ব্রি ৪৮ ধানের বাম্পার ফলনে খুশি সাটুরিয়ার কৃষকেরা

0
242

নিজস্ব প্রতিবেদক, মানিকগঞ্জ ঃ প্রথমবারের মতো মানিকগঞ্জের সাটুরিয়ার বিভিন্ন এলাকায় উচ্চফলনশীল নতুন জাতের ব্রি ধান-৪৮ (আউশ ধান) চাষ করে বাম্পার ফলন পেয়েছেন কৃষকেরা। তারা জানিয়েছেন প্রতি বছর স্থানীয় জাতের ধান চাষ করে যে ফলন পেতেন এ বছর নতুন জাতের ব্রি ধান-৪৮ চাষ করে তার চেয়ে তিনগুণ বেশি ফলন পেয়েছেন। কৃষি বিভাগ জানিয়েছে নতুন জাতের ধান চাষে আগ্রহ বাড়ছে এলাকার কৃষকদের।

সাটুরিয়া উপজেলা কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, সাটুরিয়া উপজেলার নদী বেষ্টিত বরাইদ ইউনিয়নের বরাইদ এলাকায় কৃষকরা আউশ মওসুমে স্থানীয় বিভিন্ন প্রজাতির ধান আবাদ করে থাকে। এ বছর আউশ মওসুমে সাটুরিয়া উপজেলা কৃষি বিভাগের পরামর্শে প্রদর্শনী হিসেবে স্থানীয় ৩২ জন কৃষকে প্রদর্শনী হিসেবে এবং প্রণোদনা হিসেবে ২০০ জন কৃষক বীজ ও সার পেয়েছেন। প্রায় এক হাজার কৃষক উচ্চফলনশীল ব্রি ধান-৪৮ (আউশ ধান) চাষ করেছেন।


কৃষাণী ঝিলিমন বেগম আলী বলেন, স্থানীয় জাতের প্রজাতির ধান আবাদ করে থাকি যা থেকে প্রতি শতক জমিতে আট থেকে ১০ কেজির বেশি ফলন হয় না। এ বছর উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদ আমাদের নতুন উচ্চফলনশীল ব্রি ধান-৪৮ চাষ করার পরামর্শ ও প্রশিক্ষণ দেন। ধান রোপণের প্রথম থেকেই কৃষি কর্মকর্তারা বিভিন্ন সময়ে মাঠ পরিদর্শন করে পোকামাকড় দমনে পরামর্শ দিয়েছেন। এই নতুন জাতের ব্রি ধান-৪৮ চাষ করে আমরা প্রতি শতাংশ জমিতে ২০ থেকে ২৫ কেজি ফলন পেয়েছি।

উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদ জানান, এনএটিপি-২ প্রকল্পের আওতায় কৃষকদেরকে প্রদর্শনীর জন্য বীজ ও সার সরবরাহ করা হয়েছে। গত সপ্তাহ থেকে প্রদর্শনী স্পট গুলোতে ধান কাটা শুরু হয়েছে। আবহাওয়া অনুকুলে থাকা, এ জাতের ধানের জীবনকাল কম হওয়ায় এবং পোকামাকড় দমনে কৃষি বিভাগের পরামর্শে প্রতি শতক জমিতে ২০ থেকে ২৫ কেজি পর্যন্ত ফলন হয়েছে যা অন্যান্য বছরের তুলনায় তিনগুণ বেশি। এতে ব্রি ধান-৪৮ চাষে এলাকার কৃষকদের আগ্রহ বৃদ্ধি পেয়েছে। অনেক কৃষক আগাম বীজ নেয়ার আগ্রহ দেখাচ্ছেন।


কৃষক সেলিম হেসেন ও শবদুল মিয়া বলেন, সাটুরিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ এমদাদুল হক এলাকার কৃষকদের সাথে মতবিনিময় সভা করে ধান চাষ করার জন্য আমাদের উদ্বুদ্ধ করেন। তারই ফলে এবার আমরা বেশি ফলন পেয়েছি। সামনের বছর এ জাতের আউশ ধান আরো বেশি আবাদ করব। অনেক কৃষক আমাদের কাছ থেকে এ ধানের বীজ নেয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা এমদাদুল হক বলেন, সাটুরিয়া এলাকায় কৃষকরা স্থানীয় আউশ ধানের আবাদ করতেন। এ বছর আমরা কৃষকদের সাথে মতবিনিময় সভা করে উচ্চফলনশীল নতুন ব্রি ধান-৪৮ আবাদ করার পরামর্শ দেই এবং প্রদর্শণীর হিসেবে ৩২ জন কৃষককে বীজ সরবরাহ করি। এছাড়া ২শত কৃষককে প্রণোদনা হিসেবে বীজ ও সার দেয়া হয়েছে।

কৃষকরা আমাদের পরামর্শে ওই প্রজাতির ধান চাষ করে প্রচুর ফলন পেয়েছেন। তুলনামূলক খরচ কম হওয়া এবং ফলন বেশি পাওয়ায় এলাকার কৃষকদের মাঝে এ প্রজাতির ধান চাষে আগ্রহ বেড়েছে। তাদের ফলন দেখে এলাকার অন্যান্য কৃষক বীজ পাওয়ার জন্য আগ্রহ দেখাচ্ছেন। আগামী বছর প্রায় ৫০০ হেক্টর জমিতে এ ধানের আবাদ হবে বলে আমরা আশা করছি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here