এখনো ফুটবল জ্বর রোহিঙ্গা শিবিরে

0
65

রাশিয়া বিশ্বকাপ শেষ হয়েছে। কিন্তু ধুন্ধুমার আয়োজনের রেশ কি এত সহজে যায়? তাছাড়া ফুটবল এমন খেলা যার আবেদন গোটা বছরই ছড়িয়ে থাকে।

মিয়ানমার থেকে প্রাণ বাঁচিয়ে বাংলাদেশে পালিয়ে আসার পর প্রথম বিশ্বকাপের উত্তেজনা ছুঁয়ে গেছে তাদেরও। ফাইনালের পর এই শিবিরের বিশেষ করে কচি প্রাণগুলোতে এখনও ঝিমুনি আসেনি।

বিশ্বকাপের নকল হিসেবে ছোট একটি কাপ ঘিরে ব্যাপক চঞ্চলতা। এটি নিয়েই চলে উদযাপন। ময়লা শিবিরের বিধ্বস্ত জীবন এখনও এই কাচে মোড়া স্বর্ণালী কাপে বিনোদন খুঁজে নেয়। খুদে ভক্তরা এটা নিয়ে এখানে-সেখানে দৌড়ে বেড়াচ্ছে।

মোহাম্মাদ রেজার বয়স মাত্র ছয়। বললো, ‘আমার পছন্দের দল আর্জেন্টিনা। ফাইনাল খেলা দেখেছি। ক্রোয়েশিয়া আর ফ্রান্স খেলেছে এবং ফ্রান্স জিতেছে’। প্রিয় মেসির নীল-সাদা জার্সিটা গায়ে চাপিয়েছে সে।

পাঁচ বছরের ছোট্ট নুরুল আফসার নকল কাপটি এক ঝলক দেখতে উঁকিঝুঁকি দিচ্ছিল। সে বললো, ‘আমার প্রিয় খেলোয়াড় নেইমার’। রাবারের ফুটবল নিয়ে লাজুক ঢংয়ে কথা বলছিল নুরুল।

ফাইনাল দেখার জন্যে একটা টেলিভিশন ছিল শিবিরে। ওটার সামনেই ভীড় করেছিল সবাই। ময়লা তার্পুলিনের ওপাশের একটা ফাঁকা জায়গা দেখিয়ে বললো ১৮ বছরের নুরুল আবসার। দুপুরে সেখানে খেলারও আয়োজন হয়। বর্ষার মেঘের ডাক উপেক্ষা করে খালি পায়ে ওই মাঠে জড়ো হয় তারা। মাঠের কাদা ঠেলে গোলে দেয়াই একমাত্র লক্ষ্য।

কুতুপালং ক্যাম্পে স্প্যানিশ পতাকা কিংবা কোনো ইউরোপীয়ান ক্লাবের জার্সি চোখে পড়লেও সবাই মূলত দুই দলে বিভক্ত- ব্রাজিল আর আর্জেন্টিনা। গোটা বাংলাদেশের চিত্রটাও অনেকটা এমনই।

১৭ বছরের জাহাঙ্গীর আলম নেইমারের মতো চুলের কেটেছে। ‘আমি নেইমারকে দারুণ পছন্দ করি। তাই তার মতো করে চুল কেটেছি’, পরিষ্কার কথা তার। ব্রাজিলের জার্সি পরে ফুটবল নিয়ে নানা কসরত করতে দেখা যায় তাকে।
সূত্র: উইওন

#বাংলাটপনিউজ/আরিফ