ট জানিয়েছে, বুতিনা মার্কিন রাজনীতিবিদ এবং বন্দুকের অধিকার নিয়ে সরব সংগঠনগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ রাখতেন। তবে কারও নাম ওই হলফনামায় জানানো হয়নি।

অপরদিকে এফবিআইয়ের স্পেশাল এজেন্ট কেভিন হেলসন জানিয়েছেন, রুশ সরকারের হয়ে ‘ব্যাক চ্যানেল’ যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তুলেছিলেন বুতিনা। এক রুশ আধিকারিকের সঙ্গে ট্যুইট চালাচালিও ওই হলফনামায় যোগ করা হয়েছে।